ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

সুনামগঞ্জে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশের জেরে নারীকে ৬ টুকরো

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ১৫০ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ষ্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ওষুধ কিনতে ‘অভি মেডিকেল হল’ ফার্মেসিতে গেলে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) পালাক্রমে ধর্ষণ করে ওই ফার্মেসির মালিক ও তার সহযোগীরা। ধর্ষণের আগে শাহনাজকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়।

পরে গভীর রাতে ফার্মেসির ভেতর এনার্জি ড্রিংকস খেয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করার কথা বলায় শ্বাসরোধে শাহনাজকে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরা করা হয়। পরে লাশ গুমেরও পরিকল্পনা করে ধর্ষকরা।

রাজধানী ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার শাহনাজ হত্যার মূল তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানতে পারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অভি মেডিকেল হল ফার্মেসির মালিক জিতেশচন্দ্র গোপ (৩০), মুদি মালের দোকানদার অনজিৎ গোপ (৩৩) ও অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপ (৩৬)।

গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিকেল হল থেকে শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই হেলালউদ্দিন বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে শাহনাজ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত জানান সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজ মালিকানাধীন বাসায় ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।

তার স্বামী ছরকু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন। পরিবারের সব সদস্যদের ওষুধ ‘অভি মেডিকেল হল’ নামের ফার্মেসি থেকে কেনার সুবাদে জিতেশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

শাহনাজ পারভীন কিছুদিন ধরে বেশ কিছু গোপনীয় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ সমস্যার সমাধানে সুপরামর্শের জন্য গত বুধবার বিকালে জিতেশের ফার্মেসিতে গেলে ফার্মেসির ভিতরে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে তাকে বসিয়ে রাখা হয়।

কাস্টমারের ভিড় কমলে তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক ওষুধ তাকে দেওয়া হবে বলে সময়ক্ষেপণ করে। তিনি বলেন, আসামি জিতেশচন্দ্র গোপ তার বন্ধু মুদি মালের দোকানদার অনজিৎ গোপ (৩৩) ও পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপকে (৩৬) নিয়ে শাহনাজ পারভীনকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জিতেশ শাহনাজ পারভীনকে চিকিৎসার কথা বলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ালে সে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তাকে ফার্মেসির ভিতর রেখেই জিতেশ বাইরে তালা দিয়ে চলে যায়। আশপাশের সব দোকান বন্ধ হলে এবং গভীর রাতে ফার্মেসি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এনার্জি ড্রিংকস পান করে। এর পর তারা শাহনাজ পারভীনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের বিষয়টি শাহনাজ তার পরিবারের সদস্য ও অন্যদের কাছে প্রকাশ করার কথা বললে, আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে মোতাবেক তারা পরস্পর যোগসাজশে শাহনাজ পারভীনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং বিশ্রাম কক্ষে থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে হত্যা করে।

সিআইডির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, হত্যার পর ফল কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে লাশটি মাথা, দুই হাত, দুই পা এবং বুক-পেটসহ ৬টি অংশে বিভক্ত করে ফেলে। দোকানে থাকা ওষুধের কার্টুন দিয়ে খণ্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে ফার্মেসি তালা দিয়ে চলে যায়।

পরে সুবিধাজনক সময়ে শাহনাজ পারভীনের লাশের খণ্ডিত অংশগুলো মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় এবং লোকজন চলে আসায় তারা কাজটি করতে পারেননি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সুনামগঞ্জে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশের জেরে নারীকে ৬ টুকরো

আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২

ষ্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ওষুধ কিনতে ‘অভি মেডিকেল হল’ ফার্মেসিতে গেলে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) পালাক্রমে ধর্ষণ করে ওই ফার্মেসির মালিক ও তার সহযোগীরা। ধর্ষণের আগে শাহনাজকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়।

পরে গভীর রাতে ফার্মেসির ভেতর এনার্জি ড্রিংকস খেয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করার কথা বলায় শ্বাসরোধে শাহনাজকে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরা করা হয়। পরে লাশ গুমেরও পরিকল্পনা করে ধর্ষকরা।

রাজধানী ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার শাহনাজ হত্যার মূল তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানতে পারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন অভি মেডিকেল হল ফার্মেসির মালিক জিতেশচন্দ্র গোপ (৩০), মুদি মালের দোকানদার অনজিৎ গোপ (৩৩) ও অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপ (৩৬)।

গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিকেল হল থেকে শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই হেলালউদ্দিন বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে শাহনাজ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত জানান সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজ মালিকানাধীন বাসায় ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।

তার স্বামী ছরকু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করেন। পরিবারের সব সদস্যদের ওষুধ ‘অভি মেডিকেল হল’ নামের ফার্মেসি থেকে কেনার সুবাদে জিতেশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

শাহনাজ পারভীন কিছুদিন ধরে বেশ কিছু গোপনীয় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ সমস্যার সমাধানে সুপরামর্শের জন্য গত বুধবার বিকালে জিতেশের ফার্মেসিতে গেলে ফার্মেসির ভিতরে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে তাকে বসিয়ে রাখা হয়।

কাস্টমারের ভিড় কমলে তার সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক ওষুধ তাকে দেওয়া হবে বলে সময়ক্ষেপণ করে। তিনি বলেন, আসামি জিতেশচন্দ্র গোপ তার বন্ধু মুদি মালের দোকানদার অনজিৎ গোপ (৩৩) ও পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপকে (৩৬) নিয়ে শাহনাজ পারভীনকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জিতেশ শাহনাজ পারভীনকে চিকিৎসার কথা বলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ালে সে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তাকে ফার্মেসির ভিতর রেখেই জিতেশ বাইরে তালা দিয়ে চলে যায়। আশপাশের সব দোকান বন্ধ হলে এবং গভীর রাতে ফার্মেসি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এনার্জি ড্রিংকস পান করে। এর পর তারা শাহনাজ পারভীনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের বিষয়টি শাহনাজ তার পরিবারের সদস্য ও অন্যদের কাছে প্রকাশ করার কথা বললে, আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে মোতাবেক তারা পরস্পর যোগসাজশে শাহনাজ পারভীনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং বিশ্রাম কক্ষে থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে হত্যা করে।

সিআইডির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, হত্যার পর ফল কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে লাশটি মাথা, দুই হাত, দুই পা এবং বুক-পেটসহ ৬টি অংশে বিভক্ত করে ফেলে। দোকানে থাকা ওষুধের কার্টুন দিয়ে খণ্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে ফার্মেসি তালা দিয়ে চলে যায়।

পরে সুবিধাজনক সময়ে শাহনাজ পারভীনের লাশের খণ্ডিত অংশগুলো মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় এবং লোকজন চলে আসায় তারা কাজটি করতে পারেননি