আজ শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : আজ শনিবার শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা, ‘রথস্থ বামনং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে’। রথের ওপর খর্বাকৃতি বামন শ্রী শ্রী জগন্নাথকে দর্শন করলে তার পুনর্জন্ম হয় না।

এ বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করে ভোর হতেই ভক্তরা প্রাণের টানে ছুটে আসেন প্রেমোরথের প্রাণের ঠাকুরকে নিয়ে স্নানযাত্রার উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ রথের রশি ধরে টানতে।

পুরাণ থেকে রথ যাত্রার কথা জানা যায়। স্কন্দ পুরাণে আমরা পাই যে ইন্দ্রদ্যুম্ন নামে এক রাজা ছিলেন উত্কল রাজ্যে, (বর্তমান উড়িষ্যা) তিনি ছিলেন পরম ভক্ত। তিনি একদিন স্বপ্নাদিষ্ট হন একটি মন্দির নির্মাণের জন্যে। পরে দেবর্ষী নারদ এসে জানান স্বয়ং ব্রহ্মারও তাই ইচ্ছা, তিনি নিজে সেটা উদ্বোধন করবেন।

নারদ রাজাকে বললেন আপনি বহ্মাকে নিমন্ত্রন করুন। সেই উপদেশ মাথায় রেখে রাজা ব্রহ্মলোকে গেলেন এবং বহ্মাকে নিমন্ত্রণ করলেন। কিন্তু ব্রহ্ম লোকের সময় এর সাথে তো পৃথিবীর মিল নেই, আর পৃথিবীতে তত দিনে তাই কয়েক শতবছর পার হয়ে গেছে। ফিরে এসে রাজা দেখলেন তাকে কেউ চেনে না। যা হোক তিনি আবার সব কিছু নতুন করে করলেন। দৈবভাবে রাজা জানতে পারলেন সমুদ্র সৈকতে একটি নিম কাঠ ভেসে আসবে, সেটা দিয়েই তৈরি হবে দেব বিগ্রহ।

একজন কারিগর এলেন বিগ্রহ তৈরি করতে, কিন্তু নির্মাতা শর্ত দিলেন তিনি নিভৃতে কাজ করবেন। আর বিগ্রহ তৈরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিরক্ত করা যাবে না এবং মন্দিরে যাওয়াও যাবে না। এদিকে মূর্তি তৈরি শুরুর কিছু দিন পর রাজা কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে মন্দিরে প্রবেশ করে দেখেন কেউ নেই সেখানে।

আমরা যে রূপে এখন জগন্নাথ দেবকে দেখি, সেই মূর্তিটি শুধু রয়েছে। পরে ঐ ভাবেই স্থাপিত হয় মূর্তি। ইন্দ্রদ্যুম্ন রাজা জগন্নাথ দেবের মূর্তিতেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীকালে শ্রীকৃষ্ণ এবং জগন্নাথ দেব একই সত্ত্বা চিন্তা করে একই আদলে তার পাশে ভাই বলরাম এবং আদরের বোন সুভদ্রার মূর্তি স্থাপন করা হয়।

পুরীতে তিন রথের যাত্রা হয়, প্রথমে বলরাম তার পর সুভদ্রা এবং শেষে জগন্নাথ। ১১৯৯ খ্রিস্টাব্দে রাজা অনঙ্গভীমদেব তিনরথের রথ যাত্রা প্রচলন করেন।

Categories: প্রধান নিউজ,ময়মনসিংহ

Tags: