ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪, ২৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

একসঙ্গে এইচএসসি পাশ করলেন ছেলে-মেয়ে ও নানা-নাতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

একসঙ্গে এইচএসসি পাশ করলেন ছেলে-মেয়ে ও নানা-নাতি

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: অধ্যবসায় যে সফল’তার চাবিকাঠি তা আরেকবার প্রমাণ করে দেখালেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মো. সিরাজুল ইসলাