সোনালী অতীত, ধূসর বর্তমান বা ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ শ্রেষ্ঠ সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়। এই বিদ্যাপীঠে পাঠদানকালে দ্বাদশ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী আমাকে বিব্রত করার জন্য একটি প্রশ্ন করে। ছাত্ররা চেতনার বর্শাফলক, দম বন্ধকর পরিস্থিতি তাদের কখনও শোভা পায়না। তারা কৌতুহল প্রবণ এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য পিপাসার্ত বা তৃষ্ণার্ত। আর এজন্যই তারা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর আমরা শিক্ষকেরা হলাম মোমবাতির মত, আলো বিলিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাই। ধূপের মত গন্ধ ছড়িয়ে নিজে হারিয়ে যাই। তবুও আমাদের মনের মধ্যে আনন্দ ও তৃপ্তি আছে। আছে ভালবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা আর সামাজিক স্বীকৃতি। ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতা নিয়ে পি.এস.সি পাস করে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। টিন এজ (থার্টিন থেকে নাইনটিন) বয়সে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাগ্রহণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকের চেয়েও শিক্ষক এবং শিক্ষিকাদের উপদেশ গ্রহণসহ তাদের পর্যবেক্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকেরা প্রিয়, প্রিয়তর এবং প্রিয়তম। আসলে শিক্ষক হওয়া সহজ কিন্তু দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন।

উঠতি বয়সে শিক্ষার্থীদের কৌশলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করতে হয়। প্রশ্নটি ছিল “পৃথিবীতে কোন মহিলা সবচেয়ে বেশি সুন্দরী’? সে মনে করেছিল আমি কোন সুন্দরী রমনীর নাম বলব। কিন্তু আমি উত্তরে বললাম-“ঐ মহিলা সবচেয়ে সুন্দরী যাকে তোমার বাবা তোমার নানা-নানীর বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছে অর্থাৎ তোমার মা”। পৃথিবীতে কোন সন্তানই তার মাকে অসুন্দর বলার যোগ্যতা এবং সাহস রাখে না। রাখে কি? প্রতিটি মানুষের কাছে তার মায়ের মত সুন্দর তার ধর্ম, মতামত, পবিত্র গ্রন্থ, মহাপুরুষ, মাতৃভাষা, মাতৃভূমি আর ছাত্রজীবনে অধ্যয়নরত নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-শিক্ষিকা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে লিখতে গেলে প্রথমেই মনে পড়ে যায় বিশ্বের প্রথম বিদ্যালয় চীনের ছেংদু শিশি বিদ্যালয়ের কথা। চীনের সিচুয়ান প্রদেশে আনুমানিক ১৪৩-১৪১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে একসময়ে এই বিদ্যালয়ের সূচনা হয়। মূলত তৎকালীন সময়ে ঐ বিদ্যালয়ের নাম ছিল ওয়েন ওয়েং শিশি। চীনা ভাষায় শিশি শব্দের অর্থ হল ‘স্টোন চেম্বার’। চীনারা বিশ্বাস করে, পাথরের প্রাণ আছে। যেহেতু প্রাণ বিশিষ্ট পাথর দীর্ঘদিন কোনরূপ পরিবর্তন না করেই অপরিবর্তিত অবস্থায় বর্তমান থাকে, তাই জ্ঞানীরও সেই একই অবস্থায় থাকা উচিত।

সে দার্শনিক ভাবচিন্তা করেই ঐ বিদ্যালয়টির নাম রাখা হয়েছিল শিশি বিদ্যালয়। ঐ বিদ্যালয়সহ যাঁরা পৃথিবীতে বিদ্যালয় তৈরী করেছেন অথচ আজ বেঁচে নেই তাঁদের জানাই বিন¤্র শ্রদ্ধা ও সালাম। আমার ছাত্রজীবনের বিদ্যাপীঠ ইকবাল হাইস্কুল, সদর, দিনাজপুর। ১৯৫১ সালে উর্দু ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি আল্লামা ইকবাল এর নামানুসারে এ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐ সময়ে পার্বতীপুর এবং সৈয়দপুর আরও দুটি উর্দু মাধ্যমে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। উর্দু ভাষায় অবাঙ্গালী শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করার লক্ষ্যে তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হলেও তাদের স্বপ্ন বেশিদিন টিকেনি। মাত্র ২০ বছর বাঙালী শিক্ষকেরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও উর্দু ভাষায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতেন আর লিখতেন ইংরেজিতে। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালীরা জয়লাভ করলে অবাঙালী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়, পালিয়ে যায়, হারিয়ে যায়। তারা আর বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে আসে না। তাদের ভুলের জন্যই তাদের স্বপ্ন বা নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে যায়। শিক্ষার্থী না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি কালের সাক্ষী হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে।

১৯৭২ সালে ৬ জন বাঙালি শিক্ষক সামিদুর রহমান, এমদাদুল হক, আলতাফ হোসেন, মওলানা গোলামুর রহমান, লিপিকা সরকার, এস আবুল খায়ের (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) মাতৃভাষার টানে মাত্র ৭৪জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে উর্দু মাধ্যম থেকে বাংলা মাধ্যম (মিডিয়াম বা ভার্সন) এ স্কুলটিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ময়েজ উদ্দীন আহম্মেদ বলেন “স্কুলটিকে বাংলা মাধ্যমে রূপান্তরের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান হলো সামিদুর রহমান সাহেবের। তখন এ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন এ্যাড, মোঃ মজিবুর রহমাস (জেলা গর্ভনর মনোনীত) এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ডাক্তার নঈমুদ্দীন আহম্মেদ (প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগ)। স্কুলটিতে আন্তরিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা দান করেন তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল মান্নান। উর্দু থেকে বাংলা মিডিয়ামে রূপান্তরিত হওয়ায় এবং পাঠদানসহ অন্যান্য কর্মকান্ড সন্তোষজনক হওয়ায় ছাত্রÑছাত্রীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। ১৯৭৪-৯১ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন সাইফুদ্দীন আহম্মেদ স্যার। ১৯৮২ সালে ইকবাল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হলাম। ১৯৮৬ সালে প্রায় ১১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত থাকায় স্কুলের পাঠদানের কক্ষসহ আসন ব্যবস্থা প্রকট আকার ধারণ করে।

এমতাবস্থায় ১৯৮৬ সালে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড স্কুলটিকে ডাবল শিফটে পাঠদানের অনুমতি প্রদান করে। সে সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ছিল সুসম্পর্ক, সহযোগিতা, আন্তরিকতা, সামাজিক ও ধর্মীয় মুল্যবোধ। ছিল না ইভটিজিং, জানতাম না ব্লাকমেইলিং, বুঝতাম না চিটিং সহ নানারকম সামাজিক ব্যাধিগুলো। শিক্ষকদের এবং অভিভাবকদের শাসন ছিল অত্যন্ত কড়া। ছিলনা প্রাইভেট পড়া, জানতাম না কোচিং সেন্টার (বাণিজ্য), খুঁজে পেতাম না নোট ও গাইড বই, শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি শিক্ষকদের উপর নির্ভরশীল ছিল। যারা শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করতেন তারা এটাকে ব্রত বা সাধনা মনে করতেন, চাকুরী নয়। আর এখন কি পর্যায়ে গেছে তা লিখতে ইচ্ছে করছে না। কেন জানি না শিক্ষার্থীরা এখন স্যার এবং ম্যাডামের চেয়ে ভাইয়াদের কাছে পড়তে বেশি ভালবাসে। আমরা শিক্ষকদের দেখলে সাইকেল বা রিক্সা থেকে নেমে পরিচয় দিতাম, কুশল বিনিময় করতাম। স্যারেরা আনন্দ ও গর্ব অনুভব করে আমাদের জন্য মন ভরে দোয়া ও আশীর্বাদ করতেন। আর এখন শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কোথাও দেখতে পেলে মুখ লুকিয়ে নেয়, পরিচয় দিতে চায় না উল্টো স্যারদেরকেই বলতে হয়, তুমি অমুক সালের এস,এস,সি ব্যাচের ছাত্র ছিলে না? মাত্র ৩০-৩৫ বছরে মূল্যবোধের ধস নেমেছে। রীতি ও নৈতিকতা চিরতরে হারিয়ে গেছে।

তখন স্যারদের সংসারে অভাব অনটন থাকলেও ছিলনা লোভ-লালসা, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, হিং¯্রা, বিদ্বেষ আর গ্রুপিং। আমার প্রিয় স্যার সামিদুর রহমান একদিন ক্লাসে বলেছিলেন, সংস্কৃত ভাষায় একটি শ্লোক আছে যার সরল অর্থ হল তিনটি ক্ষেত্রে হেরে যাওয়া সম্মান, মর্যাদা, আনন্দ, গৌরব এবং অহংকারের। ১. পিতা-মাতার চেয়ে সন্তান বেশি যোগ্য হলে ঐ পিতা-মাতা খুশি হন। ২. শিক্ষকের চেয়ে শিক্ষার্থীরা যদি উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত হন তবে শিক্ষকেরা খুশি হন। ৩. যে গুরু তার শিষ্যকে অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণ দিয়ে তার চেয়ে যোগ্য হলে ঐ গুরু খুশি হন। আমাদের স্যারেরা ছিলেন সাধারণ কিন্তু তৈরি করেছিলেন অসাধারণ ছাত্র। তারা ছিলেন আমাদের রোল মডেল বা আদর্শ। জ্ঞানের উৎর্স, আনন্দের ভান্ডার অর্থাৎ চতুমুর্খী প্রতিভার অধিকারী আর দশ জন মানুষের তুলনায় সেরা। বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নির্মিত অত্যন্ত জনপ্রিয় নাটক ‘বড় ছেলে’ তে দেখা যায় বর্তমান যুগের গন্যমান্য ছাত্র সহজ সরল অভাবি, নিরুপায় শিক্ষকের শিক্ষিত, বেকার বড় ছেলেকে চাকুরী দেওয়ার নামে ছলনার আশ্রয় নেয়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক।

আমি আমার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমানভাবে আজও শ্রদ্ধা করি। তবে বেশি মনে পড়ে দক্ষ ও যোগ্য সংগঠক সামিদুর রহমান স্যারকে। যিনি পারিবারিকভাবেই নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করেছিলেন। বাংলা ও ভুগোলে পারদর্শি আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব স্যার ১৯৪৯ সালের ১৫ইং মে ভারতের পশ্চিমা বঙ্গের পশ্চিম দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ থানার অন্তগর্ত ভাতসিয়া গ্রামে বাবা হাফিজ উদ্দীন আহম্মেদ তালুকদার এবং মা খাদিজা খাতুনের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর দাদা মেহের হোসেন তালুকদার বাঙালবাড়ি ইউনিয়ন বোর্ডের আজীবন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ছাত্র জীবনে কৃষক ও প্রজাদের কাছে খাজনা তুললেও পরবর্তীতে বাম চিন্তা চেতনা হৃদয়ে লালন ও চর্চা করার জন্য তালুকদার শব্দটি পরিহার করেন। শৈশবে দিনাজপুরে (বাংলাদেশ) চলে এসে গোলাপবাগে বসবাস শুরু করেন। ১৯৬২ সালে দিনাজপুর হাই মাদ্রাসা কাম হাইস্কুল এ অধ্যয়নের সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আদর্শে উদ্বৃদ্ধ হয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। অত্যন্ত রাসভারী স্যার ১৯৬৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ইকবাল হাই স্কুলে যোগদান করেন। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি জড়িত ছিলেন।

১৯৯১ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বেই ১৯৬৬ সাল থেকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কোতয়ালী থানা, মহকুমা ও জেলা সাংগঠনিক পদে ধাপে ধাপে নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে, যুদ্ধকালীন দীর্ঘ নয় মাস পশ্চিমবঙ্গের মালন ক্যাম্প এ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক শিক্ষাকে জাতীয় করণের লক্ষ্যে আন্দোলন ও সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দান করেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে প্রধান শিক্ষক পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য সচিব হন। আন্দোলনের পূর্বে বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক হতে পারতেন না। এ কাজে দায়িত্ব পেতেন শুধুমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। ১৯৯৬ সালে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আন্দোলনে তিনি গ্রেফতার হন। শর্তসাপেক্ষে মুক্তি হোক তা তিনি চাননি ফলে কিছুদিন তিনি কারাভোগ করেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বাশিস এর জেলা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আমার প্রিয় স্যার। ২০০৩ সালে থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জেলা সভাপতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড দিনাজপুর বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য আমার স্যার ১৯৯৮ সালে সদর থানার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ১৯৯৯ সালে আমার প্রিয় স্কুলকে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

২০০৯ সালে অবসর গ্রহণের পর সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৬৫ বছর হলে কর্মকর্তা পদে থাকা যাবে না এ ধারা মেনে চলে সংগঠন থেকে অব্যাহতি নেন। বর্তমানে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ থেকে তিনি একমাত্র উপদেষ্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন। কোন প্রকার লোভ-লালসায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাথে আপোষ বা নীতির পরিবর্তন করেননি। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে সারা জীবন দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন। বর্তমানে তিনি শহর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং জেলা স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি। যৌবনে এবং কর্মকালীন সময়ে পরিবারকে সময় দিতে না পারলেও আজ তিনি পরিবারকে পুরোপুরি সময় দিচ্ছেন। পাঠকদের কাছে আমার অনুরোধ অভিজ্ঞ শিক্ষক, দক্ষ সংগঠক হিসেবে যাঁরা এখনও বেঁচে আছেন তাঁদেরকে কমপক্ষে যেন বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান এবং দিবসে সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে অতিথি হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়। যদি আমরা সেটা করতে ব্যর্থ হই তবে আমাদের পরবর্তী অবস্থা কি পর্যায়ে যাবে এ বির্তকে যাব না। আমাদের স্যার এবং ম্যাডামেরা দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে কি পেয়েছেন, না পেয়েছেন তা নিয়ে না ভেবে নিজেরা দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রকে উজাড় করে দিয়েছেন। আমরা অতীতের তুলনায় বর্তমানে শিক্ষকেরা আর্থিক দিক দিয়ে অনেকটা স্বচ্ছল।##