কুমিল্লার আন্তর্জাতিক মাদক সম্রাট জুয়েল মোল্লা সড়ক দুর্ঘটনায় রহস্যজনক মৃত্যু!

কুমিল্লার আন্তর্জাতিক মাদক সম্রাট জুয়েল মোল্লা সড়ক দুর্ঘটনায় রহস্যজনক মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লার কথিত শীর্ষ আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীদের একজন, গোল্ড স্মাগলার বরুড়ার সেই আলোচিত সমালোচিত জুয়েল মোল্লা নিহত!! বরুড়ার একজন প্রবাসী তরুণ ও নব্য শিল্পপতি হিসেবে পরিচিত তিনি। ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী জুয়েল মোল্লা কে ফেসবুক এবং বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম তাকে একজন আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাফিয়া হিসেবে প্রচার করছিল । স্থানীয়ভাবে নিজেকে একজন দানবীর সমাজসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বড় বড় অনুদান দিয়ে এলাকায় ছিলেন আলোচনা সমালোনায় । রাজনৈতিক ভাবেও সরব ছিলেন এলাকায়। খুব অল্প বয়সে হঠাৎ টাকার মালিক ও ফোকাস হয়েছিলেন জুয়েল মোল্লা। মোল্লা ফাউন্ডেশন এর স্বত্বাধীকারী আলহাজ্ব জুয়েল মোল্লার সৌদিআরব এবং বাংলাদেশে একাধীক ব্যবসা রয়েছে। জানা যায় রবিবার ভোর রাত আনুমানিক ৪টায় কুমিল্লা থেকে বরুড়ায় বাড়ি যাওয়ার পথে, লাইজলা নামক রাস্তার পার্শ্বে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে খাদে পরে তিনি মৃত্যুবরন করেন । বরুড়া থানার ওসি তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। পরে বাড়ি থেকে লাশ নিয়ে বরুড়া থানা পুলিশ পোষ্টমর্টাম করে বলেও জানা গেছে। মরহুমের জানাজা নামাজ আজ বিকেল ৩টায় বেলভুজ ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। বরুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বেলভুজ এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের বড় ছেলে জুয়েল মোল্লা এবং তার ছোট ছেলে সুহেল মোল্লা । তবে অকস্মাৎ এই মৃত্যুকে ঘিরে তৈরী হয়েছে রহস্যের চলছে নানা জল্পনা কল্পনা । রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়ীক কারন সহ নানা কারনেই তার অগনীত শত্রু ছিলো বলেও জানা যায় । নব্য শিল্পপতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র জগতেও যার পরিচিতি রয়েছে পর্দার আড়ালে আলোচিত সমালোচিত এই ব্যক্তির মৃত্যুতে এলাকার অনেকের সাথেই কথা বলে জানা যায়, ৩৫বছর বয়সী জুয়েল মোল্লার অস্বাভাবিক মৃত্যু অনেকেই সহজ ভাবে দেখছেন না। সৌদিআরব এর শীর্ষ ইয়বা ব্যবসায়ী বরুড়ার মোতালেব, সুমন ও অরুণের গুরু হিসেবে পরিচিত জুয়েল। গত ৭/৮ বছর আগেও এলাকার মানুষ যাকে চিনতেন না। হঠাৎ করেই আলাদিনের চেরাগের সন্ধান পেয়ে যান তিনি। গোপন অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র জগতের ঝড়ে পড়া মডেল, নায়িকা এবং তরুণীদের দিয়ে গোল্ড ও ইয়াবা চোরাকারবারির ব্যবসা করতেন তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তাকে। কথিত আছে বাংলাদেশ বিমানবন্দরে উচ্চ পদস্থ বরুড়ার এক কর্মকর্তার সাথে সখ্যতার সুত্রে শক্তিশালী স্বর্ণ ও ইয়াবা চোরাচালানের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ইয়াবা পাচারের সুবিধার জন্য খুলে বসেন ট্রাভেল এজেন্সি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তাকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদিআরব, কাতার, দুবাই, ওমান সহ বিভিন্ন দেশ নারী ও মানব পাচারকারী মোল্লা ফাউন্ডেশনের সত্ত্বাধিকারী জুয়েল অল্প কিছু দিনেই বনে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক। ঢাকা, কুমিল্লা ও বরুড়া সহ বিভিন্ন পেজায়গায় বাড়ী গাড়ী সহ বিশাল সম্পদ। শোনা যায় আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এই জুয়েল মোল্লা। প্রশাসনের বেশকিছু কর্মকর্তার সাথে তার সখ্যতা রয়েছে বলেও জানান এলাকার অনেকেই। কালো টাকা সাদা করতে এবং নিজের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে এলাকায় প্রচুর পরিমানে দান খয়রাত করতে শুরু করেন গত দুবছর ধরেই। সৌদিআরবে নিজের ইয়াবা সেন্ডিকেটের বরুড়ার প্রবাসী যুবক শান্ত নামের এক বন্ধুর সাথে গত ৪বছর আগে দ্বন্দ্বের জেরেই বেরিয়ে আসে ইয়াবা পাচারের সাথে জুয়েল মোল্লার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পায়। শত্রুতার জেরে শান্ত নামের ঐ যুবক কে ২০০০পিছ দিয়ে ফাসিয়ে দেয় পুলিশের কাছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বেশ কিছুদিন পালিয়ে থাকে জুয়েল মোল্লার হত্যার হুমকির ভয়ে । গত বছর