বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক বন্ধ করে দেয়া দোকানপাট অবশেষে পুলিশ খুলে দিয়েছে

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ দলীয় একজন ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক বন্ধ করে দেয়া দোকানপাট অবশেষে পুলিশ সুপারের নির্দেশে খুলে দিয়েছে থানা পুলিশ। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার দৈব্যজ্ঞ্যহাটি ইউনিয়নের পোলেরহাট বাজারে। পোলের হাট বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতা শহীদুল ফকির বিশেষ ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন পেয়ে দৈবজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে চলেছে।

অন্যের টাকা পয়সা সংক্রান্ত একটি ঘটনা নিয়ে পোলের হাট বাজারের লেপতোশক দোকানদার মোঃ আবুল হাসেম খলিফার নিকট থেকে শহীদুল ফকিরের লোকেরা ৩ লাখ টাকা জোর করে আদায় করে নেয় এবং আরো টাকার দাবীতে হুমকী- ধমকী অব্যহত রাখে। এ অবস্থায় হাসেম খলিফা গত ৬ মে বাগেরহাট পুলিশ সুপার বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। পুলিশ সুপার বিষয়টি অন্তরিকভাবে গ্রহন করে তদন্তে’র জন্য গোয়েন্দা পুলিশে’র এসআই মোঃ জহিরুল ইসলাম কে দায়িত্ব দেন। এস আই জহিরুল বিষয়টি তদন্ত শুরু করলে চেয়ারম্যান শহীদুল ফকির ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৯ মে পোলের হাট বাজারের ৩ টি ওষুধে’র দোকানসহ ১৩ টি দোকান জোর করে বন্ধ করে দেয়। এতে ছোট বড় সকল দোকানদারদের রুটি রুজি বন্ধ হয়ে যায়।

ফার্মেসী ব্যবসায়ী হুমউন কবির প্রিন্স বলেন, আমরা আওয়ামী পরিবারের। অথচ, শহীদুল ফকিরের লোকেরা এসে ্এখানের সকল দোকান বন্ধ করে দোকানদারদের জিম্মি রেখে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ধামা চাপা দেযার চেষ্টা হচ্ছে। বিষয়টি বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কে জানালে গত সোমবার বিকালে (১৪ মে) পুলিশ সুপারের নির্দেশে মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ পোলেরহাট বাজারে এসে সকল দোকান খুলে দেয় । আর দোকান বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায় জড়িত ৩ জন কে আটক করে নিয়ে যায়। আটককৃত’রা পুলিশ কে জানায় চেয়ারম্যান শহীদুল ফকিরের নির্দেশে তারা দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের অত্যাচারে অতিষ্ট। সঠিকভাবে ব্যবসা বানিজ্য করতে পারিনা। প্রতিবাদ করলে তিনি বন্দুকসহ তার বাহিনী সদস্যদের নিয়ে নির্যাতন করে। তার বিরুদ্ধে থানায়, পুলিশ সুপার বরাবর ও আদালতে একাধিক অভিযোগ, মামলা করা হলেও কোনটির বিচার হয়না।

দৈব্যজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খান কিছলুর রহমান খোকন ও সাধারন সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার বলেন, বিএনপি’র যুবদল নেতা শহীদুল ফকির একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার থাকাকালীন আওয়ামী লীগ অফিস ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করাসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নির্যাতনকারী হিসাবে আলোচিত। বিগত ইউপি নির্বাচনে আকস্মিকভাবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এখন আরো বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে এখনই আইনের যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন না হলে এলাকায় বড় ধরনের কোন অপরাধ ঘটতে পারে। গোয়েন্দা পুলিশে’র এসআই মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান শহীদুল ফকির আইনের উর্দ্ধে নয়, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ফকিরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।##

 

Categories: অপরাধ ফলোআপ,খুলনা,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,মতামত বিশ্লেষণ,সারা দেশ