কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কবিতা নির্ভর নিবন্ধ

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ

 বিশেষ কবিতা নির্ভর নিবন্ধ
************************
¤¤ রূপসী বাংলা ও আমার কবিতা প্রসঙ্গে কিছু কথা ¤¤
বিদ্যুৎ ভৌমিক
****************************
আজ যখন মানবতা বিপন্ন হচ্ছে । পৃথিবী জুড়ে বর্বরতা এবং বাতাসে নারকীয় গণহত্যায় আদ্যোপান্ত কলুষিত, ঠিক এই যে মূহুর্তের সন্ধিক্ষণে ছোট কবিতা-র মান্যবর সম্পাদক বন্ধু আমাকে একটা বিশেষ লেখা লিখতে ইনসিস্ট করলেন ! বিষয়টা আমার কাছে এতটাই অমোঘ যা মনের মধ্যে যাবতীয় সত্য সুন্দরকে এই আত্মায় প্রস্ফুটিত করে তুলল ! আজ্ঞে হ্যাঁ, রূপসী বাংলা “—এই উপজীব্য বিষয়টি প্রত্যেক কবি ও শিল্পী সাহিত্যিকদের মতই এই আমিকে একান্ত নির্জনতার প্রত্যন্ত আকুতি ও কিছু অভিজ্ঞতার ব্যঞ্জনাময় মনদর্পণে প্রতিফলন ঘটালো ! সত্যি বলতে কি বন্ধু ;এই যে আমি এবং আমার আমি কিম্বা অন্য কোন আমি একজন পরিপূর্ণ আত্মা ! সমস্ত চেতনার ভেতর অনুভবে কবিতার রূপক, প্রতীক, ব্যঞ্জনা ইত্যাদি মহত্তর এক জীবনকে মাঝেমধ্যেই একটি পবিত্র বিষয়ে টেনে নিয়ে আসে অনেক কাছাকাছি ! রূপসী বাংলা, প্রকৃত অর্থে এতটাই রূপসী যে যাকে স্পর্শ করতে পারাটা আমার পক্ষে এখন স্বপ্মাতীত ! কারণ ঠাকুর মার ঝুলিতে যেমন তেপান্তর-এর মাঠ নামক একটা বিশেষ বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গনকে বোঝায় । এই গল্প-এ লেখক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী তাঁর সৃষ্টিকে অমর করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁর সৃজনশীল দক্ষতায় ।
           **************************************************************************************
¤ আমার সোনা মা ¤
»»»»»»»»»»»»»»»»»»»»»»
¤ বিদ্যুৎ ভৌমিক ¤
»»»»»»»»»»»»»»»»»»» ««
সেই নদীটার পাশটি ঘেঁষে অরূপরতন গাঁ
ইচ্ছে করে দেখতে তাকে বাড়িয়ে দিলাম পা —
হেঁটে – হেঁটে যাচ্ছি সেথায় মেখে পথের ধুলো ,
পাগল পারা ফাগুন বাতাস হঠাৎ আমায় ছুঁলো !
#
মন ভোলানো প্রাণ জুড়ালো সেই যে আমার গাঁ ,
পথ চেয়ে তাই আছে বসে আমার সোনা মা !
গ্রামটি ঘেরা তাল – তমালে পুষ্প বীথির ডালি , —
আপন মনে গান গেয়ে যায় বাউল বনমালী !
#
স্বপ্ন আঁকা চোখের পাতায় শিশির ভেজা মনে
শিমূল শাখায় দোল দিয়ে যায় বাতাস ক্ষণে – ক্ষণে !
নীল আকাশে ছড়িয়ে আবীর সূর্যোঠাকুর হাসে
প্রজাপতি উড়ে বেড়ায় আমার আসেপাশে !
#
সেই নদীটা কোথায় এখন খুঁজে বেড়াই তাকে
ওই দেখা যায় অরূপরতন স্মৃতির ফাঁকে ফাঁকে ****
মনের কোণে ঝাপসা হয়ে আসছে গোটা গাঁ
কোথায় যেন হারিয়ে গেছে আমার সোনা মা !!
*************************************
[ উক্ত কবিতাটি শুকতারা পত্রিকা, আমার কাব্যগ্রন্থ নির্বাচিত —
কবিতা, এবং RPLUS TV, RADIO JU90.8 MHZ FM – এর
বিশেষ কবিতানির্ভর অনুষ্ঠানে প্রকাশিত এবং প্রচারিত হয়েছে
বেশ কয়েকবার — বিদ্যুৎ ভৌমিক ]

রূপসী বাংলা – র সাথে আমার অন্যভাবে পরিচয় ঘটেছিল কবি
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় । বলুন তো বন্ধু, —এমন কি যাদু এই
কবিতাটায় আছে যে একটা কবিতাই জীবনানন্দকে বিখ্যাত করে
তুলেছে সমস্ত পৃথিবীর বাঙালিরা ! সত্যি এটা বিস্ময়ের ব্যাপার না
ব’লে পারছি না । এরকম অনেক কবি আছেন যাঁদের সৃষ্টি অমর
হয়ে গেছে তাঁদের কলমের জোড়ে !
আমি গ্রাম – বাংলায় সুযোগ পেলেই চলে যাই । দিনের বেলাতে এই গ্রাম যেমন মনোময়, ঠিক তেমনি রাতের অন্ধকারে এই গ্রামকে —
আমার প্রচন্ড ভূতুড়ে লাগে ! অবশ্য সব গ্রাম – গঞ্জ নয় । যে গ্রামে
বৈদ্যুতিক আলো নেই, টেলিভিশন – রেডিও নেই, খবরের কাগজ
এসে পৌঁছায় না, ডাক্তার খানা নেই বললেই চলে, সেই গ্রাম আমার
কাছে আইডিয়াল বলা যায় প্রকৃত গ্রাম হিসেবে । এই গ্রাম রূপাসী
বাংলার উপজীব্য বলা যায় । তবে ইদানিং এই পবিত্র গ্রামের মধ্যে রাজনৈতিক হাওয়া বইছে ! বারুদের গন্ধ আর রক্তের দাগ যত্র –
তত্র পাওয়া যাচ্ছে ! কিছু সার্থপর মানুষ ভয় দেখিয়ে, কৃতকৌশলে
লোভ – লালসায় বলী দিচ্ছে এই পবিত্র গ্রামের সরল – সোজা এই
মানুষগুলোকে ! গ্রামকে এইসব রাজনৈতিক মানুষগুলো তাদের
নষ্ট নিঃশ্বাসে ধ্বংস করে দেবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ! এরকমই —
অনেক অনেক গ্রামের নাম আমি জানি এবং উল্লেখ করতে পারি,
যা বললে আমার প্রাণনাশের সম্ভাবনা হতে পারে ! এখন তো আর
সেই গ্রাম নেই, যেখানে আমি এক আকাশ নীলাশ্মদ্যুতি মাখা —
অক্সিজেন পাব !
****************
¤ ছবির খেলা রঙের মেলা ¤
««««««««««««««««««««««««««««««
¤ বিদ্যুৎ ভৌমিক ¤
»»»»»»»»»»»»»»»»»»»»
এখন থাকি চুপ ক’রে
হঠাৎ দেখি রোদ্দুরেতে মেঘ প’ড়েছে ঝুপ করে
বৃষ্টি এলো, বৃষ্টি এলো, খবর দিল কে
মনের ঘরে মেঘ বালিকা হঠাৎ ঢুকেছে !
#
চু কিত্ কিত্ খেলতে গিয় শিরীষ গাছের কাছে
সে কথা কী আমার মতো তোর কি মনে আছে ?
সেই বাদলের আচার চুরি, ঝাল মশলা কড়াই মুড়ি
পান্তা বুড়ির মুখটা ভারী তিন কুড়ি ছুঁই – ছুঁই
জোর খেয়েছি কান মোলাটা,
আর হবেনা জল ঘোলাটা
বড়দা রেগে বললো তেড়ে — আর যাবিনা তুই !
#
ফুল ফোটানো সেই যে বেলা
ছবির মতো রঙের মেলা
উদাস বাউল গান গেয়ে যায় রাঙা মাটির পথে , —
ওই ফাগুনের সেই রবিবার,
নতুন করে জানালো আবার,
দখিন বাতাস আসলো যেন নীল আকাশের রথে !
#
সবুজ মনের বীণার তারে খুশির সকাল জাগে
ফুলের বনে যাই মিশে যাই মনের অনুরাগে
সেই সেদিনের পদ্য পাড়ায়
আকাশ ঢাকা সন্ধ্যা তারায়
মন ছুঁয়ে যায় পেছন স্মৃতির সূর্য ওঠে, —
হঠাৎ দেখি স্বপ্নে আমার পদ্ম – শালুক ফোটে !!
**********************************************
[ এই কবিতাটি আমার কাব্যগ্রন্থ – গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে
ছিলো “— থেকে নেওয়া, যা এইমূহুর্তে অনেক প্রখ্যাত আবৃত্তিকার বন্ধুরা মঞ্চে – বেতার – দূরদর্শনে আবৃত্তি করছেন । আমিও এই
লেখাটা সময় সুযোগ পেলে আবৃত্তি করে থাকি — বিদ্যুৎ ভৌমিক ]
গ্রাম সম্পর্কে জীবন বোধ যদি না থাকে তাহলে এই গ্রামের এক
পবিত্র চেহারা অনুধাবন করতে কেউ পারবেন না । এই গ্রামকে
আপনারা রক্ষা করুন, এটা আমার আন্তরিক অনুরোধ সকলের
কাছে । ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ঐতিহাসিক শহর শ্রীরামপুরে আমার জন্ম । একদিন এই শ্রীরামপুর গ্রাম ছিল এবং
এখানে অনেকেরই পায়ের ধুলোয় ধন্য হয়েছে এখানকার মাটি !
পরিশেষে বলি সবাই ভালো থাকুন এবং সুন্দর থাকুন পরিবারের
সঙ্গে । মাঝে মধ্যে গ্রামে ঘুরে আসুন । দেখে আসুন গ্রামের জীবন
যাত্রা ! ##
                      ¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤¤

Categories: আন্তর্জাতিক,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,বিনোদন,ভারত,মতামত বিশ্লেষণ,শিক্ষা বাতায়ন,শিল্প ও সাহিত্য,সারা দেশ