প্রখ্যাত কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের প্রেম নির্ভর সাক্ষাৎকার *** হাত এগিয়ে দিলেই প্রেম পাওয়া যায়না , একে পেতে হলে পার্থণা করতে হয়

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ প্রখ্যাত কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের প্রেম নির্ভর সাক্ষাৎকার *********
হাত এগিয়ে দিলেই প্রেম পাওয়া যায়না , একে পেতে হলে পার্থণা করতে হয়
*******************
¤ বিদ্যুৎ ভৌমিক ¤
********************
সব শব্দ ঘুমিয়ে পড়ার পর, — নিঃশব্দরা ঘুমন্ত – ঘুমে জেগে ওঠে !
এই অমোঘ নিঃসঙ্গ নিঃশব্দ শিশির ভেজা চোখের পাতায় ভীষণ
ভাবে অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ওঠে, যখন প্রেম এসে তাকে এক সমুদ্র
ছোঁয়া দিয়ে যায় ! আমি আমার প্রেমকে অহর্নিশ এভাবেই চলতে
দেখি,
এই প্রেম জীবনধর্মী চেতনায় প্রাণিত শক্তি সঞ্চার করে !
কিছু একটা পুড়ে ছাই হবার পর সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন —
ভালোবাসা , যা কিনা আমাকে নিয়ে সমস্ত সময় আদ্যোপান্ত ভাবে খেলা করে ! জীবন বোধের গোপন সূত্রই হলো প্রেম , এই বোধই – – কোনো কিছু সৃষ্টির জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে । এরই প্রত্যন্তে ডুবে যায় অপ্রমেয় ভালোবাসা, যাকে আমি অতি আদরের সাথে মনে –
মনে ভালোবাসি, আমি ৩০ /৩৫ বছর ধরে নিয়মিত ভাবে
একমাত্র কবিতাকেই উপজীব্য করে লেখে আসছি, এবং এই যে
কবিতারাই কিন্তু আমাকে পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ।
সত্যি ব’লতে কি, আমি এবং আমার প্রেম নিয়ে কিছু ব’লতে গেলে
মনের মধ্যে এক হাজার সেতার বেজে ওঠে ! আমি ফাল্গুন – টাল্গুন
বুঝিনা, শুধু বুজি হঠাৎ একটা মিষ্টি বাতাসের ছোঁয়া, যা এই মনে
হঠাৎ করেই প্লাবন আনতে পারে । কবিতা লিখি প্রেম বুঝবো না,
এটাকি হতে পারে , বলুন ? তবে আমার কবিতার চরিত্র নবনীতা
নামক নারীকে নিয়ে আমাকে জড়িয়ে নানান মুখরোচক গালগল্প
কোথাও না কোথাও হয়ে থাকে ! আমি একটা কথা এখানে বলতে
পারি, কোনো কিছুর সৃষ্টির পেছনে নারীর ১০০ % হাত থেকে যায় । আদী প্রকৃতির মধ্যেও সেই নারী, এবং এই নারী ছাড়া সব কিছুই
ভারসাম্যহীন বলা যেতে পারে ।
আমার অনেক অনেক এবং প্রচুর পরিমাণে নারী পাঠিকা আছেন,
তাঁরা আমাকে নিয়মিত আমাকে আমার কবিতা নিয়ে নানান কথা
ও আলোচনা করেন । বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন আমি কবিতা বলতে
যাই অনেক সুন্দরী মহিলা এগিয়ে এসে আমার অটোগ্রাফ নিতে —
আসেন । এটাও একটা প্রেম, যা প্রমাণ করা যায় না ! ছুঁয়ে দেখা
যায় না ! শুধু অনুধাবন করা যায়, প্রেম কোনো কাগজের —
নৌকো নয় যে রূপ সাগরের জলে ভাসিয়ে দেওয়া যায় ! প্রেম ও
ভালোবাসা এমনই এক বস্তু , যা নির্বাচনে বারেবারে ভুল করে ! —
আবার আমি এটাও বিশ্বাস করি, এই প্রেম সমস্ত ধর্মকে তার কর্মে
ও অদৃশ্য এক শক্তি দ্বারা এক জায়গায় এনে দাঁড় করাতে পারে !
