ভিত্তি তৈরি হয়েছে শক্তিশালী শেয়ারবাজারের

ভিত্তি তৈরি হয়েছে শক্তিশালী শেয়ারবাজারের

ডেস্ক রিপোর্ট : দু’বার বড় ধ্বসের কারণে শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।যার ফসল হিসাবে শেয়ারবাজারে নানা সংস্কার হয়েছে। শক্তিশালী শেয়ারবাজার এখনও গড়ে না উঠলেও ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এতে অচিরেই একটি শক্তিশালী শেয়ারবাজার গড়ে ওঠবে।

রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।পরে ‘বিনিয়োগ শিক্ষার গুরুত্ব ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী শেয়ারবাজার যাতে গড়ে উঠতে পারে সেই ভিত্তি তৈরি হয়েছে।শেয়ারবাজারে দু’বার ধ্বস নেমেছিলো।এজন্য অনেকে চিন্তিত।এই চিন্তার ফসলই হলো সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ প্রায় আট বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করাবার চেষ্টা করছেন।আমি খুশি এজন্য যে, এই প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত ধৈয ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন যেভাবে গড়ে উঠছে তাতে আশা করাই যায় যে, অতি শিগগিরই আমাদের শেয়ারবাজার গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। এসময়ে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করতে হবে।শেয়ারবাজারকে স্থিতিশীল করতে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলো অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাবেন। আর ব্যহত হলে ফের ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।

মুহিত আরও বলেন, প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় আমাদের বিনিয়োগ আসলে খুবই কম।আমরা এখন হয় তো জিডিপির ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করছি। তার মধ্যে ২২ শতাংশ বেসরকারি খাতের, বাকিটা সরকারের। প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিনিয়োগের হার অনেক বেশি।ভারতে বিনিয়োগের হার সব সময় বেশি ছিল।এটা নতুন কিছু নয়, ত্রিশের দশকেও ভারতের বিনিয়োগের হার ৩০ শতাংশের বেশি ছিল।

তিনি বলেন, আমরা একটু একটু করে ঠেলেঠুলে বিনিয়োগ ৩০ শতাংশে বা তার কিছুটা ওপরে নিয়ে এসেছি। আশা করছি, এটা আরেকটু বাড়বে। সুতরাং আমাদের যে উর্ধ্বগতি অর্থনীতিতে এসেছে সেটা আরও বেগবান ও শক্তিশালী হবে।আমরা অনেক নিচের স্তর থেকে শুরু করেছি। এজন্যে আমাদের উঠতে অনেক সময় লেগেছে এবং একবার যখন উঠেছি, এটাকে যাতে ধরে রাখতে পারি সেই চেষ্টায় আমরা করে যাচ্ছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখনো বিনিয়োগের হার বেশ কম হওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে, অবকাঠামোসহ নানা খাতে গত ১০ বছরে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে।সরকার নিরবিচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় থাকায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।আরও পাঁচটি বছর যদি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে পারি তাহলে বাংলাদেশ এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাবে সেখান থেকে ১০-১৫ বছরে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে উঠতে কোনো অসুবিধা হবে না।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন প্রমুখ।

Categories: জাতীয়,ব্যবসা ও অর্থনীতি

Tags: