ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

ঋতু’স্রাবে পেটে তীব্র যন্ত্রণা? জেনে নিন চিকিৎসা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

ঋতু'স্রাবে পেটে তীব্র যন্ত্রণা? জেনে নিন চিকিৎসা

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরি’য়ড/ঋতু’স্রাব/মাসিক তিনটি শব্দই নারী’দের কাছে একটি পরিচিত এবং তাদের জীবনের সাথে আঙ্গা’আঙ্গি ভাবে জড়িত। চিকি’ৎসা বিজ্ঞান বলে নারীর এই মাসি’কই তাকে প্রতি মাসে গর্ভ’ধারণের জন্য প্রস্তুত করে। তবে মাসিকের সময় নারী’দের লড়াই করতে হয় অসহ্য ব্যথার বিরু’দ্ধে। তথ্যমতে, পুরো বিশ্বে ১৭ কোটি ৬০ লাখ নারী এন্ডো’মেট্রিওসিসের ভয়া’নক বিব্র’তকর অসহ্য ব্যথায় ভুগ’ছেন।

এব্যা’পারে বিস্তা’রিত জানার আগে আমাদের জানতে হবে মাসিক বা ঋতু’স্রাব কি? প্রতি চন্দ্রমাস পরপর হরমো’নের প্রভাবে পরিণত মেয়ে’দের জরায়ু চক্রা’কারে যে পরি’বর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত অংশ যোনি’পথে বের হয়ে আসে তাকেই ঋতু’চক্র বলে।

মা‌সি‌ক চলা’কালীন পেট ব্যথা, পিঠ ব্যথা, বমি বমি ভাব হতে পারে। এসময় ভালো মানের ন্যাপ’কিন ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া কোনো’ভাবেই একই কাপড় পরি’ষ্কার করে একাধি’কবার ব্যবহার করা যাবে না। ঋতু’স্রাবের সময় শরীর থেকে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তার মধ্যে ব্যাক’টেরিয়া থাকে।

এন্ডোমেট্রিওসিস কী

এই সমস্যার প্রধান উপসর্গ তল’পেটজুড়ে ব্যথা। কিশোরী বয়সে মাসিকের শুরু থেকেই দেখা দিতে পারে এন্ডো’মেট্রিওসিসের ব্যথা, দুর্ভাগ্য’জনকভাবে চলতে পারে মেনোপজ পর্যন্ত। নারীদের জরায়ুতে যে এন্ডো’মেট্রিয়াল লাইন থাকে, তার কোষ জরায়ুর বাইরে ফেলো’পিয়ান টিউব, ডিম্বাশয় বা পাউচ অব ডগলাসে লেপ্টে বসে থাকলে তাকে এন্ডো’মেট্রিওসিস বলে।

ঋতু’স্রাবের আগে হর’মোনের প্রভাবে এই সব অস্বাভাবিক এন্ডো’মেট্রিয়াম টিস্যু’গুলোও ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে এবং প্রচুর রক্তপাত হয়। আর এ কারণে পেটে ভয়ানক ব্যথা হয়। কখনো কখনো রেক্টাম বা মলা’শয়েও এটি হতে পারে।

অনেকের আবার অল্প বিস্তর এন্ডো’মেট্রিওসিস থাকলেও কোনো উপসর্গই থাকে না। বন্ধ্যত্ব বা অন্য কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে।

প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে বেশির ভাগ সময়ে খুব একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছালে স্বাভা’বিকের তুলনায় অতি’রিক্ত বেশি রক্তপাত হয়। কিছুটা রক্ত পেটের মধ্যে জমা থেকে যায়। আর সমস্যা হয় এর থেকেই। জমা রক্ত চক’লেট সিস্ট হয়ে পিরি’য়ডের সময় এবং কখনো কখনো সারা’ক্ষণই পেটে ব্যথা করতে থাকে।

মাসি’কের কিছু’দিন আগে থেকে তলপেট খুব ব্যথা করে, মাসিক চলা’কালীন ব্যথা বাড়তে থাকে এবং মাসিকের শেষ দিকে ব্যথা তীব্র হয়। হেভি মেন্স’ট্যুয়াল ব্লিডিং বা তীব্র রক্তপাত হতে পারে।

