ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

আশুগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন কোম্পানীতে কোটি টাকার অনিয়ম ও দূর্নীতি 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১ ৩৪২ বার পড়া হয়েছে

আশুগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন কোম্পানীতে কোটি টাকার অনিয়ম ও দূর্নীতি 

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এহসানুল হক রিপন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেডের একজন ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাসের প্রভাবের কথা যেন ওপেন সিক্রেট। তিনি কোম্পানীর একজন পরিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) হয়েও অদৃশ্য খুঁটির জোরে সর্বক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চেয়েও বেশী প্রভাব খাটিয়ে থাকেন বলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাঝে গুঞ্জণ রয়েছে।

 

নিজের পদোন্নতি ছাড়াও কোম্পানীর বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি ও বদলিসহ সবকিছুই হচ্ছে তার ইশারায়। পরিচালক ক্ষিতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের অবৈধ প্রভাব চুক্তি উপেক্ষা করে চায়না ও ভারতের তৈরি নিম্নমানের যন্ত্রপাতিতে প্লান্ট নির্মাণপ্রকল্প পরিচালকের চাকরির মেয়াদ বাড়াতে প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব বিনা দরপত্রে স্ক্রাপ মালামাল বিক্রি করে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

 

প্রকল্প পরিচালকের ঢাকায় তিনটি ও কলকাতায় একটিসহ কোটি টাকার বাড়ি বিদ্যুৎ নতুন প্লান্টের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস বিশাল অর্থ বৈভবের মালিক হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় চাকুরীর মেয়াদ বাড়ানোর মতলবে নতুন আরো একটি বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ইচ্ছাকৃত গরিমিসি করে বিলম্ব করছেন বলে তার বিরদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

 

ফলে খোদ কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে তার ব্যাপারে অসন্তোষ ধুমায়িত হয়ে উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একাধিক কর্মকর্তা জানান, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেডে (এপিএসসিএল) প্রশাসনিক প্রধান ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেও, তার কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ^াস অনুমতি না দেয়। তাই তার উত্থান এপিএসসিএল এর সীমানা পেড়িয়ে এখন আশুগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে।

 

তথ্যানুসন্ধ্যানে জানান যায়, ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস বিগত ১৯৮৮ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এপিএসসিএল এ চাকুরীতে যোগাদান করেন। ২০১২ সালে তিনি উক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন বিভাগের ব্যবস্থাপক নিযুক্ত হন। তারপর বিগত ৭ বছরে (২০১২-২০১৯) সনের মধ্যেই তিনি পরিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এ সময় তার আগে চাকুরীতে যোগদান করা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদকে বাদ দিয়ে ক্ষিতিশ চন্দ্রকে পরিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) পদে পদোন্নতি দেওয়ায় ২০১৯ সালে আব্দুস সামাদ এপিএসসিএল থেকে চাকুরী ছেড়ে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিতে যোগ দেন।

 

এরই মধ্যে বিগত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেঘাওয়াট (নর্থ) প্রকল্পের পরিচালকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। মজার বিষয় হচ্ছে, এ প্রকল্পটির কাজ শেষ হবার পর, আশগঞ্জ ৪০০ মেঘাওয়াট সিসিপিপি (ইস্ট) প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে ক্ষিতিশ চন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তার সমমর্যাদার কর্মকর্তা তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আনোয়ার হোসেনকে তার অধিনস্থ করে তত্তাবধায়ক প্রকৌশল হিসেবে পদায়ন করা হয়।

 

এদিকে এপিএসসিএল-এর পূর্ববর্তী ২ জন পরিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) জয়নাল আবেদন খান ও অজিত কুমার সরকার ৬০ বছর বয়সে উক্ত চাকুরী থেকে অবসর নিলেও ক্ষিতিশ চন্দ্রের চাকুরীর সুবিধার্থে ২০১৯ সালে বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬২ বছর করা হয়। যা আগামী ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ণ হবে। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি উক্ত চাকুরীতে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবীর শুরু করেছেন। তিনি তার চাকুরীর সময়সীমা ৬২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বছর করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড এর পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপনের জন্য উপর মহল থেকে জোর তদবির চালাচ্ছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।উল্লেখ্য যে, গত ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে এপিএসসিএল কয়েকটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করে। যার মধ্যে একটি ‘আশুগঞ্জ ৪৫০ মেঘাওয়াট সিসিপিপি (নর্থ) প্ল্যান্টের প্রকল্প’।

 

এর প্রকল্প পরিচালক ছিলেন ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪৫০ মেঘাওয়াটের উক্ত প্ল্যান্টটি উৎপাদনে আসার পর থেকে কখনো ৩৮০ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের বেশি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেনি। কিন্তু একই সময়ে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেঘাওয়াট সিসিপিপি (সাউথ) নামে আরেকটি প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়। যার প্রকল্প পরিচালক ছিলেন আবদুস সামাদ নামে একজন কর্মকর্তা। সাউথ প্ল্যানটি চালু হবার পর থেকে জাতীয় গ্রিডে ৪৪০ মেঘাাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।

 

কিন্তু প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাসের দায়িত্ব পালন করা নর্থ প্ল্যানটি ৩৮০ মেঘাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারায় সঙ্গত কারণেই এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক প্রকৌশলী জানান, ৪৫০ মেঘাওয়াট সাউথ প্ল্যান্টের স্পেয়ার পার্টস জি-৭ এর বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রয় করে লাগানো হওয়ায় কাক্সিক্ষত উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

 

কিন্তু ৪৫০ মেঘাওয়াট নর্থ প্ল্যান্টে চুক্তি অনুযায়ী জি-৭ দেশের স্পেয়ার পার্টস দেয়ার কথা থাকলে তা না লাগিয়ে উক্ত কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টিআর ও টিএসকে নামক স্পেনের দুটি কোম্পানি তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ^াসের সাথে যোগসাজশ করে নিম্নমানের চায়না ও ভারতে তৈরী স্পেয়ার্স পার্টস দ্বারা প্ল্যান্টটি নিমার্ণ করে।

 

ফলে ৭০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। অথচ, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোম্পানীর একাধিক কর্মকর্তার দাবি, উক্ত প্রকল্পের কাজ করতে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস ইউরোপ ভ্রমনসহ কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদিকে, বিভিন্ন বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, ক্ষিতিশ চন্দ্রের বর্তমানে ঢাকার বসুন্ধয়ার ১টি, শ্যামলিতে ১টি ফ্ল্যাট এবং পূর্বাঞ্চলে ১২ কাঠার ১ টি প্লট ও ভারতের কলকাতায় ১টি বাড়ি রয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে তার এক্সিম ব্যাংক ও এবি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে তার ও তার স্ত্রীর নামে কয়েক কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করছে।

বর্তমানে তিনি এপিএসসিএল-এর পারিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) এর পাশাপাশি নির্মানাধী

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আশুগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন কোম্পানীতে কোটি টাকার অনিয়ম ও দূর্নীতি 

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর ২০২১

এহসানুল হক রিপন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেডের একজন ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাসের প্রভাবের কথা যেন ওপেন সিক্রেট। তিনি কোম্পানীর একজন পরিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) হয়েও অদৃশ্য খুঁটির জোরে সর্বক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চেয়েও বেশী প্রভাব খাটিয়ে থাকেন বলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাঝে গুঞ্জণ রয়েছে।

 

নিজের পদোন্নতি ছাড়াও কোম্পানীর বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি ও বদলিসহ সবকিছুই হচ্ছে তার ইশারায়। পরিচালক ক্ষিতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের অবৈধ প্রভাব চুক্তি উপেক্ষা করে চায়না ও ভারতের তৈরি নিম্নমানের যন্ত্রপাতিতে প্লান্ট নির্মাণপ্রকল্প পরিচালকের চাকরির মেয়াদ বাড়াতে প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব বিনা দরপত্রে স্ক্রাপ মালামাল বিক্রি করে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

 

প্রকল্প পরিচালকের ঢাকায় তিনটি ও কলকাতায় একটিসহ কোটি টাকার বাড়ি বিদ্যুৎ নতুন প্লান্টের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস বিশাল অর্থ বৈভবের মালিক হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় চাকুরীর মেয়াদ বাড়ানোর মতলবে নতুন আরো একটি বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ইচ্ছাকৃত গরিমিসি করে বিলম্ব করছেন বলে তার বিরদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

 

ফলে খোদ কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে তার ব্যাপারে অসন্তোষ ধুমায়িত হয়ে উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একাধিক কর্মকর্তা জানান, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেডে (এপিএসসিএল) প্রশাসনিক প্রধান ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেও, তার কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ^াস অনুমতি না দেয়। তাই তার উত্থান এপিএসসিএল এর সীমানা পেড়িয়ে এখন আশুগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে।

 

তথ্যানুসন্ধ্যানে জানান যায়, ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস বিগত ১৯৮৮ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এপিএসসিএল এ চাকুরীতে যোগাদান করেন। ২০১২ সালে তিনি উক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টারবাইন বিভাগের ব্যবস্থাপক নিযুক্ত হন। তারপর বিগত ৭ বছরে (২০১২-২০১৯) সনের মধ্যেই তিনি পরিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এ সময় তার আগে চাকুরীতে যোগদান করা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদকে বাদ দিয়ে ক্ষিতিশ চন্দ্রকে পরিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) পদে পদোন্নতি দেওয়ায় ২০১৯ সালে আব্দুস সামাদ এপিএসসিএল থেকে চাকুরী ছেড়ে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিতে যোগ দেন।

 

এরই মধ্যে বিগত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেঘাওয়াট (নর্থ) প্রকল্পের পরিচালকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। মজার বিষয় হচ্ছে, এ প্রকল্পটির কাজ শেষ হবার পর, আশগঞ্জ ৪০০ মেঘাওয়াট সিসিপিপি (ইস্ট) প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে ক্ষিতিশ চন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য তার সমমর্যাদার কর্মকর্তা তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আনোয়ার হোসেনকে তার অধিনস্থ করে তত্তাবধায়ক প্রকৌশল হিসেবে পদায়ন করা হয়।

 

এদিকে এপিএসসিএল-এর পূর্ববর্তী ২ জন পরিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) জয়নাল আবেদন খান ও অজিত কুমার সরকার ৬০ বছর বয়সে উক্ত চাকুরী থেকে অবসর নিলেও ক্ষিতিশ চন্দ্রের চাকুরীর সুবিধার্থে ২০১৯ সালে বয়সসীমা বাড়িয়ে ৬২ বছর করা হয়। যা আগামী ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ণ হবে। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি উক্ত চাকুরীতে টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন মহলে তদবীর শুরু করেছেন। তিনি তার চাকুরীর সময়সীমা ৬২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বছর করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড এর পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপনের জন্য উপর মহল থেকে জোর তদবির চালাচ্ছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।উল্লেখ্য যে, গত ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে এপিএসসিএল কয়েকটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করে। যার মধ্যে একটি ‘আশুগঞ্জ ৪৫০ মেঘাওয়াট সিসিপিপি (নর্থ) প্ল্যান্টের প্রকল্প’।

 

এর প্রকল্প পরিচালক ছিলেন ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪৫০ মেঘাওয়াটের উক্ত প্ল্যান্টটি উৎপাদনে আসার পর থেকে কখনো ৩৮০ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের বেশি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেনি। কিন্তু একই সময়ে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেঘাওয়াট সিসিপিপি (সাউথ) নামে আরেকটি প্ল্যান্ট স্থাপিত হয়। যার প্রকল্প পরিচালক ছিলেন আবদুস সামাদ নামে একজন কর্মকর্তা। সাউথ প্ল্যানটি চালু হবার পর থেকে জাতীয় গ্রিডে ৪৪০ মেঘাাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।

 

কিন্তু প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাসের দায়িত্ব পালন করা নর্থ প্ল্যানটি ৩৮০ মেঘাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারায় সঙ্গত কারণেই এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক প্রকৌশলী জানান, ৪৫০ মেঘাওয়াট সাউথ প্ল্যান্টের স্পেয়ার পার্টস জি-৭ এর বিভিন্ন দেশ থেকে ক্রয় করে লাগানো হওয়ায় কাক্সিক্ষত উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

 

কিন্তু ৪৫০ মেঘাওয়াট নর্থ প্ল্যান্টে চুক্তি অনুযায়ী জি-৭ দেশের স্পেয়ার পার্টস দেয়ার কথা থাকলে তা না লাগিয়ে উক্ত কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টিআর ও টিএসকে নামক স্পেনের দুটি কোম্পানি তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ^াসের সাথে যোগসাজশ করে নিম্নমানের চায়না ও ভারতে তৈরী স্পেয়ার্স পার্টস দ্বারা প্ল্যান্টটি নিমার্ণ করে।

 

ফলে ৭০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। অথচ, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোম্পানীর একাধিক কর্মকর্তার দাবি, উক্ত প্রকল্পের কাজ করতে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস ইউরোপ ভ্রমনসহ কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদিকে, বিভিন্ন বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, ক্ষিতিশ চন্দ্রের বর্তমানে ঢাকার বসুন্ধয়ার ১টি, শ্যামলিতে ১টি ফ্ল্যাট এবং পূর্বাঞ্চলে ১২ কাঠার ১ টি প্লট ও ভারতের কলকাতায় ১টি বাড়ি রয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে তার এক্সিম ব্যাংক ও এবি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে তার ও তার স্ত্রীর নামে কয়েক কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করছে।

বর্তমানে তিনি এপিএসসিএল-এর পারিচালক (প্রজেক্ট এন্ড প্ল্যানিং) এর পাশাপাশি নির্মানাধী