ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

ঝালকাঠিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আতাউর রহমান ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ।

ঝালকাঠি ও এর আশপাশের নদ-নদীতে ইলিশের ভরা মৌসুমে ধরা পড়ছে প্রচুর মা ইলিশ। আকারে বেশ বড় এসব ইলিশ অন্য সময়ের চেয়ে খেতেও সুস্বাদু। শুধু বাজারে নয় এসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে শহরের অলি-গলি ও বাসাবাড়িতেও।

ঝালকাঠির মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ। প্রতিটি ইলিশের পেটেই মিলছে ডিম।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,ইলিশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।যে কারণে এখন বড় বড় ইলিশ ধরা পড়ছে।বেড়েছে ইলিশের গড় ওজনও।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, সুগন্ধা-বিষখালী নদীর ইলিশ পাইকারদের মাধ্যমে চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। দেশ ছাড়িয়ে ভারতেও রপ্তানি হয় ঝালকাঠির সুস্বাদু রূপালি ইলিশ।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠির ১৭ কিলোমিটার প্রবাহমান সুগন্ধা আর বিষখালী নদীর ৩০ কিলোমিটার মিঠা পানিতে প্রতি বছর প্রায় ১২০০ টন ইলিশ ধরা পড়ে। সুগন্ধা নদীর বড় অংশটি হচ্ছে নলছিটি উপজেলার ভেতরে। ঝালকাঠি গাবখান নদীর মোহনা থেকে শুরু হয় ইলিশ ধরা এবং শেষ হয় বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিমাংশে গিয়ে। ঝালকাঠি লঞ্চঘাট, কলেজ খেয়াঘাট, নলছিটির বারইকরণ, সরই, মাটিভাঙা, বহরমপুর, চরবহরমপুর, ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট, নলছিটি লঞ্চঘাট, পুরানবাজার, সুজাবাদ, মল্লিকপুর, খোজাখালী, সারদল সহ ২০টি এলাকায় শত শত জেলে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জাল ফেলে ইলিশ শিকার করেন।সারা বছর ইলিশ ধরা পড়লেও আগস্ট-নভেম্বর মাস পর্যন্ত থাকে ইলিশের ভরা মৌসুম।

জানা যায়, জেলেদের বেশিরভাগই নদীর দুই তীরের বাসিন্দা। ক্রেতা ও পাইকাররা অনেক সময় তরতাজা ইলিশ কিনতে নদীর তীরে এসে বসে থাকেন। জেলেরা মাছ শিকার করে বাড়ি ফেরার পথেই বিক্রি হয়ে যায় অর্ধেকেরও বেশি। বাকি ইলিশগুলো শহর ও গ্রামের বাজারগুলোতে বিক্রি করা হয়।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীতে বর্তমানে ৩০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ধরা পড়ে দুই-আড়াই কেজি ওজনেরও ইলিশ। ছোট ইলিশ বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। আর একটু বড় ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম বর্তমানে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। পুরাতন বাজার, কুমারখালী বাজারে সারা বছরই পাওয়া যায় ইলিশের দেখা। মৌসুমের সময় দাম কম থাকে এসব বাজারে। বাকি সময় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয় ইলিশ।

চরবহরমপুর এলাকার জেলে আবুল কালাম বলেন, ‘সুগন্ধা নদীর ইলিশ খেতে খুবই সুস্বাদু। আমাদের আশপাশের এলাকার মানুষ সারাবছরই সুগন্ধার ইলিশ খাচ্ছেন। ইলিশ ভাজার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। মিঠা পানির রূপালি ইলিশ ধরতে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জোয়ারের শুরুতে জাল ফেলি। এসময় মাছগুলো একত্রিত হয়ে ছোটাছুটি করে, তাই সময়মতো জাল ফেলতে পারলে প্রতি নৌকায় ১০-১৫ কেজি করে ইলিশ পাওয়া যায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুম দুটি। একটি সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর এবং আরেকটি জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি। ডিম ছাড়ার সময়ে মা ইলিশ নদীতে আসে। তাই আগামী ৪-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন মা ইলিশ নিধন, পরিবহণ ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের জেল-জরিমানা শাস্তির বিধানও রয়েছে। পাশাপাশি ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন সাগরে সবধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এসব কারণে ইলিশ তার পরিপূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারছে। জাটকা ইলিশ মা ইলিশ ভালোভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে। এজন্যই এখন এত ইলিশ ধরা পড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঝালকাঠিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ

আপডেট সময় : ১০:৫০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

আতাউর রহমান ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ।

ঝালকাঠি ও এর আশপাশের নদ-নদীতে ইলিশের ভরা মৌসুমে ধরা পড়ছে প্রচুর মা ইলিশ। আকারে বেশ বড় এসব ইলিশ অন্য সময়ের চেয়ে খেতেও সুস্বাদু। শুধু বাজারে নয় এসব ইলিশ বিক্রি হচ্ছে শহরের অলি-গলি ও বাসাবাড়িতেও।

ঝালকাঠির মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ইলিশ। প্রতিটি ইলিশের পেটেই মিলছে ডিম।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,ইলিশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।যে কারণে এখন বড় বড় ইলিশ ধরা পড়ছে।বেড়েছে ইলিশের গড় ওজনও।

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, সুগন্ধা-বিষখালী নদীর ইলিশ পাইকারদের মাধ্যমে চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। দেশ ছাড়িয়ে ভারতেও রপ্তানি হয় ঝালকাঠির সুস্বাদু রূপালি ইলিশ।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠির ১৭ কিলোমিটার প্রবাহমান সুগন্ধা আর বিষখালী নদীর ৩০ কিলোমিটার মিঠা পানিতে প্রতি বছর প্রায় ১২০০ টন ইলিশ ধরা পড়ে। সুগন্ধা নদীর বড় অংশটি হচ্ছে নলছিটি উপজেলার ভেতরে। ঝালকাঠি গাবখান নদীর মোহনা থেকে শুরু হয় ইলিশ ধরা এবং শেষ হয় বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিমাংশে গিয়ে। ঝালকাঠি লঞ্চঘাট, কলেজ খেয়াঘাট, নলছিটির বারইকরণ, সরই, মাটিভাঙা, বহরমপুর, চরবহরমপুর, ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট, নলছিটি লঞ্চঘাট, পুরানবাজার, সুজাবাদ, মল্লিকপুর, খোজাখালী, সারদল সহ ২০টি এলাকায় শত শত জেলে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জাল ফেলে ইলিশ শিকার করেন।সারা বছর ইলিশ ধরা পড়লেও আগস্ট-নভেম্বর মাস পর্যন্ত থাকে ইলিশের ভরা মৌসুম।

জানা যায়, জেলেদের বেশিরভাগই নদীর দুই তীরের বাসিন্দা। ক্রেতা ও পাইকাররা অনেক সময় তরতাজা ইলিশ কিনতে নদীর তীরে এসে বসে থাকেন। জেলেরা মাছ শিকার করে বাড়ি ফেরার পথেই বিক্রি হয়ে যায় অর্ধেকেরও বেশি। বাকি ইলিশগুলো শহর ও গ্রামের বাজারগুলোতে বিক্রি করা হয়।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীতে বর্তমানে ৩০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ধরা পড়ে দুই-আড়াই কেজি ওজনেরও ইলিশ। ছোট ইলিশ বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। আর একটু বড় ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দাম বর্তমানে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। পুরাতন বাজার, কুমারখালী বাজারে সারা বছরই পাওয়া যায় ইলিশের দেখা। মৌসুমের সময় দাম কম থাকে এসব বাজারে। বাকি সময় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয় ইলিশ।

চরবহরমপুর এলাকার জেলে আবুল কালাম বলেন, ‘সুগন্ধা নদীর ইলিশ খেতে খুবই সুস্বাদু। আমাদের আশপাশের এলাকার মানুষ সারাবছরই সুগন্ধার ইলিশ খাচ্ছেন। ইলিশ ভাজার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। মিঠা পানির রূপালি ইলিশ ধরতে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জোয়ারের শুরুতে জাল ফেলি। এসময় মাছগুলো একত্রিত হয়ে ছোটাছুটি করে, তাই সময়মতো জাল ফেলতে পারলে প্রতি নৌকায় ১০-১৫ কেজি করে ইলিশ পাওয়া যায়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুম দুটি। একটি সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর এবং আরেকটি জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি। ডিম ছাড়ার সময়ে মা ইলিশ নদীতে আসে। তাই আগামী ৪-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন মা ইলিশ নিধন, পরিবহণ ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের জেল-জরিমানা শাস্তির বিধানও রয়েছে। পাশাপাশি ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন সাগরে সবধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এসব কারণে ইলিশ তার পরিপূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারছে। জাটকা ইলিশ মা ইলিশ ভালোভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে। এজন্যই এখন এত ইলিশ ধরা পড়ছে।