বাস স্ট্যান্ডে নীল রুমাল উড়িয়ে ডাকি —
রূপা এই রূপা, কিম্বা নবনীতা, অথবা প্রিয়তমা নূপুর
কিগো সতীমাখা মুখ এদিকে এসো দেখি
ফুলের রঙে থই – থই বারমাসি আনন্দ নগর জীবন
নেবে নাকি, — কবিতার ভালোমন্দ শব্দের ধুলো – ধুলো
বিমূর্ত রাত ; হাজার স্বপ্নরেণু পাড়া জুড়ানোর নৈঃশব্দ্য
সাঁতার আমার বিছানায়,
এসো দেখি চশমার সখ্যতার নীল শাড়ি পড়ে ।

আমৃত্যু তোমাকে রাখব মনে কথা দিলাম —
ভালোবাসব বলে রাখলাম
প্রত্যঙ্গের নিপাট হৃদয় থেকে ব্যথা তুলে উপহার দেব
তোমাকে এলোমেলো, — দাঁড়াও প্রিয় নারী একটা
সিগারেট ধরাই তোমার যোনির উনুন থেকে —
গর্ভবতী তুমি কিন্তু পিছিয়ে যেওনা উপেক্ষার বহু পথ
দূরে তারার মিছিলে, শ্রান্ত কোলাহলে
সেদিন তোমার পাশে ছায়া হ’য়ে হাঁটতে হাঁটতে
খেলছিলাম আছোঁয়া আঁচড়ি – আঁচড়ি, জন্মগত
নিঃশ্বাসে – প্রশ্বাসে বাইরে গভীরে উপলব্ধির সৃজন
নিপুণতা ছিল — সেভাবেই স্বপ্নে দৌঁড়ে এসে তোমাকে
বাতাসের মতো জড়িয়ে ধরেছিলাম, এরপর অমৃত
চুম্বন দিয়ে ছিলাম দোলের সন্ধ্যায় ।
কিগো প্রিয়তমা মনে পড়ে তোমার তরুণী দেহে
কতোবার আমার স্পর্শের এক – দুই – তিন লিখেছি !!

 

( কথা না রাখার কথা – কাব্যগ্রন্থ থেকে বিদ্যুৎ ভৌমিক )
বাংলা সাহিত্যে যথার্থ প্রেমের কবিতা লেখা হয়েছিল – শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন ও বৈষ্ণব পদাবলীতে ” । যদিও তার আগে প্রকীর্ণ কবিতা,
গাঁথা সপ্তপদী, প্রকৃত পৈঙ্গল, এবং জয়দেবের গীত গোবিন্দ” কাব্যে আমরা প্রেম ও কামের যুগল মিলন দেখেছি । রবীন্দ্রনাথের
হাতে প্রেম ও প্রেমের কবিতা সমুন্নত মহিমা লাভ করল । নারীকে
তিনি অর্ধেক মানবী অর্ধেক কল্পনা ” রূপে প্রতীষ্ঠা দিলেন । এরপর
পরবর্তীকালে মোহিতলাল বা গোবিন্দচন্দ্র দাস ভোগবাদী প্রেম বা
দেহত্মাবাদী প্রেমের প্রচার করেছেন । একটা বিশেষ কথা এখানে
বলতে দ্বিধা নেই যে, কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমের সুধা ও বিষ
