১৪ ফেব্রুয়াির, আজ শুধুই ভালোবাসার দিন কিন্তু কেন?

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ আজ ভালবাসার দিন। শুধু তরুণ তরুণী নয়, সব বয়সের মানুষের। ভালবাসা শব্দটা বহুমাত্রিক। এ ভালোবাসা মা, বাবা, সন্তানের, তেমনি বন্ধুর প্রতি বন্ধুরও। এই ভালবাসা একান্ত নিজের। তাই ব্যক্তিগতভাবে বেশি পালন করা হয়ে থাকে দিনটি। যদিও প্রতিদিনই ভালবাসার। ইতিহাসবিদদের মতে দুটি রোমান প্রথা থেকে এই দিনটির উৎপত্তি। এক চিকিৎসক ফাদার সেইন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ভ্যালেনটাইন ডে। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টান বিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেইন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদন্ড দেন।

ভ্যালেন্টাইন কথা দিয়েছিলেন তিনি তার সাধ্যমতো চিকিৎসা করবেন। মেয়েটির চিকিৎসা চলছিল এমন সময় হঠাৎ একদিন রোমান সৈন্যরা এসে ভ্যালেন্টাইনকে বেঁধে নিয়ে যায়। ভ্যালেন্টাইন বুঝতে পেরেছিলেন,খ্রিস্টান হওয়ার অপরাধে তাকে মেরে ফেলা হবে। ২৬৯ খ্রিষ্টাব্দে বা কারও মতে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোম সম্রাট ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। তার আগে ভ্যালেন্টাইন অন্ধ মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে একটি চিরকুট লিখে রেখে গিয়ে ছিলেন। তাকে হত্যার পর কারাপ্রধান চিরকুটটি দিয়ে ছিলেন মেয়েটিকে। তাতে লেখা ছিল,‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’(‘ফ্রম ইউর ভ্যালেনন্টাইন’)। মেয়েটি চিরকুটের ভেতরে বসন্তের হলুদ ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পেয়েছিল কারণ, ইতোমধ্যে ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় মেয়েটির অন্ধ দু’চোখে দৃষ্টি ফিরে এসেছিল।

ভালবাসার এসব কীর্তির জন্য ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ১৪ তারিখ কে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে এই দিনটিকে মানুষেরা ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালন করে আসছে। অন্যদিকে প্রাচীন রোমে ১৪ ফেব্রুয়ারী ছিল রোমান দেব-দেবীর রানী জুনোর সম্মানে ছুটির দিন। জুনোকে নারী ও প্রেমের দেবী বলে লোকে বিশ্বাস করত। কারো কারো মতে ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবস হওয়ার কারণ ছিল এটিই। আবার কেউ বলেন, রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস ২০০ খ্রিস্টাব্দে দেশে বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধ করে ছিলেন। তিনি ঘোষণা দেন, আজ থেকে কোনও যুবক বিয়ে করতে পারবে না। যুবকদের জন্য শুধু যুদ্ধ তার মতে, যুবকরা যদি বিয়ে করে তবে যুদ্ধ করবে কারা? সম্রাট ক্লডিয়াসের এ অন্যায় ঘোষণার প্রতিবাদ করেন এক যুবক। যার নাম ভ্যালেন্টাইন।

অসীম সাহসী এ যুবকের প্রতিবাদে খেপে উঠেছিলেন সম্রাট। রাজদ্রোহে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয় তাকে।
১৪ ফেব্রুয়ারী ঐ যুবকের ভোরবেলাতে তার মাথা কেটে ফেলা হয়। ভালোবাসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে তখন থেকেই এ দিনটিকে পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র উৎপত্তির বিষয়ে আরেকটি সম্পূর্ণভিন্নমত রয়েছে। এই মতের লোকেরা বলেন,ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে প্রিয়জনকে ভালোবাসার বার্তা পাঠানোর আদৌ কোনও সম্পর্ক নেই। প্রাচীনকালে মানুষের বিশ্বাস ছিল, ১৪ ফেব্রুয়ারী হলো পাখিদের বিয়ের দিন। পাখিরা বছরের দ্বিতীয় মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডিম পাড়তে বসে। আবার কেউ বলেন, মধ্যযুগে শেষ দিকে মানুষ বিশ্বাস করত এদিন থেকে পাখিদের মিলন ঋতু শুরু হয়। পাখিরা সঙ্গী খুঁজে বেড়ায়।

পাখিদের দেখাদেখি মানুষও তাই সঙ্গী নির্বাচন করে এ দিনে। বর্তমান সময়ে এসে ভ্যালেন্টাইন্স দিবসের কদর প্রবল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাশ্চাত্যে এ উৎসব মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষরা এই দিবস উপলক্ষে এই দিনে প্রায় কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে। ভালবাসা দিবসের জন্য মানুষেরা কার্ড, ফুল, চকোলেট ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী ক্রয় করেন। প্রায় আনুমানিক ৩ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদান করে একে অপরের মাঝে । বাংলাদেশেও এ দিনদিকে তরুন তরুনীরা বিশেষভাবে পালনে করে। মফস্বলেও এটি বেশ জনপ্রিয়। আধুনিক সমাজে এ দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে চলেছে।##

 

 

Categories: আন্তর্জাতিক,জাতীয়,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,বিনোদন,মতামত বিশ্লেষণ,সারা দেশ,সিলেট