নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজার সমিতির পিকনিক, পিএইচজি স্কুলের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রতারণা

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বিশেষ প্রতিনিধি : নিউ ইয়র্কে বিয়ানীবাজার সমিতির পিকনিক ও পিএইচজি স্কুলের শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান নিয়ে তোলপাড় চলছে। একই দিন দুই অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে বিয়ানীবাজার কমিউনিটিতে এখন বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ানীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পঞ্চখÐ হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠান নিয়ে প্রতারণা ও ধুম্রজাল সৃষ্টিও করেছেন আয়োজকরা। কিছুসংখ্যক বিতর্কিত ব্যক্তি দায়িত্বশীল হওয়ায় কারণে অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের কাব্জায় অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব ধরে রাখাতে পুরো আয়োজনের সফলতা নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। ইয়র্ক কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের নাম করে একশত ডলার রেজিস্ট্রেশন ফী নিয়ে এখন জ্যাকসনহাইটসের অখ্যাত কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছে। অযৌক্তিক রেজিস্ট্রেশন ফী আদায় করে অখ্যাত স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে প্রতারণার ওই অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিতর্কিত অযোগ্যরা কমিটিতে স্থান করে নেয়ায় যোগ্য মেধাবী ও উচ্চ শিক্ষিত প্রাক্তন ছাত্ররা এই অনুষ্ঠান প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমকি নিউইয়র্কে বসবাসকারী স্কুলের পাশ্ববর্তী একটি গ্রামের সংখ্যাগরিষ্ট ছাত্র এই অনুষ্ঠান বয়কটে অটল ও অনড় থেকে রেজিস্ট্রেশন করেননি।খবর বাপসনিঊজ ।
ওপরদিকে বিয়ানীবাজার সমিতির দ্বায়িত্বশীলরা বলছেন, তিন মাস আগে পিকিকের স্থান ও তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ওই পিকনিক অনুষ্ঠানকে বানচাল করতেই স্কুলের অনুষ্ঠান আয়োজকরা তাদের আট জুলাইর তারিখ পরিবর্তন করেছেন। আগামী পাঁচ আগস্ট পিকনিকের দিন স্কুলের শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিয়ানীবাজার এর মানুষকে মুখোমোখী দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। স্কুল ও সমিতেতে বিয়ানীবাজার কমিউনিটির অনেকেই রয়েছেন। এ নিয়ে নানা বিতর্ক ও সমালচনার মুখে পড়েছে পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান। বিয়ানীবাজার সমিতির সদস্য ও স্কুলের অনেক ছাত্র জানিয়েছেন, বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব থেকেই সমিতির পিকনিক অনুষ্ঠানের দিন স্কুলের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সমিতির দায়িত্বশীল একজন সদস্য নাম প্রকাশ নাকরার শর্তে বলেন, স্কুলের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব খসরুল হক খসরুসহ কয়েকজন সমিতির প্যাডে স্কুলের অনুষ্ঠানকে সমিতির সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উল্লেখ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাঁচ হাজার ডলার চাঁদার লিখিত সুপারিশসহ আবেদন নিতে চান। এতে সমিতির নেতৃবৃন্দ, পরবর্তিতে উপজেলার অনেকগুলো স্কুলকে এভাবে দিতে হবে এমন একাধিক যুক্তি দেখিয়ে অপারকতা প্রকাশ করেন। এই ক্ষোভ বিক্ষুব্ধ থেকেই একই দিন স্কুলের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পিকনিক ও স্কুলের অনুষ্ঠান নিয়ে স্কুলের প্রাক্তনছাত্র ও সমিতির সদস্যদের কাছে তাঁদের মতামত জানতে চাইলে, তাঁরা জানান পিকনিক শেষ হবে সন্ধা আটটায়। সারাদিন ক্লান্তি থাকার পর ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগদান কষ্টসাধ্য। পাঁচ আগস্ট একই দিন স্কুলের অনুষ্ঠান নিয়ে স্বয়ং মুখ খুলেছেন রেজিস্ট্রেশনকারি ছাত্ররা। তারা বলেছেন একদিনের অনুষ্ঠানের জন্য প্রবাসে স্কুলকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। অন্য যে কোন দিন এই অনুষ্ঠান হতে পারতো। স্কুলের অনুষ্ঠান আয়োজনের আড়ালে অনৈতিক অন্যায় ফায়দা লুঠার পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতারও চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে স্কুলের অনুষ্ঠান আয়োজকরা প্রাক্তনছাত্রদের আস্থা ও বিশ্বাসের সংকটের মুখে পড়েছেন অনুষ্ঠান নিয়ে।
এদিকে শতবর্ষ উৎসব কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন মনিয়া ও অপর যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান খালেদ, প্রথম যুগ্ম সদস্য সচিব মাহবুব আলম ও শামীম আহমদ, উদ্যোক্তা ও নির্বাচক মণ্ডলীর সদস্য আহাদ আহমদ আতিক ও শরিফুল হক মনজু, আবদুল কুদ্দুস টিটুসহ কমিটির আরো অনেক সদস্য এখন আর আয়োজনের সাথে নেই। এদিকে যারা অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা ও অগ্রহ নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ছিলেন তারাও এখন আয়োজকদের কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। নূণ্যতম মেট্রিকপাস অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট বিহীন ব্যক্তি ও অছাত্রদের টাকার বিনিময়ে অনুষ্ঠানের অতিথি করা হয়েছে। এমন অনৈতিক অযৌক্তিক কারণে খুদ কমিটির সদস্য ও রেজিস্ট্রেশনকারী ছাত্ররা বিষ্ময় প্রকাশ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন। অনেক ছাত্র ও কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, অনুষ্ঠান নিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রাক্তন ছাত্ররা কমিটির লোকজনের ওপর অনেক আগেই আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন। কমিউনিটিতে তাঁদের নানান অনৈতিক কর্মকাণ্ডর জন্য। টানা নয়মাস কাজ করে কমিটি টেনেটুনে একশতজন রেজিস্ট্রেশন করিয়েছে। তাঁদের অনেকের রেজিস্ট্রেশনের তালিকায় নাম থাকলেও ফী প্রধান করেননি। কৌশল হিসেবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে লোক দেখানোর জন্য। নির্ভরযোগ্য মহলের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, একমাত্র নিউ ইয়র্কেই প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রাক্তনছাত্রদের বসবাস রয়েছে। একশত জনের ওপরে রেজিস্ট্রেশন না করা একদিকে যেমন আয়োজন কমিটির ওপর অনাস্থা। অপরদিকে পত্রপত্রিকা ও স্যোসাল মিডিয়ায় যথাযথ প্রচার প্রচারণায় অন্তরিকতার অভাবে রেজিস্ট্রেশনের পরিসর বাড়েনি। এজন্য প্রাক্তন ছাত্ররা দায়িত্বশীলদের দায়িত্বপালনে কুক্ষিগত মনোভাবকে দায়ী করেছেন। প্রতারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে রেজিস্ট্রেশনকারি একাধিক ছাত্র জানান, প্রস্তুতি কমিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদে জামাইকাস্থ ইয়র্ক কলেজ অডিটোরিয়াম হলে পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের ভেণ্যু প্রচার করা হয়। ভেন্যুর খরছ ও চল্লিশ ডলারের গিফট প্যাকেট প্রদানের আশ্বাস দিয়ে প্রতিজনে একশত ডলার রেজিস্ট্রেশন ফী আদায় করা হয়। তখন অনেকেই রেজিস্ট্রেশন ফী কমানোর প্রস্তাব করলেও কমিটির অভ্যন্তরের ঘাপটি মেরে বসে থাকা উপ-সিন্ডিকেট এর বিরোধিতার কারনে তাহা টিকেনি। উদযাপন কমিটির পদের দ্বায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়া করে সেচ্চাচারিতার আশ্রয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে সকল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কারণে প্রাক্তন ছাত্ররা রেজিস্ট্রেশন করতে অনিহা আপত্তি করেন। নয়মাস সময়ে পর্যাপ্ত ছাত্র রেজিস্ট্রেশন না করাতে মুখ রক্ষার জন্য এখন প্রকাশিত স্মরক গ্রন্থে ফ্রীতে ছবি ছাপিয়ে পরিসর বৃদ্ধির অপতৎপরা চালিয়েছেন। অনেকের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা আকার অনেকের কাছ থেকে টাকা না নিয়ে ছবি ছাপিয়ে রেজিস্ট্রেশনের তালিকা বৃদ্ধির প্রতারণার অভিযোগ তোলেছেন। এমনকি কম খরছের জ্যাকসনহাইটসের একটি পাবলিক কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠান আয়োজন করে একশত ডলার আদায়ে করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁরা এর পিছনে নিশ্চয় কোন রহস্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্নজনের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে স্কুলের অনুষ্ঠানের নাম করে। স্কুলের অনুষ্ঠানের নাম করে চাঁদা তোলার পরও কেনো অখ্যাত নগণ্য ভ্যানুতে অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তহবিল আত্নসাতের সন্দেহও করছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ও ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হবে বলে হোয়াসঅ্যাপ গ্রুপে প্রচার করলেও নিজাম আলিমসহ কয়েকজনের পকেটে টাকা রেখে যাচ্ছেতাই করা হচ্ছে। এমনকি রেজিষ্ট্রেশনের জন্য অনুষ্ঠানের নামে অনেকে ব্যাংকের চেক দিলেও পরবর্তীতে এই চেক ফিরত দিয়ে ব্যক্তির নামে চেক এনে নিজেদের কাছেই টাকা রেখে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন প্রচার প্রচারণার কারণে অনেকই এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে তেমন জানেননা। ঠিক একইভাবে নিজেদের পছন্দের ও অনুগত্যের বাহিরে কাউকে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারেন সেজন্য নিজেদের কব্জায় গঠন করা হয় সকল উপ-কমিটি। কমিটির অনেকেই জানেননা সাত জনের বলয়ে কখন কি করেন। অনেকের অভিযোগ, তাঁরা কমিটিতে থাকলেও সাত/আট জনের অনৈতিকপন্থা ও কর্মকাণ্ডর কাছে অসহায় হয়ে নিরবে কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অনুরোধের চাপে পড়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন এমন অনেক ছাত্র এখন পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষের অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, কথা ও কাজের যেখানে মিল নেই। প্রতারণা দোকাবাজী যাদের পেশা ও নেশা। তাঁদের সাথে থেকে নিজেদের বিতর্কের সাথে না জড়াতেই আগেবাগে সরেগেছেন। আয়োজকদের কারো কারো বিতর্কিত অনেতিক কর্মকাণ্ডের জন্য স্কুলের গৌরব ও অর্জনসমুহকে কলঙ্কিত করছেন। তাঁদের সাথে থেকে তাদের অন্যায়কে সমর্থন করতে পারিনা বলে আমরা অনুষ্ঠানে অংশ নিবোনা। স্কুলের অনেক প্রাক্তন ছাত্র মেধা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে নিউ ইয়র্কের স্কুল কলেজ ও সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থেকে দক্ষতার সাথে সুনাম অর্জন করে চলছেন। সেইসব সম্মানিত প্রাক্তন ছাত্রদের সাফল্যর অর্জন নিয়ে পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় যেখানে গর্ববোধ করে। সেখানে গৌরব করা ছাত্রদের বাদ দেয়ার চক্রান্ত করা হয়। অ্যাকাডেমিক ডিগ্রী থাকা ও দেশ বিদেশে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন বা এখনও করছেন এমনসব প্রাক্তন ছাত্রদের বাদ দিয়ে কমিউনিটির স্বশিক্ষিতদের অনুষ্ঠানে অতিথি করার অপরাধের কারনে অনেক ছাত্র অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

Categories: আন্তর্জাতিক,প্রধান নিউজ,প্রবাসের খবর

Tags: ,