ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

বাচ্চাদের জ্বর ? প্রতীকারের উপায় কি জানুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২০৬ বার পড়া হয়েছে

বাচ্চাদের জ্বর ? প্রতীকার এর উপায় কি জানুন

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় রেখেছে বাচ্চাদের অদ্ভুত জ্বর। স্বাস্থ্য দপ্তর জেনেছে এবারের জ্বরের প্রধান কারণ আরএস ভাইরাস। এক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা নেবেন, আলোচনা করলেন পার্কসার্কাসের ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের এনআইসিইউ ইনচার্জ ডাঃ খেয়া ঘোষ উত্তম।

কী এই আর আরএস ভাইরাস?

আরএস ভাইরাসের পুরো নাম রেস’পিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস। করোনার মতো এটিও একটি আরএনএ ভাইরাস। আমাদের দেশে সাধারণত শীত’কালে এর উৎপাত বাড়ে। যদিও এখন বর্ষাকাল বা বর্ষা পরবর্তী সময়েও এই জীবাণুর প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের রাজ্যের কথাই বলা যায়।
উত্তর ও দক্ষিণ’বঙ্গে বাচ্চাদের জ্বরের ক্ষেত্রে ভিলেন হিসেবে উঠে আসছে প্রধানত আরএস ভাইরাসের নাম। তাই এখন এই ভাইরাস নিয়ে সব মহলেই চর্চা।

প্রথমেই বলে রাখি, বর্তমানে এই ভাইরাস নিয়ে এত আলোচনা হলেও, এই জীবাণু কিন্তু নতুন কিছু নয়। বছর বছর এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। তফাত শুধু এবার এই ভাইরাসের সংক্রমণের হার কিছুটা বেশি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

কাদের হতে পারে?

যে কোনও বয়সের মানুষই এই ভাইরাস সংক্রমণের কবলে পড়তে পারেন। তবে শিশুরাই মূলত এই ভাইরাসে বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত হয়। একটু বড় বয়সের বাচ্চাদের এই জীবাণু থেকে তেমন কোনও সমস্যা হয় না বললেই চলে। কিন্তু দুই বছর বয়সের নীচের শিশুর এই সংক্রমণ জটিল স্তরে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা সবথেকে বেশি।

কীভাবে ছড়ায়?

আরএস ভাইরাস খুবই সংক্রামক। এই ভাইরাসটি সাধারণত আক্রান্তের হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় মুখ থেকে বেরিয়ে আসা তরলবিন্দু বা ড্রপলেট থেকে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এবার সেই তরলবিন্দু কোনও কারণে সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মানুষটি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

উপসর্গ

আরএস ভাইরাসের কবলে পড়লে সাধারণত আপার রেস’পিরেটরি ট্র্যাক্টে সংক্রমণ হয়। উপসর্গ থাকে মৃদু থেকে মাঝারি। জ্বর থাকে। শরীরের তাপমাত্রা ১০২, ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, কান ব্যথা থাকতে পারে। সামান্য কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসনালীর নীচের অংশে সংক্রমণ ছড়ায়।
এই অংশ অর্থাৎ লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্টে সংক্রমণ পৌঁছালে ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, বুকে কফ জমে ঘড়ঘড় শব্দ, অবিরাম কাশি ইত্যাদি রোগলক্ষণ দেখা যায়।

কীভাবে রোগ নির্ণয়?
আরএস ভাইরাস নির্ণয়ের পরীক্ষা হল আরটিপিসিআর টেস্ট। করোনা পরীক্ষার মতোই নাক ও মুখ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এই টেস্ট করা হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসা

এই রোগের উপসর্গ মৃদু থেকে মাঝারি হলে প্রাথমিকভাবে বাড়িতে রেখেই লক্ষণ’ভিত্তিক চিকিৎসা করতে হয়। এই সময়ে প্যারা’সিটামল, অ্যান্টিঅ্যালার্জিক জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। যে কোনও ভাইরাল জ্বরের মতো আরএস ভাইরাস সংক্রমণেও বাচ্চার শরীরে জলের ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন) হতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি বাচ্চাকে পরিমাণ মতো জল, জ্যুস ইত্যাদি পান করাতে হয়। এই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই শিশুর সমস্যা মোটামুটি পাঁচ থেকে দশ দিনের মধ্যে কমে যায়।

অপর’দিকে বাচ্চা খাচ্ছে না, জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে, অক্সি’জেন স্যাচুরেশন ৯৫-এর নীচে নেমেছে, প্রস্রাব কমে গিয়েছে, অচেতন হয়ে যাচ্ছে, নেতিয়ে পড়ছে— ইত্যাদি যে কোনও একটি উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। হাসপাতালে জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করে অক্সিজেন, নেবু’লাইজার, আইভি ফ্লুইড দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়।
প্রয়োজনে অ্যান্টি’বায়োটিকও দিতে হতে পারে। এভাবেই মোটামুটি সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব। অপরদিকে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটা নেমে গেলে অক্সিজেন, নেবুলাইজার দিয়েও কাজ হয় না। তখন বাচ্চাকে নিকু, পিকুতে (আইসিইউ) ভর্তি করে চিকিৎসা করতে হয়।

রোগ প্রতিরোধ

এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে এমন কোনও টিকা এখনও আবি’ষ্কৃত হয়নি। রোগ প্রতি’রোধে সচেতনতাই হাতিয়ার। বাড়ির বড়রা এবং একটু বড় বাচ্চাদের নিয়মিত হাত ধোয়া, স্যানিটাইজ করা, মাস্ক পরার অভ্যেস চালিয়ে যেতে হবে। বাড়িতে কারও সর্দি-কাশি হলে নিজেকে আলাদা করে নিন। কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই মোটামুটি এই রোগ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখা সম্ভব।
মনে রাখবেন, খুব ছোট বাচ্চার সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎ’সা না হলে দ্রুত অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশির মতো লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমেই সতর্ক হন। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাচ্চাদের জ্বর ? প্রতীকারের উপায় কি জানুন

আপডেট সময় : ০৪:২২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

অভিভাবকদের দুশ্চিন্তায় রেখেছে বাচ্চাদের অদ্ভুত জ্বর। স্বাস্থ্য দপ্তর জেনেছে এবারের জ্বরের প্রধান কারণ আরএস ভাইরাস। এক্ষেত্রে কী কী সতর্কতা নেবেন, আলোচনা করলেন পার্কসার্কাসের ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের এনআইসিইউ ইনচার্জ ডাঃ খেয়া ঘোষ উত্তম।

কী এই আর আরএস ভাইরাস?

আরএস ভাইরাসের পুরো নাম রেস’পিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস। করোনার মতো এটিও একটি আরএনএ ভাইরাস। আমাদের দেশে সাধারণত শীত’কালে এর উৎপাত বাড়ে। যদিও এখন বর্ষাকাল বা বর্ষা পরবর্তী সময়েও এই জীবাণুর প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের রাজ্যের কথাই বলা যায়।
উত্তর ও দক্ষিণ’বঙ্গে বাচ্চাদের জ্বরের ক্ষেত্রে ভিলেন হিসেবে উঠে আসছে প্রধানত আরএস ভাইরাসের নাম। তাই এখন এই ভাইরাস নিয়ে সব মহলেই চর্চা।

প্রথমেই বলে রাখি, বর্তমানে এই ভাইরাস নিয়ে এত আলোচনা হলেও, এই জীবাণু কিন্তু নতুন কিছু নয়। বছর বছর এই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। তফাত শুধু এবার এই ভাইরাসের সংক্রমণের হার কিছুটা বেশি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

কাদের হতে পারে?

যে কোনও বয়সের মানুষই এই ভাইরাস সংক্রমণের কবলে পড়তে পারেন। তবে শিশুরাই মূলত এই ভাইরাসে বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত হয়। একটু বড় বয়সের বাচ্চাদের এই জীবাণু থেকে তেমন কোনও সমস্যা হয় না বললেই চলে। কিন্তু দুই বছর বয়সের নীচের শিশুর এই সংক্রমণ জটিল স্তরে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা সবথেকে বেশি।

কীভাবে ছড়ায়?

আরএস ভাইরাস খুবই সংক্রামক। এই ভাইরাসটি সাধারণত আক্রান্তের হাঁচি, কাশি বা কথা বলার সময় মুখ থেকে বেরিয়ে আসা তরলবিন্দু বা ড্রপলেট থেকে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এবার সেই তরলবিন্দু কোনও কারণে সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মানুষটি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

উপসর্গ

আরএস ভাইরাসের কবলে পড়লে সাধারণত আপার রেস’পিরেটরি ট্র্যাক্টে সংক্রমণ হয়। উপসর্গ থাকে মৃদু থেকে মাঝারি। জ্বর থাকে। শরীরের তাপমাত্রা ১০২, ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, কান ব্যথা থাকতে পারে। সামান্য কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসনালীর নীচের অংশে সংক্রমণ ছড়ায়।
এই অংশ অর্থাৎ লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্টে সংক্রমণ পৌঁছালে ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, বুকে কফ জমে ঘড়ঘড় শব্দ, অবিরাম কাশি ইত্যাদি রোগলক্ষণ দেখা যায়।

কীভাবে রোগ নির্ণয়?
আরএস ভাইরাস নির্ণয়ের পরীক্ষা হল আরটিপিসিআর টেস্ট। করোনা পরীক্ষার মতোই নাক ও মুখ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এই টেস্ট করা হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসা

এই রোগের উপসর্গ মৃদু থেকে মাঝারি হলে প্রাথমিকভাবে বাড়িতে রেখেই লক্ষণ’ভিত্তিক চিকিৎসা করতে হয়। এই সময়ে প্যারা’সিটামল, অ্যান্টিঅ্যালার্জিক জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। যে কোনও ভাইরাল জ্বরের মতো আরএস ভাইরাস সংক্রমণেও বাচ্চার শরীরে জলের ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন) হতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি বাচ্চাকে পরিমাণ মতো জল, জ্যুস ইত্যাদি পান করাতে হয়। এই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই শিশুর সমস্যা মোটামুটি পাঁচ থেকে দশ দিনের মধ্যে কমে যায়।

অপর’দিকে বাচ্চা খাচ্ছে না, জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে, অক্সি’জেন স্যাচুরেশন ৯৫-এর নীচে নেমেছে, প্রস্রাব কমে গিয়েছে, অচেতন হয়ে যাচ্ছে, নেতিয়ে পড়ছে— ইত্যাদি যে কোনও একটি উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। হাসপাতালে জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করে অক্সিজেন, নেবু’লাইজার, আইভি ফ্লুইড দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়।
প্রয়োজনে অ্যান্টি’বায়োটিকও দিতে হতে পারে। এভাবেই মোটামুটি সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব। অপরদিকে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটা নেমে গেলে অক্সিজেন, নেবুলাইজার দিয়েও কাজ হয় না। তখন বাচ্চাকে নিকু, পিকুতে (আইসিইউ) ভর্তি করে চিকিৎসা করতে হয়।

রোগ প্রতিরোধ

এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে এমন কোনও টিকা এখনও আবি’ষ্কৃত হয়নি। রোগ প্রতি’রোধে সচেতনতাই হাতিয়ার। বাড়ির বড়রা এবং একটু বড় বাচ্চাদের নিয়মিত হাত ধোয়া, স্যানিটাইজ করা, মাস্ক পরার অভ্যেস চালিয়ে যেতে হবে। বাড়িতে কারও সর্দি-কাশি হলে নিজেকে আলাদা করে নিন। কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই মোটামুটি এই রোগ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখা সম্ভব।
মনে রাখবেন, খুব ছোট বাচ্চার সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎ’সা না হলে দ্রুত অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশির মতো লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমেই সতর্ক হন। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।