তারাবি নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু রমজানের আনুষ্ঠানিকতা

ডেস্ক রিপোর্ট : তারাবি নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু হলো রমজানের আনুষ্ঠানিকতা। বৃহস্পতিবার (১৭ মে) এশার নামাজের পর সারাদেশের মুসল্লিরা মসজিদে মসজিদে পড়েছেন তারাবি নামাজ। শুক্রবার (১৮ মে ) থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস।

প্রতি রোজার আগের রাতে এশার নামাজের পর তারাবি নামাজ পড়া হয়। প্রথম তারাবি নামাজে অংশ নিতে রাজধানীর প্রায় সব মসজিদেই ভিড় ছিল মুসল্লিদের। পাঞ্জাবি-পাজামা পরে জায়নামাজ নিয়ে তারা ছোটেন মসজিদের দিকে।
রাজধানির বড় কাটারা মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি আনসারুল হক ইমরান বলেন, “ইসলাম ধর্মের মৌলিক ৫টি স্তম্ভের মধ্যে রোজা একটি ফরজ ইবাদত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে যে একটি ভালো কাজ করবে, সে একটি ফরজ আদায় করলো। যে ব্যক্তি একটি ফরজ আদায় করবে, সে ৭০টি ফরজ আদায়ের সমান নেকি অর্জন করবে।’ এ কারণেরই রমজানে অধিক পুণ্যের আশায় মুসলমানরা ইবাদত বেশি করার চেষ্টা করেন।”
রাজধানীর অন্যান্য মসজিদের মতো শুক্রাবাদ জামে মসজিদেও ছিল মুসল্লিদের ভিড়। এই মসজিদে তারাবি পড়তে আসা মুসল্লি আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘আজ প্রথম তারাবির নামাজ তাই কাজ সেরে দ্রুত মসজিদে এসেছি।’ তিনি জানান, অন্য সময় ঠিকমতো মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়া হয় না। কিন্তু রমজানে চেষ্টা করেন সব নামাজ মসজিদে পড়তে।
মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম বলেন,‘রমজান মাসেই নাজিল হয়েছে পবিত্র কুরআন। কুরআন নাজিলের মাস রমজানে রহমত, বরকত এবং মাগফিরাত কামনায় ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং তারাবি জামায়াতে আদায় করা মুসলমানদের জন্য প্রয়োজনীয়। বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদত করা কথাও হাদিসে এসেছে।’
বাংলাদেশ জমিয়তু উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘রমজান মানবতার কল্যাণে কাজ করার মতো একটি মহান মাস। এ মাসে মুসলমানদের ঘরে যে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের পয়গাম আসে, এর প্রভাব গোটা সমাজেই পড়ে। তাই সব ধর্ম ও মতের মানুষদেরও রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা উচিত। রোজাদারদের প্রতি সহমর্মী হওয়াটা পারস্পরিক ধর্ম পরিপালনের ক্ষেত্রে অনেক বড় মানবতা।’
এদিকে, পবিত্র রমজান মাসে খতম তারাবি পড়ার সময় সারাদেশে সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি জানায়, পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রায় সব মসজিদে খতম তারাবিতে পবিত্র কুরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তিলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে। তবে কোনও কোনও মসজিদে এর ভিন্নতা রয়েছে। ফলে প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী মুসল্লিদের মধ্যে কুরআন খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে একটি মানসিক অতৃপ্তি কাজ করে। কুরআন খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি নিরসনে রমজানের প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা হিসাবে ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিনে ১ পারা হিসাবে ২১ পারা তিলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ পবিত্র লাইলাতুল কদরে কুরআন খতম করা সম্ভব হবে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে দেশবরেণ্য আলেমদের সঙ্গে আলোচনা হলে তারাও এ পদ্ধতিতে খতম তারাবি পড়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বুধবার (১৬ মে) বায়তুল মুকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৪ জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ৪৭টি কেন্দ্র এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার পবিত্র শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং শুক্রবার থেকে পবিত্র রমজান মাস গণনা শুরু হবে।
আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্রলাইলাতুল কদর পালিত হবে।

Categories: ইসলাম ও জীবন,প্রধান নিউজ

Tags: