পদমর্যাদা : কেন গুরুত্বপূর্ণ? কিভাবে অর্জন ও রক্ষা করবেন?

 

 

 

 

 

মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি, নিউ জার্সি, আমেরিকা থেকেঃঃ কল্পনা করুন, আপনি কোনো মিটিং কিংবা কোনো নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে উপস্থিত হয়েছেন যেখানে আপনি কাউকে চেনেন না। তবে কিভাবে বুঝবেন উক্ত সভায় পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিটি কে? খুব সাধারণ একটি নিরীক্ষার মাধ্যমে এটি আপনি বুঝতে পারেন। যিনি একটি অসাড় জোক বললেও সবাই তাতে হেসে ওঠে আপনি তাকেই খুঁজছেন।

সাধারণত আমরা ভাবি যে পদমর্যাদা একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনাকে সুখকর অনুভূতি দেয়, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যয় হ্রাস করে এবং অনেক সুযোগ-সুবিধা অর্জনের পথ সুগম করে।

কিন্তু পদমর্যাদা হলো আপনার বিশাল বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি এবং আপনার পরিধেয় ইটালিয়ান স্যুটের চাইতেও বেশি কিছু। এটি একটি সামাজিক মর্যাদা যা কেবলমাত্র ব্যক্তির ইচ্ছায় নয় বরং আপনার চারপাশের সকলের আচরণের সম্মিলনেই পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনার কর্ম এবং আচরণের কারণেই আপনার সমাজ এবং অফিসের সহকর্মীরা আপনাকে আলাদা মর্যদা দেয়। আপনার কর্ম এবং আচরণই এই পার্থক্য তৈরি করে।

জার্মান বিজনেস স্কুলের প্রফেসর ম্যাথু এস বোথনার এর মতে, “পদমর্যাদা হলো এমন একটা বিষয় যা আপনি দ্রুতই তার মাঝে খুঁজে পাবেন যিনি অন্যদের কাছে সম্মানিত এবং যার সান্নিধ্যে সবাই নিজেদের সম্মানিত বোধ করে। অন্যভাবে বলতে গেলে আপনি কারও সান্নিধ্যে সম্মানিত বোধ করবেন, যখন তিনি নিজে সম্মানিত ব্যক্তি।”

ব্যক্তিত্ববান হতে হলে আপনার ভিতর যেসব পজিটিভ গুণাবলী থাকতে হবে সে বিষয়ে প্রফেসর ম্যাথু এস. বোথনার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি স্টিভ জবস এবং জন স্কুলির উদাহারণ দিয়েছেন। পেপসি অ্যান্ড কোং এ জন স্কুলি কে প্রশ্ন করা হলো “আপনি কি চিনির শরবত বিক্রি করে আপনার সমস্ত জীবন পার করবেন নাকি বিশ্বকে নতুন কিছু দেওয়ার একটি সুযোগ গ্রহণ করবেন?” স্কুলি তখন টেক জায়ান্ট অ্যাপলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। মধুচন্দ্রিমার পরবর্তী সময়ে ব্লুমবার্গ তাদের ‘প্রগতিশীল জুটি’ হিসাবে আখ্যা দেয় যা শেষ পর্যন্ত জবসের চাকরিচ্যুতির জন্য দায়ী।

তাই নেতৃত্বে থেকে সতর্কতার সাথে পদমর্যাদা রক্ষা করতে হবে। বোথনার পদমর্যাদার অনুকরণের বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন বোর্ডরুমে কিভাবে এটি নিঃশেষিত হতে পারে। “যখন দুজন ব্যক্তি তাদের মাঝে কার পদমর্যাদা বেশি সে বিষয়ে নিশ্চিত না থাকে এবং অন্যের সাথে নিজের পার্থক্য খুঁজে না পায় তখন তাদের সম্পর্কের তীব্রতা বাড়ে, কটূ বাক্য বিনিময়, হাতাহাতিসহ অনেক কিছু হতে পারে যার পরিণতি শুভ হয়না।”

যদিও ডব্লিউএসজে চলতি বছরে বোর্ডরুমবিষয়ক প্রতিবেদনে বলেছে, আক্রমণাত্মক মনোভাবের অন্তর্নিহিত কারণ ব্যক্তির সংবেদনশীলতা, এবং বাস্তব সামাজিক অবস্থা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে।

পদমর্যাদা রক্ষায় সতর্ক হোন

কিভাবে আপনি প্রসন্নতা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করবেন : প্রফেসর বোথনার এবং নেড স্মিথের নর্থ ওয়েস্টার্ন কেলগ এবং কোরিয়া ইউনিভার্সিটির ওপর ‘স্ট্যাটাস অ্যান্ড পারফর্মেন্স’ শিরোনামে একটি গবেষণায় বলেছেন পদমর্যাদার একটি অন্ধকার দিক আছে। গলফ এবং কার রেসারদের পারফর্মেন্স নিয়ে গবেষণা করে তারা বুঝতে সক্ষম হন উচ্চ মর্যাদাবোধ গলফারদের পারফর্মেন্স নষ্ট করে এবং রেসারদের গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়! এই গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে উচ্চ পদমর্যাদা মানুষকে আয়েশী এবং অহঙ্কারী করে এবং সে চাইলে তার মানবতাও হারিয়ে যায়। বোথনার যুক্তি দেখান যে কোনো মানুষ যদি তার পদমর্যাদার পজিটিভ এবং সঠিক ব্যবহার করে তবে সে দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা অলস হবে না। তাদের কোনোভাবেই সেইসব মানুষ দ্বারা ডাইভার্ট হওয়া উচিত নয় যারা পদমর্যাদায় সামান্য।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে ম্যাথু বোথনার এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর পরামর্শ দেন। যারা নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যুক্ত হতে চান তাদেরকে নিজেদের পদমর্যাদার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং নিজেকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন আপনি যা গ্রহণ করছেন তার চাইতে বেশি প্রদান করুন। “যদি আমি আপনাকে কিছু দেই তবে আপনি অবশ্যই আমাকে সাড়া দেবেন এবং এটাই মানুষের মর্যাদা।” বিষয়টিকে তিনি এইভাবে ব্যাখ্যা করেন, “নেটওয়ার্কিং এর ব্যর্থতার দিকটি হলো এর বাইরে চলে যাওয়া এবং তারপর উত্তরণের চেষ্টা করা। যদি আপনি আরও বিশুদ্ধ উপায়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করেন তবে সেটা সর্বদাই সকল স্থানে আপনাকে মূল্যবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আপনি সাধারণ কিছু নেটওয়ার্কিং কৌশলের দ্বারা নিজের খ্যাতি এবং মর্যাদা দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারবেন।”

কল্পনা করুন, আপনি কোনো মিটিং কিংবা কোনো নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে উপস্থিত হয়েছেন যেখানে আপনি কাউকে চেনেন না। তবে কিভাবে বুঝবেন উক্ত সভায় পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিটি কে? খুব সাধারণ একটি নিরীক্ষার মাধ্যমে এটি আপনি বুঝতে পারেন। যিনি একটি অসাড় জোক বললেও সবাই তাতে হেসে ওঠে আপনি তাকেই খুঁজছেন।

সাধারণত আমরা ভাবি যে পদমর্যাদা একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আপনাকে সুখকর অনুভূতি দেয়, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যয় হ্রাস করে এবং অনেক সুযোগ-সুবিধা অর্জনের পথ সুগম করে। কিন্তু পদমর্যাদা হলো আপনার বিশাল বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি এবং আপনার পরিধেয় ইটালিয়ান স্যুটের চাইতেও বেশি কিছু। এটি একটি সামাজিক মর্যাদা যা কেবলমাত্র ব্যক্তির ইচ্ছায় নয় বরং আপনার চারপাশের সকলের আচরণের সম্মিলনেই পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনার কর্ম এবং আচরণের কারণেই আপনার সমাজ এবং অফিসের সহকর্মীরা আপনাকে আলাদা মর্যদা দেয়। আপনার কর্ম এবং আচরণই এই পার্থক্য তৈরি করে।

জার্মান বিজনেস স্কুলের প্রফেসর ম্যাথু এস বোথনার এর মতে, “পদমর্যাদা হলো এমন একটা বিষয় যা আপনি দ্রুতই তার মাঝে খুঁজে পাবেন যিনি অন্যদের কাছে সম্মানিত এবং যার সান্নিধ্যে সবাই নিজেদের সম্মানিত বোধ করে। অন্যভাবে বলতে গেলে আপনি কারও সান্নিধ্যে সম্মানিত বোধ করবেন, যখন তিনি নিজে সম্মানিত ব্যক্তি।”

ব্যক্তিত্ববান হতে হলে আপনার ভিতর যেসব পজিটিভ গুণাবলী থাকতে হবে সে বিষয়ে প্রফেসর ম্যাথু এস. বোথনার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি স্টিভ জবস এবং জন স্কুলির উদাহারণ দিয়েছেন। পেপসি অ্যান্ড কোং এ জন স্কুলি কে প্রশ্ন করা হলো “আপনি কি চিনির শরবত বিক্রি করে আপনার সমস্ত জীবন পার করবেন নাকি বিশ্বকে নতুন কিছু দেওয়ার একটি সুযোগ গ্রহণ করবেন?” স্কুলি তখন টেক জায়ান্ট অ্যাপলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। মধুচন্দ্রিমার পরবর্তী সময়ে ব্লুমবার্গ তাদের ‘প্রগতিশীল জুটি’ হিসাবে আখ্যা দেয় যা শেষ পর্যন্ত জবসের চাকরিচ্যুতির জন্য দায়ী।

তাই নেতৃত্বে থেকে সতর্কতার সাথে পদমর্যাদা রক্ষা করতে হবে। বোথনার পদমর্যাদার অনুকরণের বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন বোর্ডরুমে কিভাবে এটি নিঃশেষিত হতে পারে। “যখন দুজন ব্যক্তি তাদের মাঝে কার পদমর্যাদা বেশি সে বিষয়ে নিশ্চিত না থাকে এবং অন্যের সাথে নিজের পার্থক্য খুঁজে না পায় তখন তাদের সম্পর্কের তীব্রতা বাড়ে, কটূ বাক্য বিনিময়, হাতাহাতিসহ অনেক কিছু হতে পারে যার পরিণতি শুভ হয়না।”

যদিও ডব্লিউএসজে চলতি বছরে বোর্ডরুমবিষয়ক প্রতিবেদনে বলেছে, আক্রমণাত্মক মনোভাবের অন্তর্নিহিত কারণ ব্যক্তির সংবেদনশীলতা, এবং বাস্তব সামাজিক অবস্থা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে।

পদমর্যাদা রক্ষায় সতর্ক হোন

কিভাবে আপনি প্রসন্নতা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করবেন : প্রফেসর বোথনার এবং নেড স্মিথের নর্থ ওয়েস্টার্ন কেলগ এবং কোরিয়া ইউনিভার্সিটির ওপর ‘স্ট্যাটাস অ্যান্ড পারফর্মেন্স’ শিরোনামে একটি গবেষণায় বলেছেন পদমর্যাদার একটি অন্ধকার দিক আছে। গলফ এবং কার রেসারদের পারফর্মেন্স নিয়ে গবেষণা করে তারা বুঝতে সক্ষম হন উচ্চ মর্যাদাবোধ গলফারদের পারফর্মেন্স নষ্ট করে এবং রেসারদের গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়! এই গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে উচ্চ পদমর্যাদা মানুষকে আয়েশী এবং অহঙ্কারী করে এবং সে চাইলে তার মানবতাও হারিয়ে যায়। বোথনার যুক্তি দেখান যে কোনো মানুষ যদি তার পদমর্যাদার পজিটিভ এবং সঠিক ব্যবহার করে তবে সে দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা অলস হবে না। তাদের কোনোভাবেই সেইসব মানুষ দ্বারা ডাইভার্ট হওয়া উচিত নয় যারা পদমর্যাদায় সামান্য।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে ম্যাথু বোথনার এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর পরামর্শ দেন। যারা নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যুক্ত হতে চান তাদেরকে নিজেদের পদমর্যাদার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং নিজেকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন আপনি যা গ্রহণ করছেন তার চাইতে বেশি প্রদান করুন। “যদি আমি আপনাকে কিছু দেই তবে আপনি অবশ্যই আমাকে সাড়া দেবেন এবং এটাই মানুষের মর্যাদা।” বিষয়টিকে তিনি এইভাবে ব্যাখ্যা করেন, “নেটওয়ার্কিং এর ব্যর্থতার দিকটি হলো এর বাইরে চলে যাওয়া এবং তারপর উত্তরণের চেষ্টা করা। যদি আপনি আরও বিশুদ্ধ উপায়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করেন তবে সেটা সর্বদাই সকল স্থানে আপনাকে মূল্যবান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আপনি সাধারণ কিছু নেটওয়ার্কিং কৌশলের দ্বারা নিজের খ্যাতি এবং মর্যাদা দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারবেন।##

Categories: টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,প্রবাসের খবর,লাইফস্টাইল