ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

একই স্থানে মসজিদ-মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির বিরল এক দৃষ্টান্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

একই স্থানে মসজিদ-মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির বিরল এক দৃষ্টান্ত

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহা’টে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন একই আঙ্গিনায় মন্দির ও মসজিদ। একই উঠান থেকে শোনা যায় উলুধ্বনি ও সুমধুর আযানের আও’য়াজ। এক পাশে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আত’রের সুঘ্রাণ।

এভাবেই ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দু’টি ধর্মীয় উপাস’নালয়। যে যার মতো ধর্ম পালন করে চলেছে’ন। এখন চলছে শারদীয় দুর্গোৎ’সব।

লাল’মনিরহাট শহরের পুরান বাজারের কাছেই এক আঙিনায় অবস্থিত মসজিদ ও মন্দির। এখানে মুসলমানদে’র নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ এবং কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আ’ছে।

দুটি স্থাপনার দেয়াল প্রায় লাগো’য়া। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্ব’ল দৃষ্টান্ত। ভাবতেই ভালো লাগা কাজ ক’রে।

ভোরে ফজরের সময় মোয়াজ্জিনে’র কণ্ঠে মিষ্টি আজান শেষে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই মন্দিরে শোনা যায় উলু’ধ্বনি! চলে পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠানিক’তা। এমনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন বহন করছে শতবর্ষী মসজিদ ও মন্দি’র।

মসজিদে’র মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে একই উঠানে দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠা’ন। এখানে মুসলমান এবং হিন্দুরা যে যার ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালন করছে’ন।

আমরা নামাজ পড়ছি, তারা পূজা করছে’ন। কেউ কারো ধর্মে কোনো হস্তক্ষেপ করছে’ন না। আমাদের মাঝে ধর্মীয় আচার-বিধি পাল’ন করা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্বও নেই।’

লালমনির’হাট জেলার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. মতিয়ার রহমান দেশের সময় ২৪কে বলেন, ‘১৮৩৬ সালে দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে এখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।

ফলে পুরান বাজার অনেকে;র কাছে কালীবাড়ি নামে পরিচিত। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণে ১৯০০ সালে একটি নামাজের ঘর নির্মিত হয়। নামাজের ঘরটিই পরবর্তীতে পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচি;তি লাভ করে।’

তিনি দেশের সময় ২৪কে বলেন, ‘কোনো বিবাদ ও ঝামেলা ছাড়াই ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছে দুই সম্প্রদায়ে’র মানুষ। দুর্গাপূজা’র সময় ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সমস্যা হয় না।

মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্য’রা বসে ঠিক করে নেন কখন কিভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানা’দি পালন করা হবে। নামাজের সময় সব বাদ্য-বাজনা বন্ধ রাখা হ’য়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করে পূজারীদের সুযোগ ক’রে দেন। এটাই এখানে নিয়ম।’

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ-মন্দিরের উঠান একটি হলেও উভয় ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি’র বন্ধনে থেকে স্ব-স্ব ধর্ম পালন করে আসছেন। কিন্তু ধর্ম পালন নিয়ে কখনো কোনো বাক-বিতণ্ডাও হয়নি বলে জানা যা’য়। শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মে’র মানুষ।

ধর্মীয় সম্প্রীতি কী, ধর্মীয় সম্প্রীতি কাকে বলে, তা কেমন হওয়া উচিত- তা জানার জন্য, দেখার জন্য সবার এখানে আসা উচিত। মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী দেশের সময় ২৪কে বলেন, ‘মন্দিরে নিয়মিত পূজার্চনা হয়। আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্রে’র ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির বিঘ্ন ঘটে- এমন অবস্থার মধ্যে আমাকে কোনো দিনই পড়তে হয়’নি। বরং স্থানীয় মুসল্লিদে’র সহযোগিতা পেয়ে আসছি।’

স্থানীয় বাসিন্দারা এটা নিয়ে গর্ব করেন। পৃথিবীজু’ড়ে চলমান সহিংসতা আর সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সংবাদের মধ্যে এমন দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠি’ন। একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ স্থাপন সৃষ্টটি করে’ছে ধর্মীয় সম্প্রীতির বিরল এক দৃষ্টান্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

একই স্থানে মসজিদ-মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির বিরল এক দৃষ্টান্ত

আপডেট সময় : ১২:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১

লালমনিরহা’টে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন একই আঙ্গিনায় মন্দির ও মসজিদ। একই উঠান থেকে শোনা যায় উলুধ্বনি ও সুমধুর আযানের আও’য়াজ। এক পাশে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আত’রের সুঘ্রাণ।

এভাবেই ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দু’টি ধর্মীয় উপাস’নালয়। যে যার মতো ধর্ম পালন করে চলেছে’ন। এখন চলছে শারদীয় দুর্গোৎ’সব।

লাল’মনিরহাট শহরের পুরান বাজারের কাছেই এক আঙিনায় অবস্থিত মসজিদ ও মন্দির। এখানে মুসলমানদে’র নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ এবং কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আ’ছে।

দুটি স্থাপনার দেয়াল প্রায় লাগো’য়া। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্ব’ল দৃষ্টান্ত। ভাবতেই ভালো লাগা কাজ ক’রে।

ভোরে ফজরের সময় মোয়াজ্জিনে’র কণ্ঠে মিষ্টি আজান শেষে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই মন্দিরে শোনা যায় উলু’ধ্বনি! চলে পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠানিক’তা। এমনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন বহন করছে শতবর্ষী মসজিদ ও মন্দি’র।

মসজিদে’র মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে একই উঠানে দুইটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠা’ন। এখানে মুসলমান এবং হিন্দুরা যে যার ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালন করছে’ন।

আমরা নামাজ পড়ছি, তারা পূজা করছে’ন। কেউ কারো ধর্মে কোনো হস্তক্ষেপ করছে’ন না। আমাদের মাঝে ধর্মীয় আচার-বিধি পাল’ন করা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্বও নেই।’

লালমনির’হাট জেলার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. মতিয়ার রহমান দেশের সময় ২৪কে বলেন, ‘১৮৩৬ সালে দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে এখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়।

ফলে পুরান বাজার অনেকে;র কাছে কালীবাড়ি নামে পরিচিত। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণে ১৯০০ সালে একটি নামাজের ঘর নির্মিত হয়। নামাজের ঘরটিই পরবর্তীতে পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচি;তি লাভ করে।’

তিনি দেশের সময় ২৪কে বলেন, ‘কোনো বিবাদ ও ঝামেলা ছাড়াই ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছে দুই সম্প্রদায়ে’র মানুষ। দুর্গাপূজা’র সময় ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সমস্যা হয় না।

মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্য’রা বসে ঠিক করে নেন কখন কিভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানা’দি পালন করা হবে। নামাজের সময় সব বাদ্য-বাজনা বন্ধ রাখা হ’য়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করে পূজারীদের সুযোগ ক’রে দেন। এটাই এখানে নিয়ম।’

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ-মন্দিরের উঠান একটি হলেও উভয় ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি’র বন্ধনে থেকে স্ব-স্ব ধর্ম পালন করে আসছেন। কিন্তু ধর্ম পালন নিয়ে কখনো কোনো বাক-বিতণ্ডাও হয়নি বলে জানা যা’য়। শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মে’র মানুষ।

ধর্মীয় সম্প্রীতি কী, ধর্মীয় সম্প্রীতি কাকে বলে, তা কেমন হওয়া উচিত- তা জানার জন্য, দেখার জন্য সবার এখানে আসা উচিত। মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী দেশের সময় ২৪কে বলেন, ‘মন্দিরে নিয়মিত পূজার্চনা হয়। আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্রে’র ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির বিঘ্ন ঘটে- এমন অবস্থার মধ্যে আমাকে কোনো দিনই পড়তে হয়’নি। বরং স্থানীয় মুসল্লিদে’র সহযোগিতা পেয়ে আসছি।’

স্থানীয় বাসিন্দারা এটা নিয়ে গর্ব করেন। পৃথিবীজু’ড়ে চলমান সহিংসতা আর সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সংবাদের মধ্যে এমন দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠি’ন। একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ স্থাপন সৃষ্টটি করে’ছে ধর্মীয় সম্প্রীতির বিরল এক দৃষ্টান্ত।