ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ছেলেটির এখন মাসিক আয় ৭ লাখ টাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অক্টোবর ২০২১ ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাকার অভাবে লেখা’পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ছেলেটি এখন ৮০ বিঘা পুকুরে মাছচাষ করছেন। মাছ বিক্রির টাকায় ২০ বিঘা জমি কিনেছেন, বাড়ি বানি’য়েছেন এবং কিনেছেন গাড়ি। মাছচাষ করে ছয় বছরে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে ছেলেটির মা’সিক আয় সাত লাখ টাকা। এমনি এক সফল মাছচাষি শাওন খান (২৮)।

কুষ্টিয়া’র মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে তিনি। ১৯৯৩ সালে নিম্ন’বিত্ত পরিবারে তার জন্ম। অভাবের সং’সারে ঠিকমতো তিন বেলা খাবার জোটেনি। দিনমজুর বাবা পড়া’লেখার খরচ দিতে পারেননি। এ অবস্থায় সংগ্রাম করে নিজ গ্রামে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন শাওন। মাধ্য’মিকে পড়াশোনা করেছেন আমলা মাধ্যমিক বিদ্যা’লয়ে। তবে সপ্তম শ্রেণিতে উঠলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। বই-খাতা কিনতে ও খরচ চালাতে না পারায় শাওনের পড়া’লেখা বন্ধ হয়ে যায়।

 

সংসারে অভাব থাকায় তিন বছর পড়ালেখা বন্ধ থাকে। পরে আবার পড়া’শোনা শুরু করেন। ২০১০ সালে এসএসসি পাস করেন। উপজেলার নওদা আজম’পুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৫ সালে আমলা কলেজ থেকে ডি’গ্রি পাস করেন তিনি। এরপর সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখতে দেখতে কয়েক মাস কেটে যায়। এ সময় বেকার ঘুরে বেড়া’তেন। এজন্য শাওনকে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতি’বেশীর কটু কথা শুনতে হয়েছিল। এরই ‍মধ্যে এক বন্ধুর মাধ্যমে শা’ওন খবর পান উপজেলা মৎস্য অফিসে মাছচাষের প্রশি’ক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তখন তিনি মৎস্য অফিসে যান। পরে মাছচাষের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রস্তুতি নেন। প্রশি’ক্ষণে অংশ নিয়ে সফল মাছচাষিদের গল্প জানতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে মাছচাষে উদ্বুদ্ধ হন। উপজেলা মৎস্য কর্ম’কর্তার সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে বাড়ির পাশের এক বিঘা পুকুরে মাছচাষ শুরু করেন। ছয় বছর মাছচাষ করে এখন স্বাব’লম্বী শাওন।

bekarbarta

মাছ বিক্রির টাকায় ২০ বিঘা জমি কিনেছেন, বাড়ি বানি’য়েছেন এবং কিনেছেন গাড়ি। বর্ত’মানে বছরে তার আয় ৮৫-৯০ লাখ টাকা। সে হিসাবে মাসে তার আয় সাত লাখ টাকার অধিক। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপ’জেলার বিভিন্ন গ্রামে ৮০ বিঘা পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছচাষ করছেন শাওন। এর মধ্যে ২০ বিঘা পুকুর নিজের। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতি’বেশীর কাছ থেকে ৬০ বিঘা পুকুর ইজারা নিয়েছেন। প্রতি বিঘায় বছরে ২০ হাজার টাকা ইজারা দেন। শাওনের পুকুরে রুই-কাতল, পাবদা, শিং, মৃগেল, সরপুঁটি, নাইলোটিকা ও সিল’ভার কার্প রয়েছে।
মাছচাষে সফ’লতার বিষয়ে শাওন খান বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরই মাছচাষে উদ্বুদ্ধ হই। ২০১৫ সালে বাবা ও মৎস্য কর্ম’কর্তার সহযোগিতা এবং পরামর্শে বাড়ির পাশের এক বিঘা পুকুরে মাছ’চাষ শুরু করি। বছর শেষে ভালো আয় হয়। ২০১৬ সালে মৎস্য অফিস থেকে লোন নিয়ে তিনটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ’চাষ করি। ২০১৭ সালে আরও পাঁচটি পুকুরে মাছচাষ করি। ২০১৮ সালে আরও ৫০ বিঘা জমির পুকুরে মাছ’চাষ করি।

বর্তমানে ৮০ বিঘা পুকুরে মাছ’চাষ করছি। এর মধ্যে ২০ বিঘা নিজের পুকুর। বাকি ৬০ বিঘা ইজা’রা নেওয়া। এর মধ্যে ফার্মের রোড এলাকায় ২০ বিঘা, আমলায় ২০ বিঘা, শাহাপুরে ছয় বিঘা, চর’পাড়ায় ছয় বিঘা, ধলসা ও কুশাবাড়ি এলাকায় ২৮ বিঘা আয়’তনের পুকুরে মাছচাষ করি। প্রতি বিঘা পুকুরে মিশ্র মাছচাষ করতে বছরে এক লাখ টাকা খরচ হয়। মাছ বিক্রি হয় দুই লাখ টাকার। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা প’র্যন্ত লাভ হয়। আমার ৮০ বিঘা পুকুরে বছরে ৮৫-৯০ লাখ টাকা আয় হয়। ভবিষ্যত পরি’কল্পনা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখতাম। মাছ’চাষ শুরুর পর সরকারি চাকরির কথা ভুলে গেছি।

এখন চাকরি করার ইচ্ছা নেই। প্রতি বছরই আয়ের পরি’মাণ বাড়ছে। মাছচাষ নিয়েই থাকতে চাই। আগামীতে সবমিলে ১০০ বিঘা পুকুরে মাছচাষ করব। মাছ’চাষের টাকা দিয়ে ২০ বিঘা জমি কিনেছি। সেগুলোতে পুকুর কেটে এখন মাছচাষ করছি। গাড়ি কিনেছি, বাড়ি করেছি। বলতে গেলে মাছ’চাষ করে আমি জিরো থেকে হিরো।

এদিকে শাওনের মাছের খামারে কর্ম’সংস্থান হয়েছে অনেকের। শাওনকে দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক মাছচাষ শুরু করেছেন। অনেকেই শাও’নের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।শাওনের মাছের খামারের শ্রমিক আশু আলী বলেন, শাওনের পরিবার খুব গরিব ছিল। অর্থের অভাবে তার লেখা’পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। খুব কষ্ট করে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি না পেয়ে মাছচাষ শুরু করে শাওন। এখন তার খামারে আমরা ৪০ জন কাজ করি। মাছচাষে শাওনের ভাগ্য বদলে গেছে, আমা’দেরও কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা সবাই ভালো আছি।

মাছ’চাষে সফলতার নেপথ্যের কথা জানিয়ে শাওন বলেন, সবসময় পুকুরের আগাছা ও আবর্জনা পরিষ্কার করি। নিয়মিত ভালো মানের খাবার দিই। ভালো জা’তের মাছের পোনা সংগ্রহ করি। মাছের পোনা ভালো হলে উৎপাদন ভালো হয়। আমি নিয়মের বাইরে যাই না। প্রশি’ক্ষণ নিয়ে মাছচাষ শুরু করেছিলাম। বৈজ্ঞা’নিক নিয়ম অনুযায়ী মাছচাষ শুরু করছি। কোনো সমস্যায় পড়লে মৎস্য কর্ম’কর্তাদের পরামর্শ নিই। এজন্য মাছচাষ করে লোকসান হয়নি।

মাছের মিশ্র চাষের কারণ জানতে চাইলে শাওন বলেন, মাছের মিশ্র চাষ লাভ’জনক। সঠিক পদ্ধ’তিতে মাছের মিশ্র চাষ করলে ঝুঁকি কম, খরচও কম। ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। পুকুর নির্বাচন ও পুকুর প্রস্তুতি এবং ব্যব’স্থাপনার ওপর মাছচাষের সফলতা নির্ভরশীল। সারা বছর পানি থাকে অথবা মৌসুমি পুকুর; এই দুই ধরনের পুকুরে মাছের মিশ্র চাষ হয়। তবে যারা মাছ’চাষ শুরু করতে চান; তারা অবশ্যই মৎস্য কর্মকর্তা ও মাছ’চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নেবেন।

bekarbarta
bekarbarta

মিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্ম’কর্তা রাজিউল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, শাওন মাছচাষ করে স্বাব’লম্বী হয়েছেন। মিরপুর উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছচাষ শুরু করেন তিনি। ছয় বছরে কোটিপতি হয়ে গেছেন। বর্তমানে ৮০ বিঘা পুকুরে মাছ’চাষ করেন। তার সফলতা দেখে অনেক বেকার যুবক মাছচাষ শুরু করেছেন। তারাও এখন স্বাবলম্বী। যারা মাছ’চাষে আগ্রহী আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিই।

bekarbarta

কুষ্টিয়া জেলা মৎস্য কর্ম’কর্তা মো. সাজদার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুষ্টিয়ায় যুবকরা মাছচাষে ঝুঁকছেন। ইতোমধ্যে অনেক বেকার যুবক মাছ’চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। দিনদিন মাছচাষে বেকার যুবকদের সংখ্যা বাড়ছে। যারা মাছ’চাষ করছেন, তাদের জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে সব ধরনের সহ’যোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।
তথ্যসূত্রঃ ঢাকা পোস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ছেলেটির এখন মাসিক আয় ৭ লাখ টাকা

আপডেট সময় : ০৭:১৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অক্টোবর ২০২১

টাকার অভাবে লেখা’পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ছেলেটি এখন ৮০ বিঘা পুকুরে মাছচাষ করছেন। মাছ বিক্রির টাকায় ২০ বিঘা জমি কিনেছেন, বাড়ি বানি’য়েছেন এবং কিনেছেন গাড়ি। মাছচাষ করে ছয় বছরে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে ছেলেটির মা’সিক আয় সাত লাখ টাকা। এমনি এক সফল মাছচাষি শাওন খান (২৮)।

কুষ্টিয়া’র মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে তিনি। ১৯৯৩ সালে নিম্ন’বিত্ত পরিবারে তার জন্ম। অভাবের সং’সারে ঠিকমতো তিন বেলা খাবার জোটেনি। দিনমজুর বাবা পড়া’লেখার খরচ দিতে পারেননি। এ অবস্থায় সংগ্রাম করে নিজ গ্রামে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন শাওন। মাধ্য’মিকে পড়াশোনা করেছেন আমলা মাধ্যমিক বিদ্যা’লয়ে। তবে সপ্তম শ্রেণিতে উঠলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তার। বই-খাতা কিনতে ও খরচ চালাতে না পারায় শাওনের পড়া’লেখা বন্ধ হয়ে যায়।

 

সংসারে অভাব থাকায় তিন বছর পড়ালেখা বন্ধ থাকে। পরে আবার পড়া’শোনা শুরু করেন। ২০১০ সালে এসএসসি পাস করেন। উপজেলার নওদা আজম’পুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৫ সালে আমলা কলেজ থেকে ডি’গ্রি পাস করেন তিনি। এরপর সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখতে দেখতে কয়েক মাস কেটে যায়। এ সময় বেকার ঘুরে বেড়া’তেন। এজন্য শাওনকে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতি’বেশীর কটু কথা শুনতে হয়েছিল। এরই ‍মধ্যে এক বন্ধুর মাধ্যমে শা’ওন খবর পান উপজেলা মৎস্য অফিসে মাছচাষের প্রশি’ক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তখন তিনি মৎস্য অফিসে যান। পরে মাছচাষের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রস্তুতি নেন। প্রশি’ক্ষণে অংশ নিয়ে সফল মাছচাষিদের গল্প জানতে পারেন। প্রশিক্ষণ শেষে মাছচাষে উদ্বুদ্ধ হন। উপজেলা মৎস্য কর্ম’কর্তার সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে বাড়ির পাশের এক বিঘা পুকুরে মাছচাষ শুরু করেন। ছয় বছর মাছচাষ করে এখন স্বাব’লম্বী শাওন।

bekarbarta

মাছ বিক্রির টাকায় ২০ বিঘা জমি কিনেছেন, বাড়ি বানি’য়েছেন এবং কিনেছেন গাড়ি। বর্ত’মানে বছরে তার আয় ৮৫-৯০ লাখ টাকা। সে হিসাবে মাসে তার আয় সাত লাখ টাকার অধিক। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপ’জেলার বিভিন্ন গ্রামে ৮০ বিঘা পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছচাষ করছেন শাওন। এর মধ্যে ২০ বিঘা পুকুর নিজের। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতি’বেশীর কাছ থেকে ৬০ বিঘা পুকুর ইজারা নিয়েছেন। প্রতি বিঘায় বছরে ২০ হাজার টাকা ইজারা দেন। শাওনের পুকুরে রুই-কাতল, পাবদা, শিং, মৃগেল, সরপুঁটি, নাইলোটিকা ও সিল’ভার কার্প রয়েছে।
মাছচাষে সফ’লতার বিষয়ে শাওন খান বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরই মাছচাষে উদ্বুদ্ধ হই। ২০১৫ সালে বাবা ও মৎস্য কর্ম’কর্তার সহযোগিতা এবং পরামর্শে বাড়ির পাশের এক বিঘা পুকুরে মাছ’চাষ শুরু করি। বছর শেষে ভালো আয় হয়। ২০১৬ সালে মৎস্য অফিস থেকে লোন নিয়ে তিনটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ’চাষ করি। ২০১৭ সালে আরও পাঁচটি পুকুরে মাছচাষ করি। ২০১৮ সালে আরও ৫০ বিঘা জমির পুকুরে মাছ’চাষ করি।

বর্তমানে ৮০ বিঘা পুকুরে মাছ’চাষ করছি। এর মধ্যে ২০ বিঘা নিজের পুকুর। বাকি ৬০ বিঘা ইজা’রা নেওয়া। এর মধ্যে ফার্মের রোড এলাকায় ২০ বিঘা, আমলায় ২০ বিঘা, শাহাপুরে ছয় বিঘা, চর’পাড়ায় ছয় বিঘা, ধলসা ও কুশাবাড়ি এলাকায় ২৮ বিঘা আয়’তনের পুকুরে মাছচাষ করি। প্রতি বিঘা পুকুরে মিশ্র মাছচাষ করতে বছরে এক লাখ টাকা খরচ হয়। মাছ বিক্রি হয় দুই লাখ টাকার। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা প’র্যন্ত লাভ হয়। আমার ৮০ বিঘা পুকুরে বছরে ৮৫-৯০ লাখ টাকা আয় হয়। ভবিষ্যত পরি’কল্পনা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখতাম। মাছ’চাষ শুরুর পর সরকারি চাকরির কথা ভুলে গেছি।

এখন চাকরি করার ইচ্ছা নেই। প্রতি বছরই আয়ের পরি’মাণ বাড়ছে। মাছচাষ নিয়েই থাকতে চাই। আগামীতে সবমিলে ১০০ বিঘা পুকুরে মাছচাষ করব। মাছ’চাষের টাকা দিয়ে ২০ বিঘা জমি কিনেছি। সেগুলোতে পুকুর কেটে এখন মাছচাষ করছি। গাড়ি কিনেছি, বাড়ি করেছি। বলতে গেলে মাছ’চাষ করে আমি জিরো থেকে হিরো।

এদিকে শাওনের মাছের খামারে কর্ম’সংস্থান হয়েছে অনেকের। শাওনকে দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক মাছচাষ শুরু করেছেন। অনেকেই শাও’নের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।শাওনের মাছের খামারের শ্রমিক আশু আলী বলেন, শাওনের পরিবার খুব গরিব ছিল। অর্থের অভাবে তার লেখা’পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। খুব কষ্ট করে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি না পেয়ে মাছচাষ শুরু করে শাওন। এখন তার খামারে আমরা ৪০ জন কাজ করি। মাছচাষে শাওনের ভাগ্য বদলে গেছে, আমা’দেরও কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা সবাই ভালো আছি।

মাছ’চাষে সফলতার নেপথ্যের কথা জানিয়ে শাওন বলেন, সবসময় পুকুরের আগাছা ও আবর্জনা পরিষ্কার করি। নিয়মিত ভালো মানের খাবার দিই। ভালো জা’তের মাছের পোনা সংগ্রহ করি। মাছের পোনা ভালো হলে উৎপাদন ভালো হয়। আমি নিয়মের বাইরে যাই না। প্রশি’ক্ষণ নিয়ে মাছচাষ শুরু করেছিলাম। বৈজ্ঞা’নিক নিয়ম অনুযায়ী মাছচাষ শুরু করছি। কোনো সমস্যায় পড়লে মৎস্য কর্ম’কর্তাদের পরামর্শ নিই। এজন্য মাছচাষ করে লোকসান হয়নি।

মাছের মিশ্র চাষের কারণ জানতে চাইলে শাওন বলেন, মাছের মিশ্র চাষ লাভ’জনক। সঠিক পদ্ধ’তিতে মাছের মিশ্র চাষ করলে ঝুঁকি কম, খরচও কম। ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। পুকুর নির্বাচন ও পুকুর প্রস্তুতি এবং ব্যব’স্থাপনার ওপর মাছচাষের সফলতা নির্ভরশীল। সারা বছর পানি থাকে অথবা মৌসুমি পুকুর; এই দুই ধরনের পুকুরে মাছের মিশ্র চাষ হয়। তবে যারা মাছ’চাষ শুরু করতে চান; তারা অবশ্যই মৎস্য কর্মকর্তা ও মাছ’চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নেবেন।

bekarbarta
bekarbarta

মিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্ম’কর্তা রাজিউল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, শাওন মাছচাষ করে স্বাব’লম্বী হয়েছেন। মিরপুর উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছচাষ শুরু করেন তিনি। ছয় বছরে কোটিপতি হয়ে গেছেন। বর্তমানে ৮০ বিঘা পুকুরে মাছ’চাষ করেন। তার সফলতা দেখে অনেক বেকার যুবক মাছচাষ শুরু করেছেন। তারাও এখন স্বাবলম্বী। যারা মাছ’চাষে আগ্রহী আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিই।

bekarbarta

কুষ্টিয়া জেলা মৎস্য কর্ম’কর্তা মো. সাজদার রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুষ্টিয়ায় যুবকরা মাছচাষে ঝুঁকছেন। ইতোমধ্যে অনেক বেকার যুবক মাছ’চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। দিনদিন মাছচাষে বেকার যুবকদের সংখ্যা বাড়ছে। যারা মাছ’চাষ করছেন, তাদের জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে সব ধরনের সহ’যোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।
তথ্যসূত্রঃ ঢাকা পোস্ট