ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

নাটোরের বড়াইগ্রামে কমিউনিটি পুলিশের স্বীকৃতি চায় হতদরিদ্র বাবুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ১৭৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাহিদ, নাটোরঃ নাটোরের বড়াইগ্রামে ব্যস্ততম রাজাপুর বাজারে বিনা পারিশ্রমিকে গত ১৫ বছর যাবত কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন হতদরিদ্র মো.বাবুল হোসেন (৩৫)। তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের রাওতা গ্রামের হাচেন আলীর ছেলে।

 

২০০৬ সাল থেকে অদ্যাবধি রাজাপুর বাজারের যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনকল্পে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক পারাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন তিনি। যদিও তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এজন্য নাটোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরে তার স্বেচ্ছাশ্রমের বিষয়ে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

বাবুল হোসেন জানান, ২০০৬ সালে রাজাপুর কলেজের ছাত্র জামরুল ইসলাম রাজাপুর বাজারে সড়ক পারাপারের সময় আমার চোখের সামনে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়। তখন তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে ও ভর্তি করাতে সহযোগিতা করি। বর্তমানে শারীরিক প্রতিবন্ধী অবস্থায় জামরুল সোনালী বাংকে একজন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

তিনি উপজেলার চান্দাই গ্রামের ছোবাহান সরকারের ছেলে। জামরুলের ওই দুর্ঘটনা দেখে, মানবতার দৃষ্টিতে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রানিত হয়ে, সেচ্ছায় মানব কল্যানে, সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে আত্মনিয়োগ করি। আর যেন কোন শিক্ষার্থী জামরুলের ন্যায় রাজাপুর বাজারে মহাসড়ক পারাপারেরর সময় দুর্ঘটনায় পতিত না হয় সেজন্য এ কাজ শুরু করি।

 

দীর্ঘ দিন যাবত রাজাপুর বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে একজন ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় আমি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ বিনা পারিশ্রমিকে সকল যানবাহন পারাপার সহ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের মহাসড়ক পারাপারে সহযোগিতা করে আসছি। তিনি আরও বলেন, রাজাপুর বাজার সংলগ্ন মুলাডুলি রেলগেটে ট্রেন ক্রসিং করার সময় রেলগেট সাময়িক বন্ধ থাকে।

 

তখন মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঐ সময় রাজাপুর বাজারে শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের মহাসড়ক পারাপার দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে ইতোপূর্বে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে “নিরাপদ সড়ক পারাপার কমিটি” গঠিত হয় এবং সেই কমিটি আমাকে কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে কাজ করার দায়িত্ব দেন। কিন্তু সেই কমিটিও আমাকে কোন আর্থিক সহায়তা দেয় না।

 

এছাড়া জাতীয় নির্বাচন, পূজা-পার্বন সহ সরকারী বিভিন্ন কার্য্যাবলী কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকি। তাই আমাকে কমিউনিটি পুলিশের স্বীকৃতি দিয়ে সরকারী তহবিল থেকে বেতন ভাতা প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রির কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

প্রতিবন্ধী বাংক কর্মকর্তা মো.জামরুল ইসলাম জানান, ২০০৬ সালে আমি রাজাপুর বাজারে মহাসড়ক পারাপারের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরতর আহত হই। তখন তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেয়া বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন বাবুল হোসেন।

 

গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সহ রাজাপুর কলেজ, হাইস্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানগণ যথাক্রমে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তুঘলক, প্রধান শিক্ষক এবি.এম আশরাফুল ইসলাম স্বপন, এবি এম কামাল হোসেন ও রাজাপুর বাজার কমিটির কর্মকর্তারা অসহায় বাবুলকে কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের জোর দাবী জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নাটোরের বড়াইগ্রামে কমিউনিটি পুলিশের স্বীকৃতি চায় হতদরিদ্র বাবুল

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

নাহিদ, নাটোরঃ নাটোরের বড়াইগ্রামে ব্যস্ততম রাজাপুর বাজারে বিনা পারিশ্রমিকে গত ১৫ বছর যাবত কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন হতদরিদ্র মো.বাবুল হোসেন (৩৫)। তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের রাওতা গ্রামের হাচেন আলীর ছেলে।

 

২০০৬ সাল থেকে অদ্যাবধি রাজাপুর বাজারের যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনকল্পে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক পারাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন তিনি। যদিও তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এজন্য নাটোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ বিভিন্ন দপ্তরে তার স্বেচ্ছাশ্রমের বিষয়ে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

বাবুল হোসেন জানান, ২০০৬ সালে রাজাপুর কলেজের ছাত্র জামরুল ইসলাম রাজাপুর বাজারে সড়ক পারাপারের সময় আমার চোখের সামনে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়। তখন তাকে গুরুতর আহতাবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে ও ভর্তি করাতে সহযোগিতা করি। বর্তমানে শারীরিক প্রতিবন্ধী অবস্থায় জামরুল সোনালী বাংকে একজন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

তিনি উপজেলার চান্দাই গ্রামের ছোবাহান সরকারের ছেলে। জামরুলের ওই দুর্ঘটনা দেখে, মানবতার দৃষ্টিতে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রানিত হয়ে, সেচ্ছায় মানব কল্যানে, সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে আত্মনিয়োগ করি। আর যেন কোন শিক্ষার্থী জামরুলের ন্যায় রাজাপুর বাজারে মহাসড়ক পারাপারেরর সময় দুর্ঘটনায় পতিত না হয় সেজন্য এ কাজ শুরু করি।

 

দীর্ঘ দিন যাবত রাজাপুর বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে একজন ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় আমি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ বিনা পারিশ্রমিকে সকল যানবাহন পারাপার সহ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং জনসাধারণের মহাসড়ক পারাপারে সহযোগিতা করে আসছি। তিনি আরও বলেন, রাজাপুর বাজার সংলগ্ন মুলাডুলি রেলগেটে ট্রেন ক্রসিং করার সময় রেলগেট সাময়িক বন্ধ থাকে।

 

তখন মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঐ সময় রাজাপুর বাজারে শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের মহাসড়ক পারাপার দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে ইতোপূর্বে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে “নিরাপদ সড়ক পারাপার কমিটি” গঠিত হয় এবং সেই কমিটি আমাকে কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে কাজ করার দায়িত্ব দেন। কিন্তু সেই কমিটিও আমাকে কোন আর্থিক সহায়তা দেয় না।

 

এছাড়া জাতীয় নির্বাচন, পূজা-পার্বন সহ সরকারী বিভিন্ন কার্য্যাবলী কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকি। তাই আমাকে কমিউনিটি পুলিশের স্বীকৃতি দিয়ে সরকারী তহবিল থেকে বেতন ভাতা প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রির কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

প্রতিবন্ধী বাংক কর্মকর্তা মো.জামরুল ইসলাম জানান, ২০০৬ সালে আমি রাজাপুর বাজারে মহাসড়ক পারাপারের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরতর আহত হই। তখন তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেয়া বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন বাবুল হোসেন।

 

গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান সহ রাজাপুর কলেজ, হাইস্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানগণ যথাক্রমে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তুঘলক, প্রধান শিক্ষক এবি.এম আশরাফুল ইসলাম স্বপন, এবি এম কামাল হোসেন ও রাজাপুর বাজার কমিটির কর্মকর্তারা অসহায় বাবুলকে কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের জোর দাবী জানিয়েছেন।