বাগেরহাট মেরিন একাডেমী’র অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রদের বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ বাগেরহাট ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানে চলছে প্রকাশ্য দুর্নীতি। ১৭টি খাতে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সিরাজুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও তার কুশ পুত্তলিকা দাহ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। হাজারো শিক্ষার্থী সোমবার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করে প্রতিষ্ঠানের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীদের তোপের মূখে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম আগেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম অফিসের কাজে ঢাকায় রয়েছেন বলে সাংবাদিকদের কাছে মুঠোফোনে দাবি করেছেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ , অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম নিন্মমানের খাবার সরবরাহ করে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। গ্যাস বাবদ ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকার বরাদ্দ পেলেও গ্যাস বাবদ শিক্ষার্থীর্দের নিকট থেকে অর্থ আদায় করেন। সুইপারসহ বেশ কয়েকটি পদে কোন লোক নিয়োগ না দিয়ে তাদের কাগজে কলমে নাম দেখিয়ে তাদের নামে বেতন ভাতা উত্তোলন করে তা নিজে আত্মসাৎ করেছেন। হোস্টেলে বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে সিট নাই বলে শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখা হয়। এছাড়া ভর্তি বানিজ্য, আবাসিক হলে আসন বরাদ্দের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। অকারনে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের হয়রানী করা হয় স্টাফদের দিয়ে। তার এই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেওয়ার ভয়ভীতি দিয়ে আসছেন।

স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ওই অধ্যক্ষ এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করছেন। এমনকি ঢাকায় জায়গা ক্রয় করেছেন বলেও প্রচার রয়েছে। তার সেচ্ছাচারিতার কারনে পুরো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জিম্মি হয়ে আছে। আমরা তার হাতে থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং প্রকাশ্য আর্থিক দুর্নীতি’র বিচারসহ তার অপসারণের দাবিতে আজ মানববন্ধন ও তার কুশপুত্তলিকা দাহ করলাম। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে অপসারণ করা না হলে ক্লাস বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। বাগেরহাট ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি’র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার বিরুদ্ধে যেসব অনিয়মের অভিযোগ এনে আন্দোলন করছে তা সব মিথ্যা। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। অফিসের কাজে আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। প্রসঙ্গতঃ ঢাকায ১৭ কোটি টাকার জায়গা ক্রয়সহ ১৭ টি খাতে দুর্নীতি’র অভিযোগ উত্থাপন করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোকালে লিফলেট বিতারন করেছে।##

Categories: অপরাধ ফলোআপ,খুলনা,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,মতামত বিশ্লেষণ,শিক্ষা বাতায়ন,সারা দেশ