কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের একটি কালজয়ী কবিতা

দু’ই বাংলার জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের এই সময়ের লেখা একটি ব্যতিক্রমী কালজয়ী দীর্ঘ কবিতা 

 

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ

ক )
অব্যক্ত ১২-ই সেপ্টেম্বর ; নির্বোধ একদিন
এটুকু স্মৃতিকষ্ট তাও মহত্ত্বে পরম নির্ভর
তারপর প্রতিদিনের বহতা খপ্পরে মনের বাসঘরে নিপুণ অতীত ;
সেটাও ভেতরে অন্তহীন ~ অনন্ত ভাসমান , —
এই যে শিমুল চূড়ায় চাঁদ-এর সংক্রান্তি
কিছুটা ঘুমন্ত দু’দিক ; কিছুটা ফাঁকা কিম্বা তরলিত
বিস্ময়ের অসহ শিকার ! এইভাবে দৃশ্যের মধ্যে বাঁধা থাকে
সেদিনের নিঃশব্দ সাক্ষ্য ****
বুকের মাঝখান দিয়ে রক্ত পায়ে হেঁটে চলে যায়
অনন্তকালের অবুঝ নীরবতা , — এটাও সম্ভব ; নানান তীর্থের
ভেতর নির্ঘুম আত্মঘাতী হয়েছে দর্পণে ,
তবুও চোখের ভেতর থেকে ওর দুঃখ এত বড় মনে হয় !
খ )
কাছে যেন আছে ১২-ই সেপ্টেম্বর
শব্দহীন পোকার মতো নির্ঘুম একা এবং নগ্ন
আয়না ভাঙার অস্তিত্ব ; অশরীর অপ্রমেয় গোলমেলে ****
সাত জন্মের শোকের মত অতল গম্ভীর ! এই সবটুকু রাস্তায়
বেপরোয়া অবহেলায় আক্ষরিক স্তব অন্তর্গত অন্তরাল পাবে
কবেকার বৃষ্টির গল্পে গুনগুন ক’রে ওঠে
শ্মশান পথের চারধার ,
এই কারণেই বিস্মৃতির ভাষা শুনি ; মৃত্যুর মত নীরবে ।
যতটা নির্জন হয় প্রান্তরের শোকের সময়
ঠিক এইভাবে ছবির মত চোখ বুজে পুড়ে ওঠে
দহনে ও পীড়ায় স্মৃতির স্বরূপ
এসব আমাকে খায় বিকৃত ভিখারী হয়ে বারমাস
অথচ সময় একদলা দুঃখের ভেতর
গর্ভের নষ্ট বীজ রাস্তা রক্তাক্ত করে !


গ )
একই স্বপ্নে মৃত্যু নিয়ে শুয়ে থাকে কবিতার প্রথম স্তবক
চেনাজানা হয়তো বা জটিল ব্যক্তিগত দুঃসময়ে অভিন্ন
একা হয়ে থাকা ,
ভেতরের বহতা ঘুমে ওই দিনটা ত্রিভুবন ঘুরতে ঘুরতে
নিজের অন্ধকার-টুকু জানলা খুলে দেখে
যত খুশি দুঃখ পকেট ভরে অপচয়ের হিসেব ; এই সব গায়ে বেঁধে ভেতরে লুকোয় ! প্রতিদিন অত্যন্ত সাক্ষী — চোখ বুজে ঘ্রাণ
নেই যৌন দরজায় **** কিছু কিছু সত্য মহান পরাজয়ে লোক
দেখানো কান্নায় ভিখারী চিরকাল ! এই কবিতার মধ্যে রোজ
প্রত্যন্তে ঝনঝন করে বারমাসের শব্দ অক্ষর
ঘুম কাটিয়ে দর্পণে শরীর দেখা সারারাত
অসংখ্য সময়ের শব্দে দেওয়ালে-দেওয়ালে রচিত হয়
মৃত লোকজনের অন্তরীক্ষের সিঁড়ি
এই জালিয়াত মরন স্বরবৃত্তে অসহনীয় অথবা অলৌকিক !
ঘ )
প্রতিদিনের মতো বাতাস স্পর্শে ;আমি
ভ্রাম্যমাণ একা হয়ে যাই
চারপাশের মুখোভঙ্গীগুলো অবিন্যস্ত আবছা
আলোতে পরস্পর ছায়াসঙ্গী ,
এসব স্তব্ধতা শিশিরে ভিজে ভিজে ভীরু হয়েছিল
বুকের ভেতর মাথা রেখে ঘুমন্ত যমদূত স্বপ্নের সর্বনাশে মৃত্যুর
হাত ধরে টানাটানি করতে করতে অতলের তলে সাজানো
নীরবতাকে ধীক্কার দিচ্ছিল ! বহুদিন পর এই লজ্জিত চোখ
রাস্তা চিনিয়ে প্রমাদ গুনছে ****
এরপর কেউ কেউ জটিল ছদ্মবেশ খুলে পাতালে খুঁজেছে
আবহমান কালের কেলেন্ডার !
ঙ )
মুখোমুখি এই দর্পণ । অবহেলার চিহ্ন স্বপ্ন দেখে
মুখ সরিয়ে নেয় অশরীর স্মৃতি, —
কতকথা ছুটে আসে মন মাড়িয়ে ফটফটে জ্যোৎস্নায় ,
স্পষ্ট হয় আয়না বদলের নাটক ; কিছু কিছু আত্মশুদ্ধি
এরই মধ্যে পথ ভুলে ভেঙে যায় কত কি ! এরই ভেতর দূরে –
কাছে ধূলোভরা অবিশ্বাস কিছু না পেয়ে ঈর্ষায় জ্বলে ওঠে
পশমের মত ।
১২-ই সেপ্টেম্বর স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ভেতর দোল খায়
অভিমান এবং অহঙ্কার মিলিয়ে যায় বিস্মৃতির একান্ত ভেতরে
সারিবদ্ধ শোকে বৃষ্টি ঝরে চোখে -চোখে
এই হাওয়ায় কবিতার ব্যাকুলতা তোমার ঠোঁট ছোঁবে
ক্যানভাসে মুখোচ্ছায়া মননে ট্রাপিজের খেলা , অতলান্তের
ডিকশনারির ছেড়া পাতা গোপনে মৃত্যুর বেকার আলসেমি !
চ )
কিছুদিন আগে কপালে তিনটে ছায়ার মত দাগ লেগেছিল
অস্তিত্ব আপৎকালীন বিপর্যয়ে অস্থির
তখন সময় নোখের ধুলো ঘেঁটে অবিশ্বাস এবং দুরন্ত আঘাতে
মৃত্যু নিয়ে দাঁড়িয়ে !
এই অবহেলায় গুড়িয়ে যায় ভালো করে না-দেখা প্রতিটা স্বপ্ন
১২-ই সেপ্টেম্বর সিঁড়ি ভাঙা অঙ্কের মধ্যে ভীষণ গোলমেলে
অথচ কবিতার ভেতর~ভেতর অনেক কথা কবেই
বলা হয়ে গেছে ****
গতিপথ ; আমি পাশ ফিরে বিপরীতে !
অবশেষে লাশকাটা ঘরে ! ! ##

***************************************************