জামানত জমার ১বছর ২মাস পর নথি গায়েব বিদ্যুৎ পাননি মুরাদনগরের ৪ গ্রাহক

জামানত জমার ১বছর ২মাস পর নথি গায়েব বিদ্যুৎ পাননি মুরাদনগরের ৪ গ্রাহক

মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে: এক বছর ২ মাস আগে জামানত জমা দেয়াসহ লাইন টেনে সংযোগ দেওয়ার সব প্রক্রিয়া শেষে মিটার লাগাতে এসেও মিটার লাগানো হয়নি। গ্রাহক প্রতি এক হাজার টাকা করে বখশিস না দেয়ার কারনে খুলনার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের ৪ জন গ্রাহক আজও বিদ্যুৎ পাননি। এতে ওই গ্রাহকদের পরিবারের অর্ধশত সদস্য সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জামানতের টাকা জমা দেওয়ার পরও বিদ্যুতের সংযোগ না পেয়ে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে ৪ দরিদ্র পরিবার বাস করে। বিদ্যুতের আশায় টাকা খরচ করে তারা দুই বার ওয়ারিং জামানতের টাকা জমা করেছে। বিদ্যুৎ কার্যালয়ের লোকদের পেছনেও অনেক টাকা খরচ করেছে সংযোগ পেতে।

সরেজমিনে গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুতের ৪টি ঘরের মিটারের বোর্ড পর্যন্ত সংযোগ তার টানা হয়েছে এবং প্রতটি ঘরে ওয়ারিং করা আছে। কিন্তু কোনো ঘরেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে তৈয়েবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রদীপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘২০০৩ সালে খাম্বা পুঁতে লাইন টানে রাখেছে। আমাগে ঘরে ঘরে ওয়ারিং করায়ে রাখিছি। তাছাড়া গত ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর কোম্পানীঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জোনাল কার্যালয়ে জামানত বাবদ ৬’শ টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু লাইন দেচ্ছে না।’

কাজিয়াতল গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র বিশ্বাস জামানত রশিদ নং ৬৮৩৭৮৪, ছাড়াও মোহাম্মদ আলী জামানত রশিদ নং ৬৮৬৩৬১, আবদুল হালিম জামানত নং ৬৮৬৩৬৫ ও মো. শহীদুল্ল্যাহ জামানত নং ৬৮৬৩৬২, এই ৪ পরিবারের কাছ থেকে ৪০০০ করে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘৪ মাস আগে মুরাদনগর বিদ্যুৎ অফিসের লাইন ম্যান জোবায়ের মিটার নিয়ে এসে গ্রাহক প্রতি আরো এক হাজার টাকা করে দাবি করে। আমরা তার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় সে আবার মিটার নিয়ে ফেরত চলে যায়। অফিসে অসংখ্যবার ঘোরাঘোরি করে এখন পর্যন্ত আমরা আর সংযোগ পেলাম না।

ভূক্তভোগী আরেক গ্রাহক মোহাম্মদ আলী হাতে তাদেও জামানতের রশিদ দেখিয়ে বলেন, জামানত জমা দেয়ার এক বছর ২ মাস পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ আমরা পাইনি। এখন অফিসে গেলে অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, আমাদের ফাইল নাকি অফিস থেকে হারিয়ে গেছে। নতুন করে আবার আবেদন করার কথা বলেন ওই বিদ্যুৎ অফিস কর্মকর্তারা।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের ভিলেজ ইলেক্ট্রিশিয়ান ইকরামুল হক বলেন, ‘আমি তৈয়েবপুর গ্রামে প্রত্যেকের ওয়ারিং বাবদ ১০০ টাকা করে ফি নিছি। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের সকল কাজ শেষ। কিন্তু এখন তো মিটার দেওয়া বন্ধ।’

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের উপমহা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি অনেক আগের তাই আমার জানা নেই। গ্রাহকরা জামানতের রশিদ নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করলে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।

Categories: কুমিল্লা

Tags: