ঈদকে সামনে রেখে লক্কর ঝক্কর বাসগুলো রাস্তায় নামছে এখন

ঈদকে সামনে রেখে লক্কর ঝক্কর বাসগুলো রাস্তায় নামছে এখন

এমডি আবু জাফর, বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ ঈদের আর কয়েকদিন বাকি। প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও অনেকের শেষ পর্যায়ে। কর্মস্থলে ছুটি পেলেই এখন সবাই ছুটবে বাড়িতে। ভালোবাসার টানে শেকড়ে যাবে লাখো মানুষ। শহর থেকে গ্রামে ফেরার সেই যাত্রাপথে অসংখ্য বিপদ ঝুঁকি রয়েছে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য। মহাসড়কের কোথাও কোথাও রয়েছে ঝুকিপূর্ণ রাস্তার আতংক। আবার সেই রাস্তায় ফিটনেসহীন রং করা গাড়ি যাত্রীদের ঘরে ফেরায় শঙ্কা বাড়িয়ে দেয় অনেকগুন । চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বারইয়াহাট এলাকার কিছু গ্যারেজে ও চলছে এমন তোড়জোড়। পুরনো ফিটনেসহীন গাড়িগুলো রঙচঙ করে রাস্তায় নামানোর চলছে এবারের ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে । ঈদের আনন্দ শেষে এই গাড়ীগুলোতে করেই ফিরতে হবে সবাইকে আবার।

প্রত্যেক বছর যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই সড়কপথে বাসের সংকট দেখা দেয় বলে সুযোগটি নিতে চায় কিছু পরিবহণ কোম্পানি। ঈদে ঘরমুখী যাত্রী ধরতে বিভিন্ন ফিটনেসবিহীন পুরনো বাসগুলোতে ইতোমধ্যেই রঙয়ের কাজ শুরু করে শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে মালিকরা।
এখন বাকি শুধু রাস্তায় নামানো। রঙ শুকিয়ে গেলেই দু’তিন দিনের মধ্যেই মহাসড়কে নামানো হবে। এতে করে রাস্তায় বেড়ে যাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। আর দ্বিগুণ ভাড়াতো আছেই। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর হিসাব মতে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের মধ্যে বাস দুর্ঘটনায় সারাদেশে মোট সহ¯্রাধিক লোক নিহত হয়েছে গত ১ যুগে। আহত হন আরো কয়েক হাজার ।

বারইয়াহাটের ভাই ভাই ওয়ার্কশপে সরেজমিনে দেখা যায় সড়ক ও জনপথের জায়গাতেই স্থাপিত কিছু গ্যারেজ দীর্ঘদিন হাসপাতালের সামনেই চালিয়ে যাচ্ছে ওয়েল্ডিং সহ শিশু ও মহিলাদের জন্য ঝুকিপূর্ণ নানান কাজ। আবার চট্টগ্রাম বারইয়াহাট রুটের চয়েস, উত্তরা সহ লক্কর ঝক্কর ও ভাঙ্গাচোরা অনেক বাস সেখানে তড়িঘড়ি করে জোড়াতালি দিয়ে রং করার কাজ চলছে। ওয়ার্কশপের মালিক শংকর বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি অন্য জায়গা খুজছি এখনো পাইনি। আর লক্কর ঝক্কর গাড়িগুলোকে এভাবে জোড়াতালি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন গাড়ির মালিকরা আমার কাছে আনছে। আমি শুধু কাজ করছি বাকিটা তো প্রশাসনের বিষয়। গাড়ি মেরামতের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, এটা প্রতিবছরের নিয়মিত ঘটনা। ঈদে গাড়ি বেশি প্রয়োজন তাই একটু ঘষা মাজা করছি।

এই বিষয়ে ফোরলেন এর চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন গাড়ির ফিটনেস এর বিষয়টি বিআরটিএর বিষয়। আর হাসপাতালের পার্শ্বে ঝুকিপূর্ণ অবৈধ গ্যারেজ এর বিষয়ে তিনি বলেন এই বিষয়ে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। হাইওয়ে পুলিশের জোরারগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল সরকার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিআরটিএ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বারা এই বিষয়ে অভিযান পরিচালনা জরুরী। তবে সচেতন মহলের বক্তব্য কিছুটা অসেচতনতার জন্য আর কতো কান্না ঘিরে থাকবে নিরাপদ সড়ক চাই দাবী।##

Categories: অপরাধ ফলোআপ,চট্টগ্রাম,টপ নিউজ,প্রধান নিউজ,ব্যবসা ও অর্থনীতি,মতামত বিশ্লেষণ,সম্পাদকীয়,সারা দেশ