মুরাদনগরে আওয়ামীলীগের কর্মী সমাবেশ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়: ইউসুফ হারুন এমপি

মুরাদনগরে আওয়ামীলীগের কর্মী সমাবেশ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়: ইউসুফ হারুন এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি বলেছেন, দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা প্রমাণ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আছে। দেশে কেউ যে আইনের ঊর্ধ্বে না, এ রায়ে তা প্রতিষ্ঠিত হলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির দায়ে সাজা হবে, তাতে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় না। তবে এখন পৃথিবীকে বলতে পারব, এ দেশে দুর্নীতি করলে বিচার হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণার পর দিন শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিখির বক্তব্যে দেয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন বলেন, দুদকের কাগজপত্রে দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে, সে জন্যই এই সাজা। বাংলাদেশে দুর্নীতির যে আখড়া ছিল সেখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার প্রচেষ্টায় ছিলাম আমরা, এটা তারই সাফল্য। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এমপি ইউসুফ হারুন বলেন, সাড়ে ৯ বছর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা চলেছে। এই সময়ে খালেদা জিয়া আইনে যা যা সুবিধা পাওয়ার কথা, তা তাকে দেওয়ার পর মামলা শেষ হয়েছে। আমার মনে হয় না, খুব তাড়াতাড়ি এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াসহ অন্য সাজা প্রাপ্তরা এই মামলায় হাইকোর্টে আপিল আপিল করার সুযোগ পাবেন। সেটাই পরের পদক্ষেপ।

খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি ইউসুফ হারুন বলেন, সংবিধানে বলা আছে, নৈতিক স্খলনের জন্য কারো যদি দুই বছরের অধিক সাজা হয়, তাহলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সুগ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের দুটি রায় আছে, তাতে বলা আছে, আপিল যতক্ষণ না পর্যন্ত শেষ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মামলা পূর্ণাঙ্গ স্থানে যায়নি, সেজন্য দন্ডপ্রাপ্ত হলেও তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। আবার আরেকটি রায় আছে, তাতে পারবেন না। এখন খালেদা জিয়ার ব্যাপারে আপিল বিভাগ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তাদের বিষয়।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ম. রুহুল আমীন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ ও মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কাজী আবুল খায়ের চেয়ারম্যান প্রমূখ।