ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

গাজীপুরের শ্রীপুরে দেলোয়ারের বাগানে দৃষ্টিনন্দন টিউলিপ ফুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহফুজুর রহমান ইকবাল, গাজীপুরঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামের সফল উদ্যোক্তা দেলোয়ারের মৌমিতা ফ্লাওয়ার্স বাগানে আবারো ফুটেছে সারি সারি নেদারল্যান্ডের টিউলিপ ফুল। টিউলিপ শীতপ্রধান দেশের ফুল। এর উৎপত্তির আদিস্থান নেদারল্যান্ডস।

 

অটোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকেই এই ফুলের পরিচিতি রয়েছে।অনেকের মতে এটি পামির মালভূমি এবং হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চল থেকে উদ্ভুত হয়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।কিন্তু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে এর দেখা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন তার ফুলবাগানে বানিজ্যিকভাবে চাষ ও উৎপাদন করে আজ সেই স্বপ্নকে অনেকটাই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

 

ফুলচাষী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২০সালে তিনি সীমিত পরিসরে তার বাগানে চাষ করে কয়েকটি রঙের টিউলিপ ফুল পেয়েছিলাম। এবার তা থেকে চারা করে টিউবার ছড়িয়ে দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এখন টিউলিপ ঘিরে মানুষের মাঝে তৈরী হচ্ছে সম্ভাবনার স্বপ্ন। এ টিউলিপ আমাদের দেশে কৃষি অর্থনীতির চাকা শক্তিশালী হওয়ার পথও খুলে দিচ্ছে।

দেশের মাটিতে প্রথম টিউলিপ ফুল ফুটায় তা নিয়ে রীতিমত দেশ জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। দেলোয়ারের টিউলিপ বাগান দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তার শ্রীপুরের বাড়িতে ভিড় করে। পর্যায়ক্রমে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেলোয়ারের বাগানে দ্বিতীয় বারের মতো টিউলিপ ফুল ফুটে।

 

এই টিউলিপ নজর কেড়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। টিউলিপ বাগান পরিদর্শনে এসেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। শ্রীপুরে আমার বাগানে পরপর দুইবার টিউলিপ ফুটায় সাধারণ মানুষের কাছ তা ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

 

সেই চিন্তা থেকে এবার নেদারল্যান্ড থেকে হলুদ, লাল, চার ধরনের পিংক, অরেঞ্জ, সাদা, পার্পেল রঙেরসহ ১০ ধরনের ৭০ হাজার টিউলিপের বাল্ব (বীজ) আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা টিউলিপ বাল্ব দিয়ে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ৪০ হাজার, রাজশাহীতে এক হাজার ও যশোরের গদখালিতে পাঁচ হাজার বাল্ব বাগান তৈরী করে দেশের টিউলিপের এলাকা নির্ধারণে সম্ভাবতা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়াও অনেক ছোট উদ্যোক্তা টিউলিপের বাল্ব সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মিটাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফুল আমদানি করা হয়। ফুল চাষে জড়িয়ে আছে কৃষি অর্থনীতির একটি অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফুল চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠলেও আমরা পিছিয়ে। অর্থনীতি ও চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিদেশি ফুল দিয়ে আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়।

 

নানা প্রতিবন্ধকতার পরও থেমে থাকিনি। এরই মধ্যে জার্বেরা, চায়না গোলাপের পর বিদেশী টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে এসেছে একের পর এক সফলতা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্সস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা(ফুল গবেষক) ফারজানা নাসরিন খান বলেন, আমাদের দেশে টিউলিপ ঘিরে এখন সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। আগে শীতের সময়ে বাসা বাড়ির টবে অনেকেই টিউলিপের চাষ করলেও এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষ হচ্ছে এটা সত্যিই আনন্দের খবর।

 

আমাদের দেশে টিউলিপের একটি বাজার রয়েছে, দেশের বাহিরেও বাজার রয়েছে। কৃষি অর্থনীতিতে দারুন একটি আশা তৈরি হয়েছে। চাষ স্মরণে সম্প্রসারণে বেসরকারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারকেও সহায়তার হাত বাড়াতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

গাজীপুরের শ্রীপুরে দেলোয়ারের বাগানে দৃষ্টিনন্দন টিউলিপ ফুল

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২২

মাহফুজুর রহমান ইকবাল, গাজীপুরঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামের সফল উদ্যোক্তা দেলোয়ারের মৌমিতা ফ্লাওয়ার্স বাগানে আবারো ফুটেছে সারি সারি নেদারল্যান্ডের টিউলিপ ফুল। টিউলিপ শীতপ্রধান দেশের ফুল। এর উৎপত্তির আদিস্থান নেদারল্যান্ডস।

 

অটোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকেই এই ফুলের পরিচিতি রয়েছে।অনেকের মতে এটি পামির মালভূমি এবং হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চল থেকে উদ্ভুত হয়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।কিন্তু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে এর দেখা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন তার ফুলবাগানে বানিজ্যিকভাবে চাষ ও উৎপাদন করে আজ সেই স্বপ্নকে অনেকটাই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

 

ফুলচাষী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২০সালে তিনি সীমিত পরিসরে তার বাগানে চাষ করে কয়েকটি রঙের টিউলিপ ফুল পেয়েছিলাম। এবার তা থেকে চারা করে টিউবার ছড়িয়ে দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এখন টিউলিপ ঘিরে মানুষের মাঝে তৈরী হচ্ছে সম্ভাবনার স্বপ্ন। এ টিউলিপ আমাদের দেশে কৃষি অর্থনীতির চাকা শক্তিশালী হওয়ার পথও খুলে দিচ্ছে।

দেশের মাটিতে প্রথম টিউলিপ ফুল ফুটায় তা নিয়ে রীতিমত দেশ জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। দেলোয়ারের টিউলিপ বাগান দেখতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তার শ্রীপুরের বাড়িতে ভিড় করে। পর্যায়ক্রমে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেলোয়ারের বাগানে দ্বিতীয় বারের মতো টিউলিপ ফুল ফুটে।

 

এই টিউলিপ নজর কেড়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। টিউলিপ বাগান পরিদর্শনে এসেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। শ্রীপুরে আমার বাগানে পরপর দুইবার টিউলিপ ফুটায় সাধারণ মানুষের কাছ তা ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

 

সেই চিন্তা থেকে এবার নেদারল্যান্ড থেকে হলুদ, লাল, চার ধরনের পিংক, অরেঞ্জ, সাদা, পার্পেল রঙেরসহ ১০ ধরনের ৭০ হাজার টিউলিপের বাল্ব (বীজ) আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা টিউলিপ বাল্ব দিয়ে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ৪০ হাজার, রাজশাহীতে এক হাজার ও যশোরের গদখালিতে পাঁচ হাজার বাল্ব বাগান তৈরী করে দেশের টিউলিপের এলাকা নির্ধারণে সম্ভাবতা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়াও অনেক ছোট উদ্যোক্তা টিউলিপের বাল্ব সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মিটাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফুল আমদানি করা হয়। ফুল চাষে জড়িয়ে আছে কৃষি অর্থনীতির একটি অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফুল চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠলেও আমরা পিছিয়ে। অর্থনীতি ও চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিদেশি ফুল দিয়ে আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়।

 

নানা প্রতিবন্ধকতার পরও থেমে থাকিনি। এরই মধ্যে জার্বেরা, চায়না গোলাপের পর বিদেশী টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে এসেছে একের পর এক সফলতা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্সস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা(ফুল গবেষক) ফারজানা নাসরিন খান বলেন, আমাদের দেশে টিউলিপ ঘিরে এখন সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। আগে শীতের সময়ে বাসা বাড়ির টবে অনেকেই টিউলিপের চাষ করলেও এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষ হচ্ছে এটা সত্যিই আনন্দের খবর।

 

আমাদের দেশে টিউলিপের একটি বাজার রয়েছে, দেশের বাহিরেও বাজার রয়েছে। কৃষি অর্থনীতিতে দারুন একটি আশা তৈরি হয়েছে। চাষ স্মরণে সম্প্রসারণে বেসরকারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারকেও সহায়তার হাত বাড়াতে হবে।