ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর এড়িয়ায় নেই কোনো জনবসতি ও সংযোগ সড়ক

এস আর শফিক স্বপন, মাদারীপুর।
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ মে ২০২৩ ৮০ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাদারীপুরে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু যেখানে নেই কোনো জনবসতি, এমনকি নেই সংযোগ সড়ক।দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাস এমনি এক সেতুর দেখা মিলেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যরচক গ্রামে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণ করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। স্থানীয়দের দাবি উপজেলা প্রকৌশলীর স্থান নির্বাচনে ভুলের কারণে সরকারের লাখ লাখ টাকায় নির্মিত সেতুটি জনগণের কাজে আসছে না।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচর গ্রামের খালের উপর ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। অথচ আশপাশে নেই বাড়িঘর কিংবা রাস্তাঘাট। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা।

তারা বলছেন, অযথাই সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। মানুষের যদি কাজেই না লাগে তাহলে এ সেতু নির্মাণ করা হলো কেন।

একাধিক গ্রামবাসী জানান, মরা খালের ওপারে প্রভাবশালী এক ঠিকাদার অনেক জমি কিনেছেন। ওখানে নাকি গরুর ফার্ম করবেন। তাই আগেভাগেই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানাগেছে.সেতু নির্মাণের আগে মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে স্থান নির্বাচন ও সেতুর প্রয়োনীয়তা সম্পর্কিত তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়। এরপর অনুমোদন হলে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এরপর নির্মিত হয় সেতুটি।

এ ব্যপারে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। কাজ সম্পন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স ।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আকতার হোসেন বাবুল বলেন, ‘আমি টেন্ডার পেয়েই কাজ করেছি। স্থান নির্বাচন করে ইঞ্জিনিয়ার আমাকে সাইট বুঝিয়ে দিয়েছে। আমার দায় কাজের গুণগত মান নিয়ে। এই সেতু দিয়ে লোক চলাচল করল কি করল না সেটা দেখার দায়ভার আমার না।

খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দবির মালত বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক স্থানে সেতু দরকার কিন্তু সেতু নেই। একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে বাড়িঘর নাই রাস্তাঘাটও নাই। সেতু নির্মাণ হবে সেটাও আমরা জানতাম না।

একই রকম বক্তব্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল মোল্লার। তিনি জানান, আমার ইউনিয়নের অনেক স্থানেই সেতু দরকার অথচ সেতু হচ্ছে না। অথচ যেখানে দরকার নেই সেখানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনুদ্দিন বলেন, সরকারের অর্থ কাজে আসবে না এমন কোনো স্থানে সেতু নির্মাণ করার কথা নয়। সেতু নির্মানের আগে স্থান নির্বাচন করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর এড়িয়ায় নেই কোনো জনবসতি ও সংযোগ সড়ক

আপডেট সময় : ০৯:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ মে ২০২৩

মাদারীপুরে ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু যেখানে নেই কোনো জনবসতি, এমনকি নেই সংযোগ সড়ক।দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাস এমনি এক সেতুর দেখা মিলেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যরচক গ্রামে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণ করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। স্থানীয়দের দাবি উপজেলা প্রকৌশলীর স্থান নির্বাচনে ভুলের কারণে সরকারের লাখ লাখ টাকায় নির্মিত সেতুটি জনগণের কাজে আসছে না।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচর গ্রামের খালের উপর ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। অথচ আশপাশে নেই বাড়িঘর কিংবা রাস্তাঘাট। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা।

তারা বলছেন, অযথাই সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। মানুষের যদি কাজেই না লাগে তাহলে এ সেতু নির্মাণ করা হলো কেন।

একাধিক গ্রামবাসী জানান, মরা খালের ওপারে প্রভাবশালী এক ঠিকাদার অনেক জমি কিনেছেন। ওখানে নাকি গরুর ফার্ম করবেন। তাই আগেভাগেই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানাগেছে.সেতু নির্মাণের আগে মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে স্থান নির্বাচন ও সেতুর প্রয়োনীয়তা সম্পর্কিত তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়। এরপর অনুমোদন হলে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এরপর নির্মিত হয় সেতুটি।

এ ব্যপারে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। কাজ সম্পন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স ।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আকতার হোসেন বাবুল বলেন, ‘আমি টেন্ডার পেয়েই কাজ করেছি। স্থান নির্বাচন করে ইঞ্জিনিয়ার আমাকে সাইট বুঝিয়ে দিয়েছে। আমার দায় কাজের গুণগত মান নিয়ে। এই সেতু দিয়ে লোক চলাচল করল কি করল না সেটা দেখার দায়ভার আমার না।

খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দবির মালত বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক স্থানে সেতু দরকার কিন্তু সেতু নেই। একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে বাড়িঘর নাই রাস্তাঘাটও নাই। সেতু নির্মাণ হবে সেটাও আমরা জানতাম না।

একই রকম বক্তব্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল মোল্লার। তিনি জানান, আমার ইউনিয়নের অনেক স্থানেই সেতু দরকার অথচ সেতু হচ্ছে না। অথচ যেখানে দরকার নেই সেখানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনুদ্দিন বলেন, সরকারের অর্থ কাজে আসবে না এমন কোনো স্থানে সেতু নির্মাণ করার কথা নয়। সেতু নির্মানের আগে স্থান নির্বাচন করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।