আগষ্টে সৌদিআরব চলে যায় শান্ত, বর্তমানে সৌদিআরবে রয়েছে শান্ত। জুয়েল মোল্লার ইয়াবা ব্যবসা এবং স্মাগলিং এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় কুমিল্লার এক সাংবাদিক কে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করা হয়। এবং সে দৃশ্য মাবাইলে ধারন করা হয়। সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টাল কুমিল্লার বার্তা, বিডি মেইল৭১ সহ বেশ কয়েকটি পোর্টালে জুয়ের মোল্লার বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে ইয়াবা ব্যবসার একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট পরিবেশন করা হয়। জুয়েল মোল্লা সাংবাদিক নির্যাতনের সেই ভিডিও মেইলে পাঠিয়ে সম্পাদকদের হুমকি দেয় নিউজ সরিয়ে ফেলতে। এছাড়াও গত সপ্তাহে জাতীয় দৈনিক তরুণ কন্ঠ সহ কয়েকটি পত্রিকায় ধারাবাহীক ভাবে জুয়েল মোল্লা, রাডার মনির, অরুণ, আরিফ, মোতালেব সহ কুমিল্লার আরো বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীর নামে প্রতিবেদন প্রকাশীত হয়। এছাড়া ঢাকার এক সাংবাদিক কে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিলে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন করা হয় বিষয়টি নিয়ে। কুমিল্লা পদুয়ার বাজার এলাকার সোর্স ডিবির ক্রস ফায়ারে নিহত স্বপনের সাথে তার ব্যবসায়ী দ্বন্দ্ব এবং গোল্ড আত্মসাৎ নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিলো বলেও জানা যায়। অত্যন্ত চালাক এই জুয়েল মোল্লা দেশে বিদেশে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করলেও তার বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলতো না কেউ। নিজে সবসময় এসব কাজে ধরা ছোয়ার বাইরে থাকতেন। তাই তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে তথ্য থাকলেও প্রমান নেই। সৌদিআরব, কাতার, দুবাই সহ বিভিন্ন দেশের জেলখানায় সহজ সরল প্রায় ১১জন যুবক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা খাটছেন বর্তমানে। নিজের ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে সহজ সরল বিদেশ যাত্রীদের দিয়ে মালামাল পৌছে দেয়ার কথা বলে ইয়াবা পাচারকারী জুয়েল গোল্ড স্মাগলিং এর কাজে ব্যবহার করতেন চলচিত্রের নামি দামী মডেলদের। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে প্রায়ই সুন্দরী নয়িকাদের সাথে নিয়ে বেড়াতে যেতেন তিনি। দেশে তার এসব ব্যবসা পরিচালনা ও সহযোগীতা করেন তারই ছোট ভাই সুহেল মোল্লা, পিএস হিসেবে পরিচয় দেয়া রাশেদ খান এবং বোন জামাই নাছির মিয়াজি। রবিবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। তার আকস্মিক এই মৃত্যুতে এলাকার মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার সাথে সখ্যতা রয়েছে এমন কয়েকজনের সাথে নাম না প্রকাশ করার শর্তে আলাপ করে জানা যায়, উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন তার গাড়িতে

তিনি কখনোই একা থাকতেন না, দুর্ঘটনার সময় ও ছিলেন না । দুর্ঘটনার সময় তার গাড়ীতে ছিলেন দুজন। একজন তার পিএস সুমন মোল্লা এবং অপরজন বেলভুজ গ্রামেরই বিল্লাল হোসেন। এছাড়া কাতার প্রবাসী আরো এক যুবক ছিলেন গাড়ীতে। তবে রাসেল মুন্না নামের ঐ যুবক দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আমড়াতলি তার বাড়ির কাছে গাড়ী থেকে নেমে যায়। জুয়েল মোল্লা এ দুর্ঘটনায় নিহত হলেও গাড়ীতে থাকা অপর দুজনের গায়ে একটু আঁচড়ও লাগেনি কিংবা সমান্য আহত হয়নি তারা । খুব কমই নিজে ড্রাইভ করতেন জুয়েল। আর এতো রাতে কেন তিনি নিজেই গাড়ী চালিয়েছেন আর কি ভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে তারা নিজেরাও সন্দীহান। তবে তারা এও জানান রাতারাতি কটিপতি হওয়া জুয়েল মোল্লার দেশে এবং বিদেশে নানা কারনেই অনেকেই রয়েছেন শত্রু হিসেবে । এটা কি কেবল স্বাভাবিক সড়ক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত ভাবেই হত্যা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ। তবে আরেকটি সুত্রের তথ্য মতে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে সারারাত কুমিল্লা ক্লাবে মদ্যপান করেন জুয়েল মোল্লা ও তার বন্ধু মহলের অনেকেই । মাতাল অবস্থায় গাড়ী চালিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে চাকা ব্রাষ্ট হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি ১০/১২ফুট নিচের একটি খাদে পরে নিহত হন তিনি। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ীটিতে থাকা অপর দুজন অক্ষত এবং সুস্থ রয়েছেন।