ভুরুঙ্গামারীতে এক অসহায় নারীর গাভী ও বাচ্চা বিক্রি করল ইউপি চেয়ারম্যান!

ভুরুঙ্গামারীতে এক অসহায় নারীর গাভী ও বাচ্চা বিক্রি করলইউপি চেয়ারম্যান!

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক অসহায় নারীর গাভী ও বাচ্চাজোড় কওে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ছোটখাটামারী গ্রামের ময়নালহ কতার স্ত্রী মোছাঃ বকুল বেগমকে তালাকনামা দিয়েও দীর্ঘদিন থেকে অন্যত্র বসবাস করে। অসহায় বকুল বেগম সন্তান নিয়ে অন্যেও বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় চাউলের মিল চাতালে শ্রমিকের কাজ কওে একটি গাভীসহ বাচ্চা কিনেন এবং তার ভাইয়ের শ্বশুর আব্দুস সামাদের বাড়িতে লালনপালন কওে আসছিল।

গত ১৫ মে জয়মনিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনগ্রাম পুলিশ শাহজাহান ও রফিকুলকে পাঠিয়ে ওই গাভী ও বাচ্চাটি বকুল বেগমের অনুপস্থিতিতে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় আব্দুল হাইমিলার নামে এক ব্যক্তির নিকট ৫০হাজার টাকায়বিক্রি করে দেয়। খবর পেয়ে বকুল বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তোমার স্বামীর নিকট বারেক ও সাইফুর টাকা পায় তাই গাভী বিক্রি কওে তাদের দেনা পরিশোধ কওে দিলাম। বকুল বেগম জানান, বকুলের স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ তার কোন যোগাযোগ নাই। স্বামীর দায় দেনার জন্য আমার গাভী চেয়ারম্যান নিবে কেন? এলাকাবাসী বলেন, জালাল চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে অসহায় মহিলার উপর অন্যায়ভাবে গাভী ও বাচ্চা বিক্রি করেছে।

অসহায় বকুল বেগম ন্যায় বিচার পেতে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ময়নালের নিকট অনেকেই টাকা পায় তাই আমি বকুলের বাছুরসহ গাভীটি বিক্রি কওে তাদের দেনা পরিশোধ করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে এটা আইন সম্মত নয় এবং নিলামের মত বিক্রি করা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বহির্ভুত। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব এবং আইনগত ব্যবস্থা নেব। উল্লেখ্য ইতিপুর্বেও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী রাস্তার গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে।##