পান করলেও তিনি নারীকে জীবনদেবীর আসনে বসিয়েছেন ।
কবিতায় প্রেম চির বহতাময় । উত্তর আধুনিক কবির কাছেও তাই
ব্রাত্য নয় প্রেম । নির্বাচিত প্রেমের কবিতা সংকলন, প্রেমের কবিতা
নিয়ে কাব্যগ্রন্থ, প্রেম পত্র মূলক গ্রন্থ, নিবন্ধ – প্রবন্ধ ইত্যাদি ইত্যাদি
এই প্রেমকে নিয়েই হয়েই চলেছে , আমি ও আমারা যাঁরা এই
এই সময়ের কবি ও সাহিত্যিক, তাঁদের মধ্যে প্রেমও আদ্যোপান্ত
জীবন্ত হয়ে প্রকাশ হয়ে চলেছে লেখাতে ! আমি আপনাদের সাথে
৩০ /৩৫ বছর ধরে কবিতাকে সঙ্গে নিয়ে চলছি । এই একমাত্র এই
কবিতাই আমাকে অনেকটাই সন্মান এনে দিয়েছে । এটা প্রেমের
মতোই একটা বিশেষ অদেখা বিশ্বাস , যা আমাকে ভেতরে ভেতরে
আরো অনেকটাই প্রেমিক করে তুলেছে ।
চোখের কাছে অচেনা সর্বনাশ
ভেতর থেকে দৃশ্যের বিচ্ছেদ
মনের মধ্যে যন্ত্রণার অলি – গলি
নামহীন যত কান্নার নির্দেশ ।
এখন থেকে অন্তরে তুমি থাক ; কিম্বা অতলে হৃদয়
মেলে রাখ ****
এই বেলা যদি স্পর্শে ওঠো কেঁপে,
আকাশ থেকে বৃষ্টি আসুক ঝেঁপে
গভীরের সুখ সময়ের পথ ধরে
চলতে – চলতে কোন অতলান্ত ভোরে
স্বপ্নের কথা নিজেকে বলতে – বলতে
ঘুম ভেঙে যায় নিজের অজান্তে !
#
কোথায় যেন পুড়ছে অচেনা স্মৃতি
মিথ্যে – মিথ্যে বিষণ্ণ দুটি চোখ
কোথায় যেন নামহীন পৃথিবীতে
ভরে আছে যত মৃত্যুর প্রতিশোধ !
হঠাৎ যদি ফুল – পাখি – চাঁদ দেখে ;
সময়ের সাথে একা একা পথ চলি, —
কবিতার কাছে আশ্রয় খুঁজে নিয়ে
তিন প্রহরের যন্ত্রণা তাকে বলি !
এসব কথা আত্মায় ঘোরে – ফেরে ;
তবুও কেন মন বোঝেনা তাকে,
চতুর্দিকের অগণন স্মৃতিগুলো
আদিগন্ত ভালোবাসা হয়ে থাকে !

( নির্বাচিত কবিতা – কাব্যগ্রন্থ থেকে – বিদ্যুৎ ভৌমিক )
একসময় আমার ছাত্র জীবনে আমার হাতের লেখা ভালো বলে
আমাকে দিয়ে আমার উচু ক্লাসে পড়া দাদারা আমাকে দিয়ে প্রেম
পত্র লিখিয়ে নিতেন । তার বদলে আমাকে স্কুলে টিফিনের সময়
মদন দার এক শালপাতা ঘুগনি উপহার হিসেবে দিতো দাদারা !
প্রেম এমন একটা বিশেষ বিষয়, যা নির্বাচনে ভুল করে । আমার
বেশ মনে আছে, — আমার এক বন্ধু অচিন্ত্য । সে একটা মেয়েকে
খুব ভালোবাসতো ! বাপারটা এমন জায়গায় গড়িয়ে ছিল যে, সেই
মেয়েটার বাড়ির লোকজন জেনে গিয়ে ছিল
শেষমেশ একটা
দুঃখ জনক ঘটনা ঘটেছিল, — মেয়েটা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়ে ছিল ! ওই সব স্মৃতি আমাকে দিয়ে প্রচুর কবিতা লিখিয়ে নিয়েছে ।
একটা কথা বলি ; আমি এখনো প্রতিদিন ডাকবাক্স খুলে কিম্বা
এস. এম. এস – এ দেখি আমার নামে প্রচুর প্রেমপত্র আসে ! এটা
অবশ্যই আমার জনপ্রিয়তার কারণে । অন্য কিছু নয় । আমার স্ত্রী
জয়ীতা আমাকে এতটাই প্রেম দিয়ে চলেছেন যে নতুন করে এই
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিককে প্রেমে পড়তে হবে না । এটা হলপ করে
বলতে পারি ।
প্রেম নাকি রাস্তার দু’পাশে
অভ্যর্থনায় ডাকে ,
বিমূর্ত গড়ন দেখে ডুব দেয় চাঁদ
ছেঁড়া – খোঁড়া ছবি গুলো নীল জল ধুয়ে
কী করে এগিয়ে যাব রাতের শরীর !
দু’হাতে পড়েছে যেন কবিতার ছায়া
তোশক – বালিশে পড়ে শব্দের শ্বাস – প্রশ্বাস
ঘুমন্ত গর্ভবতী নিঃশব্দে নিঝুম
বসবাসের ঘরবাড়ি গুহাবন্দী থাকে বারমাস
— দুর্লভ সহবাসে !!

( শঙ্খচিল – কবিতা সংকলন থেকে বিদ্যুৎ ভৌমিক )
এক সময় আমিও প্রেমিক ছিলাম, কখনো স্বপ্নে, কোনো জীবন –
যাপনের ঘেরাটোপে ! কবিতার পাতার মধ্যে প্রেম ছিল আমার
এতটাই নগ্ন যে আমি ওদের বস্ত্র পড়িয়ে দিতাম প্রতিদিন ! এই যে
বুকের ভূমিকম্প আমাকে নাড়ায় চঞ্চল অস্বস্তির ভিতর কাণ্ডজ্ঞান
হীন, চোখের কটাক্ষ বাণে আত্মা আহত হোতে – হোতে জানতে
চাইবে তোমার ভুরুর জিজ্ঞাসা । পদ্মাবনে কবিতার শব্দ ছায়া গুলো ভাষা স্রোতে শিখে নেবে ভ্রমরের প্রলয় নৃত্য, এখানে কেউ কেউ আমার মতো হাসির মঞ্জরী মেখে নিরীহ নিঃশ্বাসে বলে
ভালোবাসি , সে যেন গোলাপ গন্ধ পেলে সবিনয়ে সাঁতারে যাবে আঁধার জঠর, তাকিয়ে দেখি স্পন্দমান বুকের ভিতর ;
এযে আমারই মন এবং নবনীতা – – –
রাত সাক্ষী পাখিটার জন্য বিপন্ন ব্যস্ততা !
এই রকম কত কিছু যে পাগলের মতো লিখতে – লিখতে ছিঁড়েছি,
তার হিসেব এখন রাখলে মনে হয় ভালোই হোতো, একটা নতুন
করে কাব্যগ্রন্থ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের বাজারে আসতো ! যাই হোক প্রেম সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই সামান্য, যতটা সম্ভব হয়েছে জানালাম আমার প্রিয় পাঠকবন্ধুদের । মতামত দেবেন
কিন্তু
ঘরে ফেরার সময় হতেই
মৃদু কান্নার শব্দে মনে হয় ;
কিছু ফেলে যাচ্ছি না তো
নীল ফুল, টক – ঝাল স্বপ্ন, ছদ্ম আদর্শ,
কিম্বা রূঢ় অস্বীকারে বিমুখ প্রেম !
অগাধ ধোঁয়া বুক ভার করে তোলে, —
লোকে ভাবে কিছু দোষ করে ফিরছি
তাকিয়ে দেখি পরে আছে আমার জন্মঋণ
আমার স্মৃতি ছুট্ সময় !!
( সময় – নামক কবিতা, কথা না রাখার কথা কাব্যগ্রন্থের কবিতা ) ##