ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ধনাঢ্য দম্পতি কর্তৃক গৃহ পরিচারিকাকে অমানষিক নির্যাতন। কোথায় মানবাধিকার…??

ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ধনাঢ্য দম্পতি কর্তৃক গৃহ পরিচারিকাকে অমানষিক নির্যাতন। কোথায় মানবাধিকার…??

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ সাবিনা খাতুন পিতা- মৃত মাতা- মৃত অর্থাৎ এতিম ও মিসকিন। সাং- চরবলেশ্বর, থানা- জিয়ানগর জেলা- পিরোজপুর।গৃহকর্তার নামঃ সিদ্দিক আহম্মেদ,গৃহকর্ত্রীর নামঃ নূরজাহান ঢাকায় ধানমন্ডি এলাকার রোড নাম্বার- ৯-এ ১৭ নং বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় এই ভিকটিম সাবিনার কাছে জানা গিয়েছে যে, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে মেয়েটির পায়ে গরম চা ঢেলে পড়ে পুড়ে যায়। এরপর থেকে প্রায় এই দুই মাস যাবৎ সাবিনা নামের ঐ মেয়েটি দৈনন্দিন কজকর্ম করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

ঢাকার ধানমন্ডিতে এক ধনাঢ্য দম্পতি কর্তৃক গৃহ পরিচারিকাকে অমানষিক নির্যাতন। কোথায় মানবাধিকার…??

এ কারণেই তার উপর এই বিভিষিকাময় ভয়াল নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। বাড়িতে কেউ গৃহ পরিচারিকার কাজ করলে তার জিম্মাদার থাকে ঐ বাড়ির কর্তাব্যাক্তি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দেখাযায় ঠিক তার বিপরীত। কেননা! বাড়ির চাকরানী অসুস্থ্য হলে তাকে সু- চিকিৎসা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে সাবিনার ব্যাপারে চিকিৎসাতো দূরের কথা! বরং প্রতিদিন কাজ করতে না পারার কারণে গৃহবন্দি করে রেখে প্রতিদিন একবার গৃহকর্তা আরেকবার গৃহকর্ত্রী এভাবে রোজ ২বার করে পিটিয়ে শারীরিক নির্যাতন করতো। এমন কি! তাকে একাকী বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা নিতেও দেওয়া হতো না। কেননা! ঢাকায় ধানমন্ডি এলাকার রোড নাম্বার- ৯-এ ১৭ নং বাড়িতে বসবাসরত সিদ্দিক আহম্মেদ ও নূরজাহান বেগম দম্পতি সাবিনাকে কথায় কথায় বলিত যে, তোর কিছুই হয়নি। বরং তুই অসুস্থ্যতার ভান করে কাজে ফাঁকি দেওয়ার পায়তারা করছিস।

তাই কবি শুকুমার রায়ের লেখা সেই কথা যেন এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সত্যায়ন করছে যে, “কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে..? কভু আশি বিষে দংশেনি যারে!” তাই যেহেতু সিদ্দিক আহম্মেদ ও নূরজাহান বেগম দম্পতি-কে সাপে দংশেনি। সেহেতু সাবিনা খাতুনের দংশন জ্বালা কেমনেই বুঝিবে তারা। ফলে সাবিনা খাতুনকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে পিটিয়ে এমন ভাবে ক্ষত বিক্ষত করেছে। যা দেখলে পাষান হৃদয়ও বেদনা বিধুর হয়ে পড়বে। এমনকি পাঠকগণ এমন অমানবিক লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা শুনলে আপনাদের হৃদয়ও কেঁপে উঠবে। যাই হোক, পাপ যিনি করবেন.? ফলও তিনিই ভোগ করবেন। কেননা! খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনস্টপ ক্রাইসিস সার্ভিস সেন্টারে সাবিনা যখন লন্ডন বাংলা এবং কলকাতা টিভি-কে সাক্ষাতকার দিচ্ছিলেন, তখন মনের অজান্তেই কখন যে, চোঁখের পানি ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়লো সেটা উপলব্ধিও করতে পরিনি। এই ঘটনাটি সত্যিই অত্যান্ত হৃদয় বিদারক। এই ঘটনায় মানবাধিকার চরম ভাবে লঙ্ঘন ও উপেক্ষিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি। ##

Categories: অপরাধ ফলোআপ,খুলনা,জাতীয়,টপ নিউজ,ঢাকা,প্রধান নিউজ,মতামত বিশ্লেষণ,সম্পাদকীয়,স্বাস্থ্য কথন