কবি বিদ্যুৎ ভ‌ৌমিকের বিশেষ কবিতা

 এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ

                                   ¤ হৃদয়তান্ত্রিক ধ্রুপদী কবিতা ¤                                                                                                                      …………………………………………………..
¤¤ জল ছোঁয়া রোগ এবং মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণ ¤¤
*************************************
¤ বিদ্যুৎ ভৌমিক ¤
****************
ক ¤ ]
******
পাশের চেয়ারে ধ্যানব্রক্ষ্মে গভীর আরক্ত
কোথাও কী তপস্যা ভাঙার মন্ত্র হৃদয় ফুরিয়ে স্বপ্ন বদল করে
এই দু’হাত বুকের মধ্যে স্মৃতি ছুঁয়ে দেখে ; পাঁচ আঙুলের ছাপ লাগে স্বর্গের অলিন্দে ****
প্রতিদিনের অসুখ চরিত্র পতনের শব্দ শুনতে – শুনতে চেনা রাস্তা
দিয়ে ফিরে আসে ! এই তাপ যেমন গভীর ; ঠিক সেরকম অপ্রমেয়
উপমাহীন । তবুও কোথাও লুকিয়ে হারায় মন পোড়ানোর কৌশল
পাশের চেয়ারে অশরীর ক’রে রেখেছে আমায় —
এখানে স্মৃতি নষ্ট হতে – হতে দৃষ্টিও ভুলে যায় !
কেউ একজন অন্ধকার সিঁড়ির কাছে চিরঋণীর মতো চেহারায়
নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে ! অথচ ভালোবাসা মৃত্যু সইতে পারেনা ;
এক বেলাও !
খ ¤ ]
*****
যদিও বৃষ্টির দিনে কিছু অসংলগ্ন ভুল
আমাকে সঙ্গে নিয়ে ভেসে গেছে মধ্যরাতে মায়া আকাশে
চিরজীবনের স্রোতে স্বভাবতই নদীর মত শব্দ ওঠে —
কথা ছিল, এখানে নবনীতার সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ডুবে যাব,
ভেসে যাব সোহাগ নদীতে ! তবুও তো ভেতরের সব ঢেউ
দেবতার মত নিরাকার ****
এসবের মধ্যে বহুকালের ঋণ দয়া চায় ক্ষমতা চায়
ভ্রাম্যমাণ দুঃখের ভেতর —
পাশের চেয়ারে একাকীত্ব আঁধার পেতে বসে আছে
চিরকালীন স্বপ্নে সাক্ষী থাকা সহস্র ছায়ারা অঘমর্ষী
এভাবে সমস্ত দিক থেকে বহতা স্তব্ধতা মুকুটহীন রাজার মত
বসন্তে জ্বলে ওঠে !
এই চেয়ার থেকে অবিশ্বস্ত হুল্লোড় শুনতে শুনতে
বাকি পথ মন্দ ভাগ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ !
গ ¤ ]
*****
কোনো কিছুর জন্য ভুলতে পারি কী তোমায়
মনে – মনে ভেতর গর্ভের শরীর চিনি, — বুকের মধ্যে নীল জ্যোৎস্না কবিতার মতো প্রিয় প্রতিবেশী *** এই অন্তরীক্ষ যেখানে প্রতারক
স্মৃতিরা রাতের জন্য চোখ বুজে অপেক্ষায় থাকে অহর্নিশ একটানা ! এদের সবাই মানুষ সেজে থাকতে চায় ,
শেষ পর্যন্ত এদের কারণে আমার নিঃসঙ্গ গোটা রাত জাগা !
কোথাও ভাসমান ভাবনায় অতিরিক্ত অবিশ্বাস মেখে থাকে মায়াময় একশটা আহত শোক ****
এই চেয়ারে ঐশ্বরিক কেউ বোসে না থাকলেও ; কেউ একজন
মৃত্যুর মত স্থির হয়ে ঘুমিয়ে থাকে স্মৃতি বিছানায় —
কোন কিছুর জন্য ছাদের কার্নিস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেইনি তোমার অজস্র অক্ষর মালা ! অথচ এরকম অনন্ত অসুখ অবলা নিরীহ ছিল সতেরো বছর ! 

