বাগেরহাটে সোহরাব হত্যা দুর্ধর্ষ পরান ডাকাতে’র মৃত্যুদন্ড, একজনের যাবজ্জীবন ও ২৯ জনের ৫ বছর করে কারাদন্ডাদেশ

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ বাগেরহাটের মোরেলঞ্জের চাঞ্চল্যকর সোহরাব হোসেন হত্যা মামলায় আদালত দুর্ধর্ষ আসামী পরান ডাকাত কে মৃত্যুদন্ড, একজনকে যাবজ্জীবন এবং অপর ২৯ আসামিকে ৫ বছর করে কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে আদালত দন্ডপ্রাপ্ত ৩১ আসামির সকল কে অর্থদন্ডের নির্দেশ দেন। আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোঃ জাকারিয়া হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত মামলার অন্যতম ও আলোচিত আসামি আতহার আলী ওরফে পরান বাবুকে মৃত্যুদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আব্দুর রশিদকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদন্ডের নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া এ মামলায় অভিযুক্ত অপর ২৯ আসামিকে ১৪৭ ধারায় দুই বছর এবং ১৪৮ ধারায় তিন বছর করে মোট ৫ বছর করে কারাদন্ড দেন । একই সাথে ওই ২৯ আসামিকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৫ মাস করে কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। আর রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিসহ ২৬ জন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলো। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি হলো, বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামের ইউসুফ তরফদারের ছেলে আলোচিত ডাকাত ও সন্ত্রাসী আতাহার আলী ওরফে পরান বাবু এবং যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হচ্ছেন আব্দুর রশিদ। আলোচিত ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ডাকাত হিসাবে চিহ্নিত আতাহার আলী পরান বাবু মামলায় জামিনে থাকাকালীন বাগেরহাট জেলা সদরের একজন কুখ্যাত সংবাদকর্মীর মটরসাইকেলে করে চলা ফেরা করত বলে প্রর্ত্যক্ষদর্শীরা জানান। বুধবার রায় ঘোষনার পর আদালত প্রাঙ্গনে ওই সংবাদকর্মীর ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন আদালতে উপস্থিতি’রা ।

দন্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলো, সিদ্দিকুর রহমান, হান্নান, রবিউল শিকদার, রাজ্জাক শিকদার, বাবুল হাওলাদার, আব্দুর রব শেখ, আব্দুল করিম শেখ, খলিল শেখ, হাদিস গাজী, মোজাহার গাজী, আনোয়ার হাওলাদার, কালা বাবুল, দিপু ওরফে দিপংকর, হাকিম, হেমায়েত, রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রব শিকদার, ফরহাদ হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল ওহাব, গোলাম ফারুক, বাবুল হাওলাদার, পিকলু সরদার, শুক ওরফে সুলতান, মাসুদ শেখ, তরিকুল ইসলাম, মোজাহার ওরফে মোতাহার গাজী, আসাদ শেখ ও আজাহার ওরফে মোজাহার তরফদার। আসামীদের বাড়ি বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামে বলে জানা গেছে। নিহত সোহরাব আলী শেখ বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাজিরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত সুত্র ও মামলার নথি থেকে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে আসামিরা ২০০১ সালের ১৮ জুন সকাল ১০টার দিকে পরান বাবু এবং ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রকাশ্য জনসম্মুখে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গাজিরহাট গ্রামের সোহরাব আলীর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং বাড়িটি ঘিরে সোহরাবসহ তার পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে সোহরাব বাড়ি থেকে বের হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আসামিরা ধাওয়া করে তাকে গুলি এবং কুপিয়ে হত্যা করে। যাবার সময় আসামীরা বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে উল্লাস করতে করতে চলে যায়।

এঘটনায় নিহতের স্ত্রী কোহিনুর বেগম ঘটনার দিনই ২৬ জনের নাম উলে¬খসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মোড়েলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন (ডিবি) এসআই মোঃ রেজাউল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষে ওই বছর ১১ ডিসেম্বর ৩৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানী কালে ১১ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডাদেশ ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডঃ সীতা রাণী দেবনাথ এবং আসামী পক্ষে ছিলেন এ কে আজাদ ফিরোজ টিপু।##

Categories: অপরাধ ফলোআপ,খুলনা,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,মতামত বিশ্লেষণ,সারা দেশ