রাণীনগরে কলেজ ছাত্রীর ছবি পর্ণোগ্রাফী করে টাকা দাবি

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ নওগাঁর রাণীনগরে কলেজ পড়–য়া এক ছাত্রীর স্থির ছবি দিয়ে পর্ণোগ্রাফী তৈরি করে ছাত্রীর বাবার কাছে টাকা দাবি করেছে আবাদপুকুর বাজারের স্মৃতি স্টুডিও’র কর্মচারী গোবিন্দ চন্দ্র নামের এক যুবক। দাবিকৃত টাকা না দিলে মেয়ের নগ্ন ছবি ইন্টারনেট ও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেয় ওই কর্মচারী। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ময়িয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় একটি মহল। জানা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের জনৈক ব্যক্তির মেয়ে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী (১৮) তার মোবাইল ফোনে তোলা স্থির ছবি প্রিন্ট করার জন্য আবাদপুকুর বাজারে শ্রী বিপ্লবের স্মৃতি স্টুডিও’তে যায়।

মোবাইল ফোন থেকে ছাত্রীর ছবি প্রিন্ট করার সময় ওই স্টুডিও’তে কর্মরত কর্মচারী একই উপজেলার জলকৈ রায়পুর গ্রামের সুরেন্দ্রনাথের ছেলে শ্রী গোবিন্দ মন্ডল কলেজ ছাত্রীর অজান্তে তার ফোন নাম্বার, ফোনে থাকা আরো ছবি ও ইমু নাম্বার নেয়। পরে ওই ছবি গুলো ফটোশপের মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফী করে গত ৬ মে রবিবার সন্ধ্যায় ছাত্রীর ইমু নাম্বারে সেন্ট করে গোবিন্দ। তারপর গোবিন্দ ছাত্রীর বাবাকে ফোন করে মেয়ের ইমু খুলে দেখতে বলে। কিছু পর গোবিন্দ আবার ফোন করে বলে ওই রকম আরো অনেক ছবি আছে। এমন কথা শুনে কলেজ ছাত্রীর বাবা মান-সম্মানের ভয়ে অসহায়ত্ব বোধ করলে চতুর গোবিন্দ তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সব গুলো ছবি ইন্টারনেট ও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যে এলাকায় জানাজানি হলে গোবিন্দ তার মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে গাঁ ঢাকা দিয়েছে বলে ছাত্রীর বাবা জানান। অপর দিকে গত সোমবার বিকেলে গোবিন্দর পক্ষ থেকে ঘটনাটি গোপনে মিমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দিতে ময়িয়া হয়ে উঠেছে এলাকার একটি মহল । কলেজ ছাত্রীর বাবা জানান, আমার মেয়ের ছবি স্মৃতি স্টুডিওর কর্মচারী গোবিন্দ নগ্ন করে মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছে এবং টাকা না দিলে ইন্টারনেটে ও ফেসবুকে ছেড়ে দিবে বলে হুমকি দিয়েছে। এঘটনাটি নিয়ে মেয়ে তথা তার আত্মসম্মানবোধ নিয়ে আতংকিত হয়ে পরেছেন বলে জানান তিনি।

গোবিন্দ মন্ডলের সাক্ষাত না পাওয়া এবং তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভম হয়নি। এব্যাপারে স্মৃতি স্টুডিও’র স্বত্তাধিকারী উপজেলার জলকৈ গ্রামের শ্রী বিপ্লব জানান, লোকজনের মাধ্যমে শুনেছি মেয়েটির ছবি দিয়ে গোবিন্দ পর্ণোগ্রাফী করেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি গোবিন্দের সাথে বেশ কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি জানান,গোবিন্দ যদি অপরাধ করে থাকে তাহলে তার শাস্তি হওয়া দরকার। রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এএসএম সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঘটনাটি লোক মারফৎ শুনেছি। এখন পর্যন্ত মেয়ের কোন অভিভাবক থানায় বিষয়টি জানায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।##