ঘ ¤ ]
*****
সমস্ত ব্যর্থতা অসহবাসের চেয়ে কঠিন ও কঠোর – ভীষণ ধারালো
তবুও স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি আমার ছায়াকে সতেরো বছর !
সেও দুঃখে ও শোকে নির্ঘুম ঋণী হয়ে আছে ****
এই জানলা দিয়ে চাঁদ এসে বিছানায় সারাদিন ঘুরছে – ফিরছে
কাঙালের দীর্ঘশ্বাস তবু নিঝুম বিষণ্ণ, — সমস্ত স্বপ্নগুলো প্রবল
বৃষ্টিতে ধুয়ে যেতে – যেতে যাবতীয় ইচ্ছার ভেতর মরে পচে গেছে ।
শেষ একবার নিভৃতে চলে এলে অস্তিত্ব নিজের হৃদয়ে
একলক্ষ বার পদাঘাত করে !
শেষ একবার সহজ সত্যে প্রতিপ্রশ্ন ছুঁড়ে দেই মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণে ;
আমি কী মরে যাব ? আমি কী পাখি – ফুল – ফল, অনেক কিছু
হব ? কি জানি মন-তো ব’লছে না সেই কথা !
ঙ ¤ ]
*****
সবটাই অমোঘ দোষ ; অধরোষ্টহীন কান্নায় ভাসে জল ছোঁয়া রোগে এক – একটা দুঃখ ; আমি ওদের ভালোভাবে চিনি, —
এই আধোজাগা সময়ে সেই চেয়ার এককালের স্পর্শে
অতল প্রেমহীন ! চোখের কাছে অচেনা কিছু চোখ ; আজব দর্শক
অন্ধকার রাতে মাথার কাছে ওরা কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে কাঁপে —
এখানেও ক্ষমা চাওয়া চোখ বুজে অনুসরণ কবিতা পংক্তি ধরে
এখানেও মনের ভেতর জেগে ওঠে দীর্ঘকার ছায়া
অর্ধেক নিঃসঙ্গ এবং নিঃশব্দে নীরব ভিন্ন এলোমেলো !
তাকে নিয়ে ভাবা বিশ্ব – ভুবনময় , ওকি মৃত্যু ; নাকি অন্তরীক্ষে
স্মৃতি ছবি মেলে ধরে অনাদিকালের প্রোজেক্টারে !
এই চেয়ারে পৃথিবীর সব দুঃখ একাই পেতে – পেতে
সিংহাসন হয়ে আছে ;
অথচ আঙুলের কড় গুণে মৃত্যু দিন ভাগ হয়ে গেছে !
চ ¤ ]
*****
ত্রিভাঁজ সময়, বুকের ভেতর কথাপাখি ; যেন নিভৃত প্রহরী
ঘরভর্তি মিশে যায় নম্রতার বিবর্ণ ধুলো
কেউ অবিশ্বস্ত, কেউ কেউ বিপরীতে বিরল প্রজাতির ছায়া
খুঁটে খায় ! ওই রাস্তায় চোখ বাঁধা কঙ্কাল হাঁটে বারমাস, —
ওদেরকে চিনি, ওরা রাতে আঁধারে জাদুঘরের আলো নিভিয়ে দেয়
রোজ । কী রকম গুণ টেনে উল্টে যায় দরাজ শিহরণ
তবুও যে রাস্তায় – রাস্তায় আকাশ ভাঙা মেঘ লীলাময় কান্নায়
রাতের জ্যোৎস্না ভেজায় —
এটাতো এই চশমায় স্বপ্ন জাগাতে চেয়ে ছদ্মবেশী গুপ্তচরকে বিছানা থেকে তুলে অলঙ্কৃত আদিখ্যেতার মলম লাগিয়ে দেয়
অতলান্ত ক্ষতে ! এই চেয়ারে বহু শতকের মায়াময় কৌতুক একজন কবির রহস্যময় শোকে প্রেত ও ঈশ্বরের স্পর্শে জন্মঋণের ফর্দ নিয়ে জেগে থাকে !!
                                                       ¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