ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

চান্দিনায় মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ঘাতক পিতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মো. আবদুল বাতেনঃ কুমিল্লার চান্দিনায় প্রতিপক্ষ ভাতিজাদের মামলায় ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ঘাতক পিতা সোলেমান ব্যাপারী (৪৫)।

বুধবার (২০ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাকসুদুর রহমান এর আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের মেয়েকে হত্যার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সুজন দত্ত। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘন্টা খুনি সোলেমান ব্যাপারী বক্তব্য শুনেছেন আদালত। এসময় নিজের মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।

চান্দিনার গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের সোলেমান ব্যাপারী তার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে জানায়, ৭শতাংশ জমি নিয়ে তার আপন ভাতিজা শাহজালাল ও শাহকামাল সাথে বিরোধ চলছিল। ওই সম্পত্তি বিরোধে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। ঘটনার পর তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি শেষে থানায় মামলা করেন সোলেমান।

সেই মামলায় পুলিশ ৩২৬ ধারা যুক্ত না করায় মাথা গরম হয়ে যায় সোলেমানের। প্রথমে নিজের মাথা ফাঁটিয়ে ৩২৬ ধারা যুক্ত করে মামলা করবেন। কিন্তু কুচক্রিদের সাথে আলোচনা করে তা থেকে সরে নিজের মেয়েকেই খুন করার পরিকল্পনা করেন তিনি।

দুই ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে ছোট্ট সংসার সোলেমান ব্যাপারী। দুই ছেলে ইউসুফ ও ইউনুছ ঢাকার একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সুবাদে দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস তার। ২৫ অক্টোবর মারামারির ঘটনায় স্ত্রী হাসপাতালে থাকায় বড় মেয়ে এলমাও মায়ের সাথে হাসপাতালে ছিলেন।

পিতাকে রান্না করে খাওয়ানোর জন্য বাড়িতে ছিল ছোট মেয়ে সালমা (১৪)। ১ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে স্ত্রী ও বড় মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ি (সোলেমান এর শ্বশুর বাড়ি) পৌঁছে দিয়ে সন্ধ্যায় ফিরেন বাড়িতে। সন্ধ্যার পর মেয়ে সালমা আক্তার নিজের হাতের রান্না পিতার খাবার প্লেইটে তুলে দেন। দুইজনে খাবার শেষে মেয়েকে ঘুমাতে বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান সোলেমান।

সেই রাতেই তার উকিল শ্বশুর আব্দুর রহমান এর ঘরে হত্যার পরিকল্পনা করে গভীর রাতে বাড়িতে এসে মেয়েকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর মরদেহ ঘর থেকে বের করে ভাতিজাদের ঘরের পিছনে নিয়ে মেয়ের নিথর মরদেহে এলোপাথারী কুপিয়ে রক্তাক্ত করে মরদেহ পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়।

ঘটনার নাটক সাজাতে নিজের ঘরের টিনের বেড়া খুলে ও দরজা খুলে রেখে রাতেই ফের আব্দুর রহমান এর বাড়িতে চলে যান সোলেমান। পরদিন ভাতিজাসহ ১০জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন সোলেমান ব্যাপারী। ওই মামলার পর থেকে এলাকা ছাড়া মামলার আসামীরা।

তারপরও যখন পুলিশ বিভিন্ন ভাবে সোলেমানকে সন্দেহ করছিল তখন গত ৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর নিখোঁজের নাটক সাজান সোলেমান। সারারাত নিখোঁজ থেকে নিজের গলার উপরের চামড়া ব্লেড দিয়ে নিজেই কেটে ভোরে বাড়ি সংলগ্ন একটি বাগানে অচেতনের ভাব দেখিয়ে পড়ে থাকেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।

পুলিশ গত ৬ অক্টোবর সোলেমান ব্যাপারীর উকিল শ্বশুর আব্দুর রহমান ও বন্ধু খলিলকে আটক করলে কিশোরী সালমা হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসে। পরে গত ৭ অক্টোবর পিতা কর্তৃক সন্তান হত্যার চাঞ্চল্যকর ওই রহস্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ।

ওই ঘটনায় চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সুজন দত্ত বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সোলেমান ব্যাপারী, তার দুই ভাই আব্দুল বাতেন (৫২), লোকমান হোসেন (৩৫)সহ ৭জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৬জনকে আটক করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চান্দিনায় মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ঘাতক পিতা

আপডেট সময় : ০৭:০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১

মো. আবদুল বাতেনঃ কুমিল্লার চান্দিনায় প্রতিপক্ষ ভাতিজাদের মামলায় ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন ঘাতক পিতা সোলেমান ব্যাপারী (৪৫)।

বুধবার (২০ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাকসুদুর রহমান এর আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের মেয়েকে হত্যার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সুজন দত্ত। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘন্টা খুনি সোলেমান ব্যাপারী বক্তব্য শুনেছেন আদালত। এসময় নিজের মেয়েকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।

চান্দিনার গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের সোলেমান ব্যাপারী তার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে জানায়, ৭শতাংশ জমি নিয়ে তার আপন ভাতিজা শাহজালাল ও শাহকামাল সাথে বিরোধ চলছিল। ওই সম্পত্তি বিরোধে গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। ঘটনার পর তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি শেষে থানায় মামলা করেন সোলেমান।

সেই মামলায় পুলিশ ৩২৬ ধারা যুক্ত না করায় মাথা গরম হয়ে যায় সোলেমানের। প্রথমে নিজের মাথা ফাঁটিয়ে ৩২৬ ধারা যুক্ত করে মামলা করবেন। কিন্তু কুচক্রিদের সাথে আলোচনা করে তা থেকে সরে নিজের মেয়েকেই খুন করার পরিকল্পনা করেন তিনি।

দুই ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে ছোট্ট সংসার সোলেমান ব্যাপারী। দুই ছেলে ইউসুফ ও ইউনুছ ঢাকার একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সুবাদে দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস তার। ২৫ অক্টোবর মারামারির ঘটনায় স্ত্রী হাসপাতালে থাকায় বড় মেয়ে এলমাও মায়ের সাথে হাসপাতালে ছিলেন।

পিতাকে রান্না করে খাওয়ানোর জন্য বাড়িতে ছিল ছোট মেয়ে সালমা (১৪)। ১ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে স্ত্রী ও বড় মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ি (সোলেমান এর শ্বশুর বাড়ি) পৌঁছে দিয়ে সন্ধ্যায় ফিরেন বাড়িতে। সন্ধ্যার পর মেয়ে সালমা আক্তার নিজের হাতের রান্না পিতার খাবার প্লেইটে তুলে দেন। দুইজনে খাবার শেষে মেয়েকে ঘুমাতে বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান সোলেমান।

সেই রাতেই তার উকিল শ্বশুর আব্দুর রহমান এর ঘরে হত্যার পরিকল্পনা করে গভীর রাতে বাড়িতে এসে মেয়েকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর মরদেহ ঘর থেকে বের করে ভাতিজাদের ঘরের পিছনে নিয়ে মেয়ের নিথর মরদেহে এলোপাথারী কুপিয়ে রক্তাক্ত করে মরদেহ পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়।

ঘটনার নাটক সাজাতে নিজের ঘরের টিনের বেড়া খুলে ও দরজা খুলে রেখে রাতেই ফের আব্দুর রহমান এর বাড়িতে চলে যান সোলেমান। পরদিন ভাতিজাসহ ১০জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন সোলেমান ব্যাপারী। ওই মামলার পর থেকে এলাকা ছাড়া মামলার আসামীরা।

তারপরও যখন পুলিশ বিভিন্ন ভাবে সোলেমানকে সন্দেহ করছিল তখন গত ৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর নিখোঁজের নাটক সাজান সোলেমান। সারারাত নিখোঁজ থেকে নিজের গলার উপরের চামড়া ব্লেড দিয়ে নিজেই কেটে ভোরে বাড়ি সংলগ্ন একটি বাগানে অচেতনের ভাব দেখিয়ে পড়ে থাকেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।

পুলিশ গত ৬ অক্টোবর সোলেমান ব্যাপারীর উকিল শ্বশুর আব্দুর রহমান ও বন্ধু খলিলকে আটক করলে কিশোরী সালমা হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসে। পরে গত ৭ অক্টোবর পিতা কর্তৃক সন্তান হত্যার চাঞ্চল্যকর ওই রহস্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ।

ওই ঘটনায় চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সুজন দত্ত বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সোলেমান ব্যাপারী, তার দুই ভাই আব্দুল বাতেন (৫২), লোকমান হোসেন (৩৫)সহ ৭জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৬জনকে আটক করা হয়েছে।