ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও বিদ্রোহী মিলে ৫৬ চেয়ারম্যান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২২ ২১৬ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ৫ ধাপে সুনামগঞ্জের ৭৮ ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ৫৬ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির ১৪, জাপা ৩, জামায়াত ১, জমিয়ত ১ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩ জন জয়লাভ করেছেন। নির্দলীয়-স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলেছেন, নির্বাচন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, প্রার্থী মনোনয়নে ভুলের জন্যই দলের বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন। দলীয় প্রতীকের অসম্মান হয়েছে।

জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ১১ উপজেলার ৭৮ ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে জয়ী হয়েছেন ২৬ জন, বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন ৩০ জন। যাদের সকলেরই আওয়ামী লীগে পদ আছে বা তৃণমূলে সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মী।

ছাতক উপজেলার ১৩, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮, দিরাই উপজেলার ৯, জগন্নাথপুর উপজেলার ৭, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ৫, ধর্মপাশা উপজেলার ৬, মধ্যনগর উপজেলার ৪, জামালগঞ্জ উপজেলার ৪, শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বুধবার পর্যন্ত ৫ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ছাতক উপজেলায় ৫ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন, একইভাবে দোয়ারাবাজায় উপজেলায় ৫ জন দলীয় মনোনীত ৩ জন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২ আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ জন এবং ভিন্ন প্রতীকে ৩ আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান হয়েছেন, দিরাই উপজেলায় নৌকা নিয়ে ৩, ভিন্ন প্রতীকে ৪ জন জয়ী হয়েছেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় নৌকা নিয়ে ৩ জন ভিন্ন প্রতীকে ৩ জন জয়ী হন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় নৌকা নিয়ে ১ জন ভিন্ন প্রতীক নিয়ে ২ জন নির্বাচিত হয়েছেন, একইভাবে ধর্মপাশায় নৌকা নিয়ে ৩ এবং ভিন্ন প্রতীকে ৩ জন, মধ্যনগর উপজেলায় নৌকা নিয়ে ১ এবং ভিন্ন প্রতীক নিয়ে ৩, জামালগঞ্জ উপজেলায় নৌকা নিয়ে ২ জন এবং শাল্লা উপজেলায় নৌকা নিয়ে ১ এবং ভিন্ন প্রতীক নিয়ে ২ জন আওয়ামী লীগ নেতা বিজয়ী হয়েছেন।

এদিকে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না গেলেও সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ ইউনিয়নে বিএনপির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সব মিলিয়ে ১৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩, ছাতক ২, দোয়ারাবাজার ১, শান্তিগঞ্জ ২, দিরাই ২, জগন্নাথপুর ১, বিশ^ম্ভরপুর ১, জামালগঞ্জ ১, শাল্লা উপজেলায় ১ জন স্থানীয় বিএনপি নেতা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন ।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৩ ইউনিয়নে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ এবং বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ১ ইউনিয়নে জাপা প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

প্রকৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ১, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ এবং জামালগঞ্জ উপজেলায় ১ জন।
এছাড়াও ছাতক উপজেলার ১টি ইউনিয়নে জামায়াত, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১টি ইউনিয়নে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি আবুল বরকত বললেন, নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক কোন আচরণ ছিল না কোথাও, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, যাচাই-বাছাই করে, তৃণমূলে উপজেলায় এবং জেলায় বর্ধিত সভা করে দলীয় প্রার্থী মনোয়ন দিলে দলীয় প্রতীকের অসম্মান হতো না। ৭৮ ইউনিয়নের ৫৬ ইউনিয়নে দলীয় নেতাদের বিজয়ী হওয়া সেটাই প্রমাণ করেছে। জেলার দলীয় দায়িত্বশীলদের ভুলেই বেশিরভাগ ইউনিয়নে দলীয় মনোনীতদের পরাজয় হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, তৃণমূলের দেওয়া তালিকাই সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে যাদের নাম রয়েছে তারাও মনোনয়ন পেয়েছেন। আবার কোথাও কোথাও নীচে যাদের নাম আছে তারাও পেয়েছে। এ কারণে কোন কোন ইউনিয়নে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট সুনামগঞ্জে কমে নি, এটি ফলাফলেই বুঝা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল দেশব্যাপী প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গত বছরের ১ মার্চ থেকে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন। দুই মাস আটকে থাকার পর ২১ জুন প্রথম ধাপে ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ও সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভাতগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াস মিয়া মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ২ নভেম্বর এ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২য় ধাপে ১১ নভেম্বর, ৩য় ধাপে ২৮ নভেম্বর, ৪র্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর এবং ৫ম ধাপে ৫ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম ধাপে ছাতকের ৩টি ইউনিয়ন, ২য় ধাপে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১৯ ইউনিয়ন, ৩য় ধাপে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন, ৪র্থ ধাপে বিশ^ম্ভরপুর, জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার ২১ ইউনিয়ন এবং ৫ম ধাপে ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও শাল্লা উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সুনামগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও বিদ্রোহী মিলে ৫৬ চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ জানুয়ারী ২০২২

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ৫ ধাপে সুনামগঞ্জের ৭৮ ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী মিলিয়ে আওয়ামী লীগের ৫৬ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির ১৪, জাপা ৩, জামায়াত ১, জমিয়ত ১ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩ জন জয়লাভ করেছেন। নির্দলীয়-স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বলেছেন, নির্বাচন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, প্রার্থী মনোনয়নে ভুলের জন্যই দলের বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন। দলীয় প্রতীকের অসম্মান হয়েছে।

জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ১১ উপজেলার ৭৮ ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে জয়ী হয়েছেন ২৬ জন, বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন ৩০ জন। যাদের সকলেরই আওয়ামী লীগে পদ আছে বা তৃণমূলে সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মী।

ছাতক উপজেলার ১৩, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮, দিরাই উপজেলার ৯, জগন্নাথপুর উপজেলার ৭, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ৫, ধর্মপাশা উপজেলার ৬, মধ্যনগর উপজেলার ৪, জামালগঞ্জ উপজেলার ৪, শাল্লা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বুধবার পর্যন্ত ৫ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ছাতক উপজেলায় ৫ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন, একইভাবে দোয়ারাবাজায় উপজেলায় ৫ জন দলীয় মনোনীত ৩ জন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২ আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ জন এবং ভিন্ন প্রতীকে ৩ আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান হয়েছেন, দিরাই উপজেলায় নৌকা নিয়ে ৩, ভিন্ন প্রতীকে ৪ জন জয়ী হয়েছেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় নৌকা নিয়ে ৩ জন ভিন্ন প্রতীকে ৩ জন জয়ী হন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলায় নৌকা নিয়ে ১ জন ভিন্ন প্রতীক নিয়ে ২ জন নির্বাচিত হয়েছেন, একইভাবে ধর্মপাশায় নৌকা নিয়ে ৩ এবং ভিন্ন প্রতীকে ৩ জন, মধ্যনগর উপজেলায় নৌকা নিয়ে ১ এবং ভিন্ন প্রতীক নিয়ে ৩, জামালগঞ্জ উপজেলায় নৌকা নিয়ে ২ জন এবং শাল্লা উপজেলায় নৌকা নিয়ে ১ এবং ভিন্ন প্রতীক নিয়ে ২ জন আওয়ামী লীগ নেতা বিজয়ী হয়েছেন।

এদিকে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না গেলেও সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ ইউনিয়নে বিএনপির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সব মিলিয়ে ১৪ জন নির্বাচিত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩, ছাতক ২, দোয়ারাবাজার ১, শান্তিগঞ্জ ২, দিরাই ২, জগন্নাথপুর ১, বিশ^ম্ভরপুর ১, জামালগঞ্জ ১, শাল্লা উপজেলায় ১ জন স্থানীয় বিএনপি নেতা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান বিজয়ী হয়েছেন ।
জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন ৩ ইউনিয়নে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ এবং বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ১ ইউনিয়নে জাপা প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

প্রকৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ১, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ এবং জামালগঞ্জ উপজেলায় ১ জন।
এছাড়াও ছাতক উপজেলার ১টি ইউনিয়নে জামায়াত, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১টি ইউনিয়নে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি আবুল বরকত বললেন, নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক কোন আচরণ ছিল না কোথাও, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট বললেন, যাচাই-বাছাই করে, তৃণমূলে উপজেলায় এবং জেলায় বর্ধিত সভা করে দলীয় প্রার্থী মনোয়ন দিলে দলীয় প্রতীকের অসম্মান হতো না। ৭৮ ইউনিয়নের ৫৬ ইউনিয়নে দলীয় নেতাদের বিজয়ী হওয়া সেটাই প্রমাণ করেছে। জেলার দলীয় দায়িত্বশীলদের ভুলেই বেশিরভাগ ইউনিয়নে দলীয় মনোনীতদের পরাজয় হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বললেন, তৃণমূলের দেওয়া তালিকাই সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে যাদের নাম রয়েছে তারাও মনোনয়ন পেয়েছেন। আবার কোথাও কোথাও নীচে যাদের নাম আছে তারাও পেয়েছে। এ কারণে কোন কোন ইউনিয়নে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট সুনামগঞ্জে কমে নি, এটি ফলাফলেই বুঝা গেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল দেশব্যাপী প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গত বছরের ১ মার্চ থেকে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন। দুই মাস আটকে থাকার পর ২১ জুন প্রথম ধাপে ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ও সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভাতগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াস মিয়া মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ২ নভেম্বর এ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২য় ধাপে ১১ নভেম্বর, ৩য় ধাপে ২৮ নভেম্বর, ৪র্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর এবং ৫ম ধাপে ৫ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম ধাপে ছাতকের ৩টি ইউনিয়ন, ২য় ধাপে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১৯ ইউনিয়ন, ৩য় ধাপে সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন, ৪র্থ ধাপে বিশ^ম্ভরপুর, জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার ২১ ইউনিয়ন এবং ৫ম ধাপে ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও শাল্লা উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।