প্রস্রাব বা মল’ত্যাগের সময়ও মেয়েরা ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে। বিবা’হিত মেয়েদের যৌন সংসর্গের সময় মারাত্মক ব্যথা ও যন্ত্রণা হয়। তলপেট ছাড়াও কোমরে ব্যথা করে।
ঋতু চলার সময় স্বাভাবিক জীবন’যাপন অসহ্য হয়ে ওঠে। স্কুল–কলেজ বা অফিস যাওয়া বন্ধ করে বাড়িতে শুয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না। অল্প বয়সী মেয়েরা এ নিয়ে খুবই বিব্রত’কর পরিস্থিতিতে পড়ে। এ ছাড়া এন্ডো’মেট্রিওসিস থাকলে বন্ধ্য’ত্বের ঝুঁকি রয়েছে।

যেভাবে বুঝবেন এন্ডোমেট্রিওসিস

আল্ট্রা’সনোগ্রাফির সাহায্যে ডিম্বা’শয়ে সিস্ট দেখতে পাওয়া যায়, সন্দেহ হলে ল্যাপা’রোস্কোপির সাহায্যে খুঁটিয়ে দেখার দরকার পড়ে। রোগীর সঙ্গে বিস্তা’রিত কথা বলে সম্ভব হলে একই সিটিংয়ে ল্যাপা’রোস্কোপির সাহায্যে এগুলো নির্মূল করে ফেলতে হবে। নইলে একদিকে কষ্ট বাড়বে, অন্যদিকে ওভারি, ইউটেরাস, ফ্যালো’পিয়ান টিউব ইত্যাদি জড়িয়ে গিয়ে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা

পিরিয়’ডের সময় এমন ব্যথা হয় বলে কিশোরীর কষ্ট উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বড় হলে বা বিয়ে হলে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন অনেকে, সেটাও ভুল। এন্ডো’মেট্রিওসিস ধরা পড়লে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করলে অনেকাং’শে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

প্রথমত, নন–স্টেরয়েড অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ওষুধ দিতে হয়, ব্যথা উপশমের জন্য। অনেক সময় পিলের সাহায্যে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অবিবাহিত মেয়েদের কন্ট্রাসেপটিভ পিল নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে ভয় পান। মনে রাখতে হবে, এটা নেহাতই একটি ওষুধ, এতে লজ্জার কিছু নেই। মাসে ২১টি গর্ভনিরোধক বড়ি দেওয়া হয় রোগীকে।

এ ছাড়া আছে ইন্ট্রা’ইউটেরাইন যন্ত্র, যে ছোট্ট যন্ত্র জরা’য়ুতে প্রবেশ করালে ধীরে ধীরে প্রোজে’স্টেরনের নিঃসরণে সাহায্য করবে। ফলে রক্ত’ক্ষরণের মাত্রা কমে যায় ও ব্যথা কমে। অন্যদিকে জিএন’আরএইচ হরমোনও খুব ভালো চিকিৎসা হতে পারে।

ল্যাপারোস্কো’পিক সার্জারির মাধ্যমে আক্রান্ত অঞ্চল’গুলো বাষ্পীভূত করে, অস্ত্রো’পচারের মাধ্যমে সিস্ট কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া আরেক ধরনের চিকিৎসা। জরায়ু বাদ দেওয়া বা হিস্টে’রেক্টমি অনেক সময় লাগতে পারে, যদি বয়স বেশি বা বাচ্চার প্রয়ো’জন আর না হয়।

সঠিক সময় সঠিক চিকি’ৎসা নিলে মা হতে বাধা নেই। এন্ডো’মেট্রিওসিসের রোগীর গর্ভ’সঞ্চার হলে চিন্তার কিছু নেই। আর দশজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মতোই যত্ন নিতে হবে।

এন্ডো’মেট্রিওসিস এড়ানো সম্ভব?

সুস্থ জীবনযাপন খুবই জরুরি। খেলা’ধুলো বা শরীর’চর্চা দরকার। দুগ্ধজাত দ্রব্য, রেডমিট, কফি, গম থেকে তৈরি খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। মানসিক চাপ কমাতে হবে। অনেক সময় এন্ডো’মেট্রিওসিসের কষ্ট সহ্য করতে করতে বিষাদগ্রস্ত হতে পারে। পরিবারের লোক’জনের সহ’মর্মিতা দরকার।

নারীরা পিরি’য়ডে বা যৌন সংসর্গে তীব্র ব্যথা হলে গোপন না করে চিকিৎ’সকের পরামর্শ নিন। লেখক: ডা. শারমিন আব্বাসি’বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক, এন্ডো’মেট্রিওসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঋতু’স্রাবে পেটে তীব্র যন্ত্রণা? জেনে নিন চিকিৎসা

