ভোলার অংহকার বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাএদলের সফল সভাপতি সাহাবুদ্দিন লাল্টু আজ কোথায় আছে তা জানতে চায় ভোলাবাসী?

ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন, ভোলা প্রতিনিধিভালা:: জেলার সদর থানার ধনিয়া ইউনিয়নের একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসেন সাহাবুদ্দিন লাল্টু। ১৯৮২ সালে ভোলা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী এবং ১৯৮৫ সালে ভোলা সরকারী কলেজে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। জিয়াউর রহমানের সাথে ভোলার কালিকীর্তি ও বাপ্তায় খালও কাটেন ঐ সময়ে। ১৯৯২ সালের রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আর ইলিয়াস আলীর কমিটিতে সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান করে নেন।

এরপরে ফজলুল হক মিলন ও নাজিমউদ্দিন আলমের কমিটিতে ও সাধারণ সদস্য হিসেবে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি বিরোধী দলে এলে মিলন-আলম কমিটি ভেঙ্গে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এ সময়ে লাল্টুসহ ঢাবি এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় পাড়া মহল্লার কাউকে শীর্ষ দুটি পদের কোনটিতেই না এনে এ্যানি-সোহেলের মত মেধাবী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের আনার দাবি তোলেন। তবে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের পছন্দের তালিকায় ছিলেন নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু। শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে এ্যানী-সোহেল কমিটি ঘোষণা করা হলে লাল্টুর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই একান্ত সচিব। সেখান থেকেই মূলত লাল্টুর রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা শুরু।

আর এ কারণেই ১৯৯৭ সালে পিন্টু গ্রুপের নিয়ন্ত্রাধীন বহিরাগতরা মধুর ক্যান্টিনের সামনে লাল্টুকে একা পেয়ে আক্রমণ করে পিন্টুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত আসাদ, নিউটন, স্বাধীন, মুরাদ সহ সংগঠনেরই আরো কয়েকজন। কিন্তু দলের পক্ষ থেকে কোন বিচার করা হয়নি ওই ঘটনার। সাহাবুদ্দিন লাল্টু ওই সময়ের এ্যানী-সোহেল কমিটির ১ম যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। সোহেল কারাগারে থাকাকালীন তিনি ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালের হাবিবুর নবী খান সোহেল আর নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর কমিটিতে ও তিনি ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।

কিন্তু রাজনৈতিক দাবাচালের অস্থিরতায় ১৯৯৯ সালে বহিষ্কারের তালিকায় পড়ে যান। ৩/৪ মাসের মতো বহিষ্কারাদেশ থাকলে ও তিনি রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। যার কারণে ২০০০ সালে নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে সভাপতি করে ও সাহাবুদ্দিন লাল্টুকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ছাত্রদলের পিন্টু-লাল্টু কমিটি চলাকালীন সময় লাল্টু আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এ সময় কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার অসুস্থতা লিম্ফোমা নামের ক্যান্সারে রূপ নেয়। কারাগার থেকে বের হয়েও চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারেননি ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনের কারণে। নির্বাচনের জয়লাভের জন্য সারাদেশে কাজ করতে হয়েছে ওই সময়ে। অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে ছাত্রদল সভাপতি পিন্টু জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচন পরবর্তী তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুর চিকিৎসার জন্য পাঠান তারেক রহমান। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে ছাত্রদলের আভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছালে লাল্টুকে ছাত্রদলের আহবায়কের দায়িত্ব দিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে পাঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরিবেশ তৈরি করে তৎকালীন সরকার।

২০০২ সালের ১ জানুয়ারী সাহাবুদ্দিন লাল্টুকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি আর আজিজুল বারি হেলালকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। আগে কিংবা বর্তমানে ছাত্রদল কমিটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্থক্ষেপ স্বাভাবিক নিয়ম হলেও তার সময়ে তা অচিন্তনীয় ছিলো। এ জন্যই তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক নেতার রোষানলে পড়েন। তার এই রোষানল থেকে আর মুক্ত হতে পারেন নি লাল্টু। যার কারণে ২০০৫ সালে ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে নতুন নেতৃত্বের কাছে কমিটি হস্থান্তর করলেন সাহাবুদ্দিন লাল্টু তাকে বিএনপির মূল রাজনীতিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি কেন?

এ বিষয়ে লাল্টুর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা জানান, লাল্টুর ধারণা ছিলো ছাত্র সংগঠন থেকে বিদায় নেয়ার পর মূলদল তাকে যোগ্যতা অনুযায়ী কোথাও কাজে লাগাবে। তিনি ২০১২ সালে দেশ ছেড়ে যাবার আগে ছাত্রদল থেকে বিদায়ের পরবর্তী ৮ বছরে বেশ কয়েকবার বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে যেখানেই হোক কোন এক জায়গায় কাজে লাগানোর জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু শুধুমাত্র আশ্বস্থ করা ছাড়া কোনো মূল্যায়ন আর তাকে করা হয়নি বাংলাদেশের ছাএদলের সফল সভাপতি সাহাবুদ্দিন লাল্টুকে। দলের রাজনীতি থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রাখা হলেও ওয়ান ইলেভেনে বিএনপির দুঃসময়ে সরব হয়ে ওঠেন লাল্টু। তারেক রহমানকে আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় করার জন্য একটি সংগঠনও তৈরী করেছিলেন তিনি। কিন্তু এই রাজনীতিতে সেবার ও বেশিদিন টিকতে পারেননি। অবশেষে নিজের ব্যবসার জন্যই সুদূর কানাডা প্রবাসী হয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন সকল প্রকার রাজনীতি থেকে।

সাহাবুদ্দিন লাল্টু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক দাপুটে সভাপতি। এখন বিএনপির কোথাও নেই। রাগ-ক্ষোভ-দুঃখ আর অভিমানে রাজনীতি থেকেই দূরে সরে আছেন। ২০০৮ সাল থেকে কানাডা প্রবাসী হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন একসময়ের তার রাজনৈতিক সতীর্থদের কাছ থেকে। এরপরও বিএনপির রাজনীতি থেকে আলাদা হতে পারেননি। নিজের স্বভাবসুলভভাবেই দলের ভালো-মন্দ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন প্রায়শই। এতে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার ঝড়ও ওঠে। কিন্তু তিনি যেন দলের মোসাহেবী প্রবণতার রাজনীতিকে মানতেই পারছেন না। তার এই প্রতিবাদী আচরণের কারণে প্রতিদিনই কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন একসময়ে তার অনুসারীরা। এমন অভিযোগও শোনা যায় তাদের কাছ থেকে।##