কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কবিতা


এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ   

“প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের টানাগদ্যের
কোলাজ কাব্যপট এবং তাঁর সম্পর্কে কলম ধরেছেন
USA-থেকে বিশিষ্ট সাংবাদিক আদিত্য বসু”

=====================================

কবি পরিচিতি
==========
[ কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক ! জন্ম ১৯৬৪  সন , ১৬-ই জুন !
কবি , ছোটগল্পকার , প্রাবন্ধিক , শিশুসাহিত্যিক, এবং
সমালোচক ! সাহিত্যের সমস্ত শাখাতেই তাঁর প্রতিভার
স্বাক্ষর মেলে ! কবি বিদ্যুৎ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে
উল্লেখযোগ্যঃ~ ক ) কথা না রাখার কথা-আনন্দময়ী
প্রকাশনী , খ) গাছবৃষ্টি চোখের পাতা   ভিজিয়েছিল
গ ) নির্বাচিত কবিতা-পত্রাবলী প্রকাশনী , ঘ ) ঢাকা ,
বাংলাদেশ থেকে ছোট কবিতা ডট কম থেকে প্রকাশিত
নীল কলম ও একান্নটা চুমু-ইত্যাদি ! সম্পাদনা করেনঃ-
বাংলাদেশ থেকে দৈনিক কিশোরগঞ্জ ও লেখক কবি ও
কবিতা~নামক প্রথম শ্রেণীর পত্রিকায় ! কলকাতা থেকে
একযোগে প্রচারিত RADIO-JU , এবং বাংলাদেশের
থেকে www.radiokaratoa.com এর সাথে কবি বিদ্যুৎ
আদ্যোপান্ত ভাবে যুক্ত এবং সঞ্চালক , অংশগ্রহণকারী !
কলকাতা দূরদর্শন ও বেশ কিছু বেসরকারি টেলিভিশন
চ্যানেলে নিয়মিত কবিতাপাঠ ও সাক্ষাৎকার দিয়ে তিনি
বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন ! কবি বিদ্যুৎ-তাঁর
জন্মস্থানঃ~ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার প্রাণ
শ্রীরামপুরে বসেই সমস্ত বিশ্বের বাঙালি পাঠকদের মন,
প্রাণ-কে জয় করে চলেছেন ! তাঁর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে—
জীবন চেতনার প্রতিভু পাঠক অনুধাবন করে আসছেন
চল্লিশ বছর ধরে —
¤ পরিচিতি লিখনঃ~ আদিত্য বসু , USA ]                                                                                                                                                                                                                                                                                                                         =====================================

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের একগুচ্ছ কবিতা                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                     ==========================

১ )
বিশিষ্ট মৃত্যুর কথা

এ রকম এক-একটা পথ চোখ ছাড়িয়ে ছায়ার ভেতর
মায়ার খেলা ! সব হাওয়াতে চিনতে পারি  ;
তুমি ছবিময় **** মনের মধ্যে ঘোলাটে হয়ে দুলছে
তোমার দৃশ্যের ঘ্রাণ
এ মহিমা প্রতিফলিত , নির্জনে নীল উদ্ভাসিত, —
তবুও কেন অতল প্রাণে বিবর্ণ স্তব্ধতা  ! তিন প্রহরের
ঘুম ভ্রমণে পথ হেঁটে যায় শরীর নিয়ে
মনোহরণ কাজল চোখে মেঘ ভেসেছে চাঁদের বুকে
খুব সৌখিন অপ্সরীদের নগ্ন দেহের অস্থিরতা
ভুবন ডাঙার কাতর হাওয়া  !

২  )
অন্তরীক্ষ এবং আমি

কী এক ক্লান্তিকর খেলায় জানলা ঠেলে বৃষ্টি এলো
হাওয়ার ভেতর গুবরে ওঠে আকাশবাণী , —
শূন্য থেকে ফুলবাগানের তল দেখা যায় শ্রাবণ ভোরে
তখন আমি আদিগন্ত স্বপ্ন নিয়ে বোতামবিহীন ****
সর্বনাশের উপদ্রবে যোজনব্যাপী অন্তরীক্ষে মুখ
লুকিয়ে আরও ভিতর , — তার-বেতারে যাই ঘটে যাক
অনাদিকালের প্রাচীন খেলা
চোখের পাতায় আসছে যাচ্ছে চেনা অচেনা
ঠান্ডা হাওয়া  ! আর একটিবার জীবন বদল  ; আর
একটি বার নবাগত ভয়
কবিতার সাথে ড্যাশ-রেফ~গুলো আধো ঘুমন্ত
মর্মাহত একই রকম !

৩  )
নির্ঘুমে জীবন বদল-কথা
অন্তরীক্ষে বেশ কিছু কাল ওজনের কাঁটা
দেখি ওঠে~নামে , — কী এক ভীরু চোখ মনে মনে
অসুখ এঁকেছে বুকে
রাস্তার কাছে প্রহরী ছিল
নিঃশব্দে হিম ****
ওখানে গোপন করা সমস্ত প্রেম পায়ের তলায়
কান্নায় ভিজে ওঠে, — এককাল ঘুরতে ঘুরতে পথ
গুলো সোজা রাস্তায় ছিল না
কিছু শূন্যতার মধ্যে উপচ্ছায়ায় ভেসে গেছে
কস্ত্তরীর ঘ্রাণ ****
অন্তরীক্ষে উড়ে যায় যাবতীয় পার্থিব ইতিহাস  !
সেই স্মৃতি ক্ষমা চায় , সেই চোখ ডুব দেয়
বোতামবিহীন বুকে , — এরপর দিনরাত প্রতিটা জন্মের
চিহ্ন নিয়ে ছবি আঁকি মেঘলা আকাশে  !

৪  )
বিপরীত মেরুকরণ ও মৃত্যুপথ

        চলে যাবার ইচ্ছা
হ’লে কথা স্তব্ধ হয় অবেলার সব কিছু ***
এভাবে পিছিয়ে এলে মাটির কথা মরম ক্ষত হয়
একটানা অন্ততঃ স্বপ্নে অহর্নিশ  !
যা কিছু আবেগ নিয়ে একটা পৃথিবীর তফাৎ চেওনা, —
এই-তো নিয়মের বিপরীত মেরু
নির্ঘুম রোমাঞ্চ না-হোক , তবুও কথাহীন ঠোঁটে
নীরব মন্ত্রে দীক্ষিত কর চুম্বন !
এসো ফিরে এসে দেখ জীবন-টা কী ভাবে আছে
সত্য যে হয় , চোখ তার সহজ কথা বলে
এই রেখাগুলো থেকে কবেকার অদ্ভুত প্রেত ধর্ম ভ্রষ্ট
হবার ইশারা করে গেছে সেই একাধিক জন্মের পরে  !
সেজন্যই-তো মৃত্যুর প্রভূত কারণ গুলো ভাগ হয়-নি
একগুচ্ছ দুঃখের ভেতর **** এবার আর একবার
নিজের মত করে মৃত্যু নিয়ে বাঁচার ইচ্ছা আছে  ;
বলে রাখলাম তোমায় প্রিয়তমা  !

৫  )
বৃষ্টিপাতের মধ্যে কাঙাল শ্রদ্ধা
ফুল না ফোটাতে যদি ঝড় ওঠে
ভালোবাসা ভুল হয়ে যায় বারে~বারে  ! মন থেকে
সমস্ত মন উদাস হয়ে এলে আমি তখন ক্লাস নেব
কজন মৃত মানুষের ***** এবার আমিও স্বপ্ন দেখার
কথা ভুলে তোমার পায়ের কাছে আশ্রয় নেব কয়েক
জনম  !
তুমি-তো সত্য নও , তবে কেন সব সত্যি আড়ালে
লুকিয়েছো ? প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি কতবার প্রণাম ,
আলোগুলো জ্বেলেছি কত-শত বার ****
মহা প্রলয়ে সব কিছু ছিন্নভিন্ন হবার পর একবার যদি
তুমি বলতে ভালবাসি  ; তাহলে কি সরে যেতাম সেই
মহাপ্রস্থানের কথা মনে করে  !

৬  )
বাঙময়  পাখি
স্বপ্নে দু’লেছে চোখ  ; সম্ভ্রমে তাল~লয়~সুর
ভ্রষ্ট স্মৃতির ঘ্রাণে সন্ধান ধূ-ধূ আহত আলম্ব গৃহকোণ !
দেবার যতটা ইচ্ছা  ; হাত পেতে নিঃছিদ্র
নিশা-রাত্রিকে পৌঢ়ত্বের ফ্যাকাশে পিপাসায়
স্বরচিত উদ্ভাসে ****
অঙ্ক পথে আমার আমৃত্যু চলা , কথা বলা  ! চেয়ে
নেওয়াটুকু , — প্রথম লজ্জা ভাঙা নব্য দেহের
গোলমেলে ঘুম আর ঘুমন্ত ঘুম —
চোখের অর্দ্ধেক তৃষ্ণা সাবধানী তুরুপের তাস ,
কী এক হুতাশ প্রশ্বাসে মৃত মন রাতের মুমূর্ষু আকাশ !
দিন-রাত ঘেমে ওঠা নয়নের নির্লিপ্ত কামড়
একছত্র কবিতার লুকানো বয়স  !!

Categories: আন্তর্জাতিক,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,বিনোদন,ভারত,মতামত বিশ্লেষণ,শিল্প ও সাহিত্য,সম্পাদকীয়