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

পিরি’য়ড/ঋতু’স্রাব/মাসিক তিনটি শব্দই নারী’দের কাছে একটি পরিচিত এবং তাদের জীবনের সাথে আঙ্গা’আঙ্গি ভাবে জড়িত। চিকি’ৎসা বিজ্ঞান বলে নারীর এই মাসি’কই তাকে প্রতি মাসে গর্ভ’ধারণের জন্য প্রস্তুত করে। তবে মাসিকের সময় নারী’দের লড়াই করতে হয় অসহ্য ব্যথার বিরু’দ্ধে। তথ্যমতে, পুরো বিশ্বে ১৭ কোটি ৬০ লাখ নারী এন্ডো’মেট্রিওসিসের ভয়া’নক বিব্র’তকর অসহ্য ব্যথায় ভুগ’ছেন।

এব্যা’পারে বিস্তা’রিত জানার আগে আমাদের জানতে হবে মাসিক বা ঋতু’স্রাব কি? প্রতি চন্দ্রমাস পরপর হরমো’নের প্রভাবে পরিণত মেয়ে’দের জরায়ু চক্রা’কারে যে পরি’বর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত অংশ যোনি’পথে বের হয়ে আসে তাকেই ঋতু’চক্র বলে।

মা‌সি‌ক চলা’কালীন পেট ব্যথা, পিঠ ব্যথা, বমি বমি ভাব হতে পারে। এসময় ভালো মানের ন্যাপ’কিন ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া কোনো’ভাবেই একই কাপড় পরি’ষ্কার করে একাধি’কবার ব্যবহার করা যাবে না। ঋতু’স্রাবের সময় শরীর থেকে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তার মধ্যে ব্যাক’টেরিয়া থাকে।

এন্ডোমেট্রিওসিস কী

এই সমস্যার প্রধান উপসর্গ তল’পেটজুড়ে ব্যথা। কিশোরী বয়সে মাসিকের শুরু থেকেই দেখা দিতে পারে এন্ডো’মেট্রিওসিসের ব্যথা, দুর্ভাগ্য’জনকভাবে চলতে পারে মেনোপজ পর্যন্ত। নারীদের জরায়ুতে যে এন্ডো’মেট্রিয়াল লাইন থাকে, তার কোষ জরায়ুর বাইরে ফেলো’পিয়ান টিউব, ডিম্বাশয় বা পাউচ অব ডগলাসে লেপ্টে বসে থাকলে তাকে এন্ডো’মেট্রিওসিস বলে।

ঋতু’স্রাবের আগে হর’মোনের প্রভাবে এই সব অস্বাভাবিক এন্ডো’মেট্রিয়াম টিস্যু’গুলোও ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে এবং প্রচুর রক্তপাত হয়। আর এ কারণে পেটে ভয়ানক ব্যথা হয়। কখনো কখনো রেক্টাম বা মলা’শয়েও এটি হতে পারে।

অনেকের আবার অল্প বিস্তর এন্ডো’মেট্রিওসিস থাকলেও কোনো উপসর্গই থাকে না। বন্ধ্যত্ব বা অন্য কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে।

প্রথম বা দ্বিতীয় পর্যায়ে বেশির ভাগ সময়ে খুব একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছালে স্বাভা’বিকের তুলনায় অতি’রিক্ত বেশি রক্তপাত হয়। কিছুটা রক্ত পেটের মধ্যে জমা থেকে যায়। আর সমস্যা হয় এর থেকেই। জমা রক্ত চক’লেট সিস্ট হয়ে পিরি’য়ডের সময় এবং কখনো কখনো সারা’ক্ষণই পেটে ব্যথা করতে থাকে।

মাসি’কের কিছু’দিন আগে থেকে তলপেট খুব ব্যথা করে, মাসিক চলা’কালীন ব্যথা বাড়তে থাকে এবং মাসিকের শেষ দিকে ব্যথা তীব্র হয়। হেভি মেন্স’ট্যুয়াল ব্লিডিং বা তীব্র রক্তপাত হতে পারে।

প্রস্রাব বা মল’ত্যাগের সময়ও মেয়েরা ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে। বিবা’হিত মেয়েদের যৌন সংসর্গের সময় মারাত্মক ব্যথা ও যন্ত্রণা হয়। তলপেট ছাড়াও কোমরে ব্যথা করে।
ঋতু চলার সময় স্বাভাবিক জীবন’যাপন অসহ্য হয়ে ওঠে। স্কুল–কলেজ বা অফিস যাওয়া বন্ধ করে বাড়িতে শুয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না। অল্প বয়সী মেয়েরা এ নিয়ে খুবই বিব্রত’কর পরিস্থিতিতে পড়ে। এ ছাড়া এন্ডো’মেট্রিওসিস থাকলে বন্ধ্য’ত্বের ঝুঁকি রয়েছে।

যেভাবে বুঝবেন এন্ডোমেট্রিওসিস

আল্ট্রা’সনোগ্রাফির সাহায্যে ডিম্বা’শয়ে সিস্ট দেখতে পাওয়া যায়, সন্দেহ হলে ল্যাপা’রোস্কোপির সাহায্যে খুঁটিয়ে দেখার দরকার পড়ে। রোগীর সঙ্গে বিস্তা’রিত কথা বলে সম্ভব হলে একই সিটিংয়ে ল্যাপা’রোস্কোপির সাহায্যে এগুলো নির্মূল করে ফেলতে হবে। নইলে একদিকে কষ্ট বাড়বে, অন্যদিকে ওভারি, ইউটেরাস, ফ্যালো’পিয়ান টিউব ইত্যাদি জড়িয়ে গিয়ে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা

পিরিয়’ডের সময় এমন ব্যথা হয় বলে কিশোরীর কষ্ট উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বড় হলে বা বিয়ে হলে সব ঠিক হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন অনেকে, সেটাও ভুল। এন্ডো’মেট্রিওসিস ধরা পড়লে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করলে অনেকাং’শে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

প্রথমত, নন–স্টেরয়েড অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ওষুধ দিতে হয়, ব্যথা উপশমের জন্য। অনেক সময় পিলের সাহায্যে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অবিবাহিত মেয়েদের কন্ট্রাসেপটিভ পিল নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে ভয় পান। মনে রাখতে হবে, এটা নেহাতই একটি ওষুধ, এতে লজ্জার কিছু নেই। মাসে ২১টি গর্ভনিরোধক বড়ি দেওয়া হয় রোগীকে।

এ ছাড়া আছে ইন্ট্রা’ইউটেরাইন যন্ত্র, যে ছোট্ট যন্ত্র জরা’য়ুতে প্রবেশ করালে ধীরে ধীরে প্রোজে’স্টেরনের নিঃসরণে সাহায্য করবে। ফলে রক্ত’ক্ষরণের মাত্রা কমে যায় ও ব্যথা কমে। অন্যদিকে জিএন’আরএইচ হরমোনও খুব ভালো চিকিৎসা হতে পারে।

ল্যাপারোস্কো’পিক সার্জারির মাধ্যমে আক্রান্ত অঞ্চল’গুলো বাষ্পীভূত করে, অস্ত্রো’পচারের মাধ্যমে সিস্ট কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া আরেক ধরনের চিকিৎসা। জরায়ু বাদ দেওয়া বা হিস্টে’রেক্টমি অনেক সময় লাগতে পারে, যদি বয়স বেশি বা বাচ্চার প্রয়ো’জন আর না হয়।

সঠিক সময় সঠিক চিকি’ৎসা নিলে মা হতে বাধা নেই। এন্ডো’মেট্রিওসিসের রোগীর গর্ভ’সঞ্চার হলে চিন্তার কিছু নেই। আর দশজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মতোই যত্ন নিতে হবে।

এন্ডো’মেট্রিওসিস এড়ানো সম্ভব?

সুস্থ জীবনযাপন খুবই জরুরি। খেলা’ধুলো বা শরীর’চর্চা দরকার। দুগ্ধজাত দ্রব্য, রেডমিট, কফি, গম থেকে তৈরি খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। মানসিক চাপ কমাতে হবে। অনেক সময় এন্ডো’মেট্রিওসিসের কষ্ট সহ্য করতে করতে বিষাদগ্রস্ত হতে পারে। পরিবারের লোক’জনের সহ’মর্মিতা দরকার।

নারীরা পিরি’য়ডে বা যৌন সংসর্গে তীব্র ব্যথা হলে গোপন না করে চিকিৎ’সকের পরামর্শ নিন। লেখক: ডা. শারমিন আব্বাসি’বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক, এন্ডো’মেট্রিওসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা।