মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে মাছের মেলা ৫ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা

মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে মাছের মেলা ৫ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা

মো: জহিরুল ইসলাম, ষ্টাফ রিপোর্টার,মৌলভীবাজার :: পৌষ সংক্রান্তির মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর, মনুমুখ ও শ্রীমঙ্গল শহরে জমে উঠেছে বিশাল মাছের মেলা। মৌলভীবাজার শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মনু নদীর শেরপুর ব্রাহ্মণ গ্রামে মাছের মেলা জমে উঠেছে।

মৌলভীবাজারের শেরপুরে প্রায় ২শত বছর পূর্ব থেকে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ক্রেতারা চারপাশের ডালায় সাজিয়ে রেখেছে নানা জাতের মাছ, মাছের মেলায় রয়েছে হাজারো মানুষের ভিড় এখানে শুধু মাছ ক্রয় করতে সবাই আসেনি, অনেকে এসেছে মাছের মেলা দেখতে।

গত শুক্রবার রাতে শুরু হয়,শনিবার,রবিবার সন্ধ্যায় এই মেলা শেষ হবে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় ৩ দিনব্যাপী মাছের মেলা শুরু হয়। আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যায় এ মাছের মেলার সমাপ্তি হবে।

এ বছর মাছের মেলা দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করেছে প্রশাসন মাছের মেলাটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়ে ৩ দিন পর্যন্ত হচ্ছে। বাঙালির সংস্কৃতিতে বারো মাসে তেরো পার্বনের একটি পার্বন হলো পৌষ সংক্রান্তি মূলত অগ্রহায়ণের ধান কাটার পর থেকে শুরু হয় নবান্ন উৎসব।

মেলায় ৩০ কেজি, ৫৬ কেজি, ৩৫ কেজি ও ৪৫ কেজি ওজনের বাঘাইর মাছের পসরা বসানো হয়েছে। এবারে মেলা আয়োজনে ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়। পৌষ সংক্রান্তি উদযাপন করছেন হিন্দু ধর্মানুসারীরা পাশাপাশি পিঠা -পার্বনের আয়োজনে পিঠা- পুলির দাওয়াত গ্রহণ ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের লোকজন। এ যেন এক বাঙালির সার্বজনীন ঐতিহ্যভরা উৎসব। সংক্রান্তি উদযাপন করতে প্রত্যেকের মাছ কিনতেই হবে। তাছাড়া মাছ কেনায় রয়েছে প্রতিযোগিতা। অপরদিকে সংক্রান্তিকে সামনে রেখে সকল ধর্মের মানুষ এ দিনটির জন্য অপেক্ষা প্রহর গুণে। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মাছের মেলায় বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা হয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মাছের মেলাটি শুরু হলে এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। জেলার সীমানা ঘেষে ৩টি জেলাকে ঘিরে সিলেট-মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মিলনস্থল শেরপুর জনারণ্যে পরিণতি পায়। মাছের মেলা নাম হলেও ক্রমে তা লোকজ মেলায় রূপ নিয়েছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ নিতে আসা ক্রেতারা জানান দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছ পাওয়ায় তারা কিনতে আসেন এ মেলায়। যদিও এটি মাছের মেলা নামে পরিচিত তথাপি মাছ ছাড়াও ফার্নিচার, গৃহস্থালী সামগ্রী সহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের দোকান স্থান পায়। মেলায় মাছের মূল্য ৫ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার টাকা মূলের মাছ উঠেছে।

সিলেটের কুশিয়ারা নদী, সুরমা নদী, মনু নদী, হাকালুকি হাওর,কাওয়াদিঘি হাওর, হাইল হাওরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা রুই, কাতলা, বোয়ালসহ বড় আকৃতির মাছ নিয়ে আসেন এ মেলায়।

এদিকে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে শ্রীমঙ্গলের মাছ বাজারে ২দিন ব্যাপী শুরু হয়েছে মাছের মেলা। মাছের এই মেলা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার বিকেলে। মাছের মেলা শেষ হবে আজ রবিার বিকেলে।

আজ শনিবার জমে উঠেছিল মাছের মেলা।পুরো বাজার জুড়ে মানুষের ভীড়ের মূল আর্কষন বড় বড় মাছ। রুই, কাতলা, ব্রিগেট, সিলভার কার্প, বোয়াল, বাঘাইড়, চিতল, আইড় মাছসহ বিশাল আকৃতির মাছ সাজিয়ে রাখছেন বিক্রেতারা। মাছের মেলার ভিড়ে যে মাছটি সবার নজরে আসছে সেটি হচ্ছে ৩০ কেজি ওজনের বাঘা মাছ।

মাছ বিক্রেতা ছামুল মিয়া জানান, বাঘা মাছটি হবিগঞ্জের খোয়াই নদী থেকে ধরা হয়েছে। এর মূল্য ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। দুপুর ১টা পর্যন্ত মাছ টি দেখে ক্রেতারা ২৫ হাজার টাকা দাম হাঁকেন। আরো বেশি দামের আশায় মাছটি এখনো বিক্রি হয়নি। ভাল ক্রেতা পেলে মাছটি বিক্রি করা হবে।

শ্রীমঙ্গল মাছ বাজার কমিটির সভাপতি মো.মজনু মিয়া জানান, মেলা উপলক্ষে এখানে যে মাছ গুলো বিক্রির জন্য আনা হয়েছে তা সারাবছর বাজারে চোখে পড়ে না। গত বছরের তুলনায় এবারের মাছের মেলায় মাছ একটু কম ।

মাছ বিক্রেতারা জানান হাওর ও নদীতে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা মাছ সাধারণত নিয়ে আসেন তারা। মেলা উপলক্ষে মাছের চাহিদা কয়েকগুন বেড়ে যায়। আর এই সময়ে মাছের সংগ্রহ কমে যাওয়ায় মূল্য কিছুটা বেড়ে যায়। পুরো জেলায় মেলা উপলক্ষে হিসেবে জেলা পুলিশ নিয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

Categories: টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,ব্যবসা ও অর্থনীতি,মতামত বিশ্লেষণ,সারা দেশ,সিলেট