ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

সাংবাদিক নাদিম হত্যার ৪৩ ঘণ্টা পরও অধরা অভিযুক্ত বাবু চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার।
  • আপডেট সময় : ০৯:০৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের বকশিগঞ্জে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের’ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের ৪৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু।

এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও আটক হয়নি অনেকে। এ বিষয় নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে জেলা, উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকসহ সব শ্রেণীপেশার মানুষের মধ্যে।

১৪ জুন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দূর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম। তাকে প্রথমে বকশিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ জুন ভোরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন নাদিমকে দুপুর ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্মরত চিকিৎসক। ময়নাতদন্তের পর ১৫জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের মরদেহ বকশিগঞ্জে নিজবাড়িতে আনা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকালে বাজার এলাকার নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম জানাযা নামাজ ও নিলক্ষিয়ার গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় সাংবাদিক নাদিমকে। তবে এই ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি।

 

নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, আমরা ১৬ জুন রাত বা ১৭ জুন সকালের মধ্যে মামলা দায়ের করবো। এখন আমাদের পরিবারের সবাই শোকাহত। কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা মামলাটি দায়ের করবো।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহত নাদিমের পরিবার।

প্রয়াত এই সাঙবাদিকের বাবা আব্দুল করিম বলেন, আমরা বাবু চেয়ারম্যানের ফাঁসি চাই। সে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। বাবু চেয়ারম্যানসহ জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।

সাংবাদিক নাদিমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত বলেন, আমার বাবাকে চেয়ারম্যান বাবুর নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বাবুর অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আমার বাবা নিউজ করেছিলো। তাই তারা আমার বাবাকে হত্যা করে। আমি দোষীদের শাস্তি চাই।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, মাহমুদুল আলম বাবু প্রভাবশালী হওয়ায় এর আগেও অনেক নেতিবাচক ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বকশিঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জুম্মান বলেন, বাবু চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই পুলিশ বিভাগের সাবেক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার জন্য বাবু চেয়ারম্যান খুব প্রভাবশালী। তিনি এর আগেও অনেক অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি করেছেন। আমরা তার বিচার চাই।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলার সাংবাদিক নেতরা।

জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ৩ দিনের মধ্যে সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় না আনা হলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৬ জনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের ৫টি টিম মাঠে কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাংবাদিক নাদিম হত্যার ৪৩ ঘণ্টা পরও অধরা অভিযুক্ত বাবু চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ০৯:০৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩

জামালপুরের বকশিগঞ্জে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের’ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের ৪৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু।

এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও আটক হয়নি অনেকে। এ বিষয় নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে জেলা, উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকসহ সব শ্রেণীপেশার মানুষের মধ্যে।

১৪ জুন রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দূর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম। তাকে প্রথমে বকশিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ জুন ভোরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন নাদিমকে দুপুর ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন কর্মরত চিকিৎসক। ময়নাতদন্তের পর ১৫জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের মরদেহ বকশিগঞ্জে নিজবাড়িতে আনা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকালে বাজার এলাকার নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম জানাযা নামাজ ও নিলক্ষিয়ার গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় সাংবাদিক নাদিমকে। তবে এই ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি।

 

নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, আমরা ১৬ জুন রাত বা ১৭ জুন সকালের মধ্যে মামলা দায়ের করবো। এখন আমাদের পরিবারের সবাই শোকাহত। কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা মামলাটি দায়ের করবো।

হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহত নাদিমের পরিবার।

প্রয়াত এই সাঙবাদিকের বাবা আব্দুল করিম বলেন, আমরা বাবু চেয়ারম্যানের ফাঁসি চাই। সে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। বাবু চেয়ারম্যানসহ জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।

সাংবাদিক নাদিমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত বলেন, আমার বাবাকে চেয়ারম্যান বাবুর নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বাবুর অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আমার বাবা নিউজ করেছিলো। তাই তারা আমার বাবাকে হত্যা করে। আমি দোষীদের শাস্তি চাই।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, মাহমুদুল আলম বাবু প্রভাবশালী হওয়ায় এর আগেও অনেক নেতিবাচক ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বকশিঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জুম্মান বলেন, বাবু চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই পুলিশ বিভাগের সাবেক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার জন্য বাবু চেয়ারম্যান খুব প্রভাবশালী। তিনি এর আগেও অনেক অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি করেছেন। আমরা তার বিচার চাই।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলার সাংবাদিক নেতরা।

জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ৩ দিনের মধ্যে সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় না আনা হলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবো।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ৬ জনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের ৫টি টিম মাঠে কাজ করছে।