ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

প্যারাবন উজাড় ও নদী ভরাট অব্যাহত : ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ১৭১ বার পড়া হয়েছে

প্যারাবন উজাড় ও নদী ভরাট অব্যাহত : ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজারঃ কক্সবাজারে নদী দখল, প্যারাবন ধ্বংস ও নির্বিচারে গাছ কাটা চলছেই। স্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কাজ। কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনের প্রায় পনেরো হাজার গাছ রাতারাতি কেটে ফেলা হয়েছে।

বাঁকখালী নদী ভরাট, দখল ও প্যারাবন উজাড় করে স্থাপনা নির্মাণে জড়িত ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারী) রাতে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর ৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও একটি মামলা দায়ের করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের পর পর দুটি মামলা দায়েরের পরও থেমে নেই বাঁকখালী নদী দখল করে ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ, প্যারাবন ধ্বংস, জোয়ার-ভাটায় বাঁধ দেয়া ও জলাশয় ভরাট কার্যক্রম।বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট অংশে গিয়ে নদী দখল, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়।

গত চার মাস ধরে নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করার কারণে দখলদাররা বেপরোয়া গতিতে অপরাধ অব্যাহত রেখেছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নদী দখল এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় জোয়ার-ভাটায় বাঁধ দিয়ে জলাশয় ভরাট ও প্যারাবন ধ্বংসের কর্মকান্ড গত চার মাস ধরে অব্যাহত থাকলেও জেলা প্রশাসন ও ভূমি প্রশাসন আজ পর্যন্ত কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেনি।

এতে দখলদাররা অপরাধ কর্মকান্ডে উৎসাহিত হচ্ছে।’ বাঁকখালী নদী ও প্যারাবন রক্ষায় দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, ‘গত চার মাস ধরে বাঁকখালীতে নদী ও জলাশয় ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ এবং প্যারাবন নিধন অব্যাহত রয়েছে। আমরা দুটি মামলা দায়ের করেছি।

কিন্তু উচ্ছেদের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট দরকার। আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিষ্ট্রেট চেয়েছি। ম্যাজিষ্ট্রেট পাওয়া গেলেই উচ্ছেদ করা হবে।’ বাঁকখালী নদী দখল ও প্যারাবন উজাড়কারী হিসেবে এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- ইউছুফ, আশিক, কপিল উদ্দিন, মিজানুর রহমান, জসিম উদ্দিন, কামাল মাঝি, রূকন উদ্দিন, নুরুল আবছার, নুরুল হুদা, নুরুল আমিন, মোস্তফা কামাল, জাহেদুল ইসলাম শিবলু, আমীর আলী, ওমর ফারুক, শরিফুল আলম চৌধুরী, মাহমুদুল করিম, মো. সোহেল, জসিম উদ্দিন, জিয়া মো. কলিমুল্লাহ, খোরশেদ আলম চৌধুরী, ফিরোজ আহমেদ ও দেলোয়ার হোসেন।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট প্যারাবন কর্তন এবং জলাশয় ভরাট করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁকখালী নদীর কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাটের বদরমোকাম জামে মসজিদ পয়েন্টে নদী দখল ও দূষণের কর্মযজ্ঞ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলছে।

শুধু গাছ কাটাই নয়, সেখানে প্রকাশ্যে নদী দখল, ভরাট ও দূষণ করা হচ্ছে। গাছ কেটে দেওয়া হচ্ছে টিনের ঘেরাও। এমনকি সেখানে প্যারাবনের গাছ কেটে ডাম্প ট্রাকে করে মাটি এনে নদী ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণকাজও চলছে প্রকাশ্যে। অনেক দখলদার আবার সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে।

এমনকি দখলদাররা প্যারাবনের পাখি শিকার ও পাখির আবাসস্থল ধ্বংসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। যেখানে এখনো নদীর জোয়ার-ভাটা চলছে সেখানে ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে নানারকম স্থাপনা। নদী ভরাট করতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বিশাল প্যারাবন কেটে ফেলা হচ্ছে।

এতে এই প্রাকৃতিক প্যারাবনে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। এসব প্যারাবন দখল-বেদখল নিয়ে দখলদারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতও চলছে। তবে বেশ কয়েকজন দখলদার দাবি করেন, যেসব জায়গায় তারা গাছ কাটছে ও মাটিভরাট করছে তার অধিকাংশই ব্যক্তি মালিকানাধীন। এর সপক্ষে খতিয়ান ও সর্বশেষ বছরের খাজনা পরিশোধের দাখিলাও রয়েছে তাদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্যারাবন উজাড় ও নদী ভরাট অব্যাহত : ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৫:২৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজারঃ কক্সবাজারে নদী দখল, প্যারাবন ধ্বংস ও নির্বিচারে গাছ কাটা চলছেই। স্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালীদের নামে-বেনামে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কাজ। কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনের প্রায় পনেরো হাজার গাছ রাতারাতি কেটে ফেলা হয়েছে।

বাঁকখালী নদী ভরাট, দখল ও প্যারাবন উজাড় করে স্থাপনা নির্মাণে জড়িত ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারী) রাতে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর ৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও একটি মামলা দায়ের করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের পর পর দুটি মামলা দায়েরের পরও থেমে নেই বাঁকখালী নদী দখল করে ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ, প্যারাবন ধ্বংস, জোয়ার-ভাটায় বাঁধ দেয়া ও জলাশয় ভরাট কার্যক্রম।বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাট অংশে গিয়ে নদী দখল, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়।

গত চার মাস ধরে নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করার কারণে দখলদাররা বেপরোয়া গতিতে অপরাধ অব্যাহত রেখেছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘নদী দখল এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় জোয়ার-ভাটায় বাঁধ দিয়ে জলাশয় ভরাট ও প্যারাবন ধ্বংসের কর্মকান্ড গত চার মাস ধরে অব্যাহত থাকলেও জেলা প্রশাসন ও ভূমি প্রশাসন আজ পর্যন্ত কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেনি।

এতে দখলদাররা অপরাধ কর্মকান্ডে উৎসাহিত হচ্ছে।’ বাঁকখালী নদী ও প্যারাবন রক্ষায় দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক শেখ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, ‘গত চার মাস ধরে বাঁকখালীতে নদী ও জলাশয় ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ এবং প্যারাবন নিধন অব্যাহত রয়েছে। আমরা দুটি মামলা দায়ের করেছি।

কিন্তু উচ্ছেদের জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট দরকার। আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিষ্ট্রেট চেয়েছি। ম্যাজিষ্ট্রেট পাওয়া গেলেই উচ্ছেদ করা হবে।’ বাঁকখালী নদী দখল ও প্যারাবন উজাড়কারী হিসেবে এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- ইউছুফ, আশিক, কপিল উদ্দিন, মিজানুর রহমান, জসিম উদ্দিন, কামাল মাঝি, রূকন উদ্দিন, নুরুল আবছার, নুরুল হুদা, নুরুল আমিন, মোস্তফা কামাল, জাহেদুল ইসলাম শিবলু, আমীর আলী, ওমর ফারুক, শরিফুল আলম চৌধুরী, মাহমুদুল করিম, মো. সোহেল, জসিম উদ্দিন, জিয়া মো. কলিমুল্লাহ, খোরশেদ আলম চৌধুরী, ফিরোজ আহমেদ ও দেলোয়ার হোসেন।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট প্যারাবন কর্তন এবং জলাশয় ভরাট করে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁকখালী নদীর কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাটের বদরমোকাম জামে মসজিদ পয়েন্টে নদী দখল ও দূষণের কর্মযজ্ঞ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলছে।

শুধু গাছ কাটাই নয়, সেখানে প্রকাশ্যে নদী দখল, ভরাট ও দূষণ করা হচ্ছে। গাছ কেটে দেওয়া হচ্ছে টিনের ঘেরাও। এমনকি সেখানে প্যারাবনের গাছ কেটে ডাম্প ট্রাকে করে মাটি এনে নদী ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণকাজও চলছে প্রকাশ্যে। অনেক দখলদার আবার সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে।

এমনকি দখলদাররা প্যারাবনের পাখি শিকার ও পাখির আবাসস্থল ধ্বংসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। যেখানে এখনো নদীর জোয়ার-ভাটা চলছে সেখানে ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে নানারকম স্থাপনা। নদী ভরাট করতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বিশাল প্যারাবন কেটে ফেলা হচ্ছে।

এতে এই প্রাকৃতিক প্যারাবনে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। এসব প্যারাবন দখল-বেদখল নিয়ে দখলদারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতও চলছে। তবে বেশ কয়েকজন দখলদার দাবি করেন, যেসব জায়গায় তারা গাছ কাটছে ও মাটিভরাট করছে তার অধিকাংশই ব্যক্তি মালিকানাধীন। এর সপক্ষে খতিয়ান ও সর্বশেষ বছরের খাজনা পরিশোধের দাখিলাও রয়েছে তাদের।