ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে শুরু হলো দুর্গোৎসব

এহসানুল হক রিপন
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১ ২০৮ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে শুরু হলো দুর্গোৎসব

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ১১ অক্টোবর সোমবার থেকে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু এই বছরের দূর্গা পূজা। এ বছর দেবীদূর্গা এসেছেড়ায় চড়ে এবং ফিরে যাবেন দোলায় চড়ে। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এবছরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানান। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলার এবছর ৫৮০টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
গত বছর এই জেলা ৫৫৫টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব করা হয়, সেই তুলনায় এ বছর ২৫টি পূজামন্ডপ বেড়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরে ৭৬টি, নাসিরনগর উপজেলায় ১৫৫টি, সরাইল উপজেলায় ৪৮টি, কসবা উপজেলায় ৪৭ টি, আখাউড়া উপজেলায় ২২ টি, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি, বিজয়নগর উপজেলায় ৫৭টি, নবীনগর উপজেলায় ১২১টি, ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪১টি মন্ডপে এই বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হছে। ঢাকের সানাই কাঁসর ঘণ্টা ও শাঁখের ধ্বনিতে মুখর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আশপাশ এলাকার প্রতিটি পূজামণ্ডপগুলো।
পূজারীরা আনন্দিত তারা বলছেন দুর্গা মায়ের গমনের ভক্তরা সকলেই আনন্দিত। ভক্তদের মনে লেগেছে আনন্দের দোলা। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে রয়েছে তৎপরতা পুলিশ পাশাপাশি বিজিপি, আনসার সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনী। শহরের দক্ষিণ কালিবাড়ি মোড় মন্দিরে সুবুধ চন্দ্র দাশের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, মায়ের আগমন উপলক্ষ্যে আমরা সবাই বেশ খুশি। এবার জগৎ জননী মায়ের কাছে দেশের জন্য প্রার্থনা করবো, মা যেন সকল রোগ শোক থেকে আমাদেরকে মুক্ত রাখেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় হিন্দু মহা জুটের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চৌধুরী রিপন করোনার কারণে দূরত্ব বজায় রেখে প্রার্থনায় অংশগ্রহণ সহ সরকারি বিধি নিষেধাজ্ঞা মেনে পুজা উদযাপন সম্পূর্ণ করা হবে। ১২আক্টেবর নবপত্রিকা স্নান,সপ্তমীতে আগমন হয় নবপত্রিকা গঙ্গায় ভাসিয়ে। এই রীতিকে কলাবউ স্নান। এই নবপত্রিকা আসলে ন’টি উদ্ভিদের সম্মেলন, যাদের কলাগাছের সঙ্গে একসঙ্গে জোড়া বেলসহ শ্বেত অপরাজিতার লতায় বেঁধে, লাল পাড় সাদা শাড়িতে জড়িয়ে, তার ওপর সিঁদুর ছুঁইয়ে বধূ বেশে স্থাপন করা হয় দুর্গার ডানদিকে।
আর তাই স্থানবিশেষে তা গণেশের পাশে দাঁড়ানো থাকে বলে, তাকে বলে গণেশের স্ত্রী। এই নবপত্রিকা আসলে নবদুর্গার প্রতীকী। তার প্রবেশের আগে দেবী চামুন্ডার আবাহনও পুজো করা হয়। ন’টি উদ্ভিদের সাথে দেবীর এই ন’টি রূপকে চিনে পূজারীরা। কলা-দেবী ব্রহ্মানী, ইঙ্গিত করে অশুভ শক্তির বিনাশ, কচু- দেবী কালিকা, যিনি অভয়দায়িনী, হলুদ- রাত্রী, যিনি মঙ্গলকারক,জয়ন্তী- দেবী কার্তিকী, যিনি হলেন ঔজ্জ্বল্যদায়িনী,বিল্ব- দেবী শিবানী, সন্তোষের প্রতীক,ডালিম- হল রক্তদন্ডিকা, অশোক- শোকরহিতা, ধান- লক্ষ্মী,মানকচু- দেবী চামুণ্ডা।উৎসবকে ঘিরে দেবী দূর্গার সাথে রয়েছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষী আর সরস্বতী দেবী।
সপ্তমীপূজা শেষে ১৩ ই অক্টোবর বুধবারে দুর্গাপুজোর অষ্টমীর সকালে কুমারী পুজোর আয়োজনও থাকতে পারে বিভিন্ন পুজো প্রাঙ্গণে এক নাবালিকাকে ‘চিন্ময়ী’ রূপে আরাধনায় থাকছে কুমারী পুজো। এদিকে পঞ্জিকা বলছে ঘোটক, দোলার গমনাগমন এবার ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় আসবে দুর্গা মা। শাস্ত্র মতে, এই সময়ে যুদ্ধ, অশান্তি, হানাহানির সম্ভাবনা থাকে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়েবে অষ্টমী -নবমী বিশেষ করে অশুভ বার্তা এবং করোনার থেকে রক্ষাপেতে মানব কল্যাণের মঙ্গলময়ী প্রার্থনা থাকবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে শুরু হলো দুর্গোৎসব

আপডেট সময় : ০৬:০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১
সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ১১ অক্টোবর সোমবার থেকে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু এই বছরের দূর্গা পূজা। এ বছর দেবীদূর্গা এসেছেড়ায় চড়ে এবং ফিরে যাবেন দোলায় চড়ে। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এবছরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানান। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলার এবছর ৫৮০টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
গত বছর এই জেলা ৫৫৫টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব করা হয়, সেই তুলনায় এ বছর ২৫টি পূজামন্ডপ বেড়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরে ৭৬টি, নাসিরনগর উপজেলায় ১৫৫টি, সরাইল উপজেলায় ৪৮টি, কসবা উপজেলায় ৪৭ টি, আখাউড়া উপজেলায় ২২ টি, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি, বিজয়নগর উপজেলায় ৫৭টি, নবীনগর উপজেলায় ১২১টি, ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৪১টি মন্ডপে এই বছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হছে। ঢাকের সানাই কাঁসর ঘণ্টা ও শাঁখের ধ্বনিতে মুখর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের আশপাশ এলাকার প্রতিটি পূজামণ্ডপগুলো।
পূজারীরা আনন্দিত তারা বলছেন দুর্গা মায়ের গমনের ভক্তরা সকলেই আনন্দিত। ভক্তদের মনে লেগেছে আনন্দের দোলা। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে রয়েছে তৎপরতা পুলিশ পাশাপাশি বিজিপি, আনসার সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনী। শহরের দক্ষিণ কালিবাড়ি মোড় মন্দিরে সুবুধ চন্দ্র দাশের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, মায়ের আগমন উপলক্ষ্যে আমরা সবাই বেশ খুশি। এবার জগৎ জননী মায়ের কাছে দেশের জন্য প্রার্থনা করবো, মা যেন সকল রোগ শোক থেকে আমাদেরকে মুক্ত রাখেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় হিন্দু মহা জুটের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চৌধুরী রিপন করোনার কারণে দূরত্ব বজায় রেখে প্রার্থনায় অংশগ্রহণ সহ সরকারি বিধি নিষেধাজ্ঞা মেনে পুজা উদযাপন সম্পূর্ণ করা হবে। ১২আক্টেবর নবপত্রিকা স্নান,সপ্তমীতে আগমন হয় নবপত্রিকা গঙ্গায় ভাসিয়ে। এই রীতিকে কলাবউ স্নান। এই নবপত্রিকা আসলে ন’টি উদ্ভিদের সম্মেলন, যাদের কলাগাছের সঙ্গে একসঙ্গে জোড়া বেলসহ শ্বেত অপরাজিতার লতায় বেঁধে, লাল পাড় সাদা শাড়িতে জড়িয়ে, তার ওপর সিঁদুর ছুঁইয়ে বধূ বেশে স্থাপন করা হয় দুর্গার ডানদিকে।
আর তাই স্থানবিশেষে তা গণেশের পাশে দাঁড়ানো থাকে বলে, তাকে বলে গণেশের স্ত্রী। এই নবপত্রিকা আসলে নবদুর্গার প্রতীকী। তার প্রবেশের আগে দেবী চামুন্ডার আবাহনও পুজো করা হয়। ন’টি উদ্ভিদের সাথে দেবীর এই ন’টি রূপকে চিনে পূজারীরা। কলা-দেবী ব্রহ্মানী, ইঙ্গিত করে অশুভ শক্তির বিনাশ, কচু- দেবী কালিকা, যিনি অভয়দায়িনী, হলুদ- রাত্রী, যিনি মঙ্গলকারক,জয়ন্তী- দেবী কার্তিকী, যিনি হলেন ঔজ্জ্বল্যদায়িনী,বিল্ব- দেবী শিবানী, সন্তোষের প্রতীক,ডালিম- হল রক্তদন্ডিকা, অশোক- শোকরহিতা, ধান- লক্ষ্মী,মানকচু- দেবী চামুণ্ডা।উৎসবকে ঘিরে দেবী দূর্গার সাথে রয়েছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষী আর সরস্বতী দেবী।
সপ্তমীপূজা শেষে ১৩ ই অক্টোবর বুধবারে দুর্গাপুজোর অষ্টমীর সকালে কুমারী পুজোর আয়োজনও থাকতে পারে বিভিন্ন পুজো প্রাঙ্গণে এক নাবালিকাকে ‘চিন্ময়ী’ রূপে আরাধনায় থাকছে কুমারী পুজো। এদিকে পঞ্জিকা বলছে ঘোটক, দোলার গমনাগমন এবার ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় আসবে দুর্গা মা। শাস্ত্র মতে, এই সময়ে যুদ্ধ, অশান্তি, হানাহানির সম্ভাবনা থাকে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি দেয়া হয়েবে অষ্টমী -নবমী বিশেষ করে অশুভ বার্তা এবং করোনার থেকে রক্ষাপেতে মানব কল্যাণের মঙ্গলময়ী প্রার্থনা থাকবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে।