বাগেরহাটের সুন্দরবনে আবারও বন্দুকযুদ্ধ তিন বনদস্যু নিহত, অস্ত্র গুলি উদ্ধার

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ বাগেরহাটের পুর্ব-সুন্দরবনে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩ বনদস্যু নিহত হয়েছে। নিহত’রা বন ও জলদস্যু প্রধান সুমন বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য বলে র‌্যাব দাবি করেছে। ঘটনাস্থল থেকে এ সময় বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। বৃহষ্পতিবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সুখপাড়ার চর এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

তবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় র‌্যাবসদস্য তাৎক্ষনিক জানাতে পারেনি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একনলা বন্দুক ২টি, কাটা রাইফেল একটি, পাইপগান একটি ও বিভিন্ন ধরনের বন্দুকের ৩৯ রাউন্ড গুলি। বরিশাল র‌্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সোহেল রানা প্রিন্স সাংবাদিকদের বলেন, জলদস্যু বাহিনী প্রধান সুমন তার সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সুখপাড়ারচর এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল ওই এলাকায় অভিযানে যায়।

এসময় সুমন বাহিনীর সদস্যরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাব টহল দলের উপর গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ৪০ মিনিট বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে বনদস্যুরা পিছু হটে বনের গহীনে চলে যায়। পরে র‌্যাব সদস্যরা সেখানে তল্লাসি চালিয়ে ৩ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার ও বেশকিছু অস্ত্র গুলি উদ্ধার করে। সকাল ৮টা ৪০ মিনিট থেকে ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলে। গোলাগুলি থেমে গেলে নদীখালে মাছ ধরা জেলেরা সেখানে এসে নিহত ৩ জনকে সুমন বাহিনীর সদস্য বলে সনাক্ত করেন।

জেলেরা বলেন নিহত ৩ জন হলো জাকারিয়া সরদার(৩০), খোকন মিনা(৪৩) ও জুলফিকার শেখ (৩৫)। তবে বাড়ী কোথায় তা কেহ বলতে পারে নাই। সুমন নামে এক যুবক নিজ নামে বাহিনী গড়ে তুলে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরের উপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল বলে দাবি করেন র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা। নিহতদের লাশ শরনখোলা থানা পুলিশে’র মাধ্যমে বাগেরহাট সদর হাসপতাল মর্গে প্রেরন করা হবে এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি থানায় সোপর্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।##