মুরাদনগরে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই; ধরা পড়ার পর ২ ছিনতাইকারী স্থানীয়দের কাছ থেকে ছিনতাই হলো প্রভাবশালীদের হাতে

মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডিবি পরিচয়ে আটককৃত কাজী আবুল হাছান ও উত্তম চন্দ্র সহ দুই ছিনতাইকারী’র ছবি।

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার : পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির সদস্য পরিচয়ে ছিনতাই করার সময় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দক্ষিন রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে জনতর হাতে ধরা পড়ে দুই যুবক। স্থানীয়দের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া দুই হাজার টাকা ও একটি মোবাইল সেট উদ্ধার হলেও মুরাদনগর উপজেলা সদর থেকে আওয়ামীলীগ নামধারী কিছু নেতা-কর্মী ঘটনাস্থলে যেয়ে স্থানীয়দের ভীতিপ্রদর্শনে দুই ছিনতাকারী ও ছিনতাইকরা দুই হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন সেটটি নিয়ে আসে। বুধবার বিকেলে মির্জাপুর- বাহাদুরপুর সড়কের ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে।

আটক করা দুই যুবকের একজন মুরাদনগর উপজেলা সদরের সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কাজী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ’র (মস্তান বাড়ির) প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মৃত কাজী আবুল কাশেমের পুত্র কাজী আবুল হাছান ও অন্যজন একই এলাকার ‘নাথ বাড়ি’র আরেক বিএনপি নেতা সুভাষ মাষ্টারের ছেলে উত্তম চন্দ্র বলে আটককৃত দুই যুবক পরিচয় দিয়েছে।

উক্ত ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হোমনা উপজেলার জগৎপুর- দড়িকান্দি এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর হতে পায়ে হেটে নিকটাত্মীয় বাহাদুরপুর গ্রামের আউয়াল মিয়া’র বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মির্জাপুর ব্রিজের উপর হাছান ও উত্তম মোটরসাইকেল যোগে এসে তাঁর পথ আগলে ডিবি কর্মকর্তা পরিচয়ে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনাস্থল থেকে মোঃ শাহজাহান জানান, পথ আটকে তাঁরা নিজেদের ডিবির কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়। অবৈধ কিছু আছে কি না জানতে চাইলে সঙ্গে ২ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট ফোন আছে বলে জানাই। ছিনতাইকারীরা টাকা ও মোবাইল নিয়ে আমাকে রাস্তার নিচে ফেলে দেয় এবং কোনো ঝামেলা করলে গুলি করে দেবে বলেও হুমকী দেয়। ছিনতাইকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে উঠে চলে যেতে চাইছিলে, স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। মোটরসাইকেল স্টার্ট না হওয়াতে আমার শোর চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন সবাই দৌড়ে এসে ছিনতাইকারী দু’জনকেই ধরে ফেলেন। তাদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল সেটটি উদ্ধার করে এবং গণধোলাই দিয়ে রামচন্দ্রপুর দক্ষিন ইউপি কার্যালয়ে আটক করে রাখে।

এ রিপোর্ট লেখার সময় ঘটনাস্থল হতে ওই ইউপির ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ ইব্রাহিম মিয়া জানান, মুরাদনগর সদর থেকে আওয়ামীলীগ নামধারী কিছু নেতা তাদের দলবল নিয়ে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাই করা টাকা ও মোবাইল সেটটিসহ দুই ছিনতাইকারীকে জোর করে করে নিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস,এম বদিউজ্জামান সাথে সেল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শোনেছি ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে এক ছিনতাইকারী আটক হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে যেয়ে শোনি ২ ইউপি মেম্বারের সহযোগীতায় ছিনতাইকারী ছাড়া পায়। ওই দুই ইউপি সদস্য পলাতক থাকায় তাদেরও পাইনাই। তবে এব্যপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাই নাই।

Categories: কুমিল্লা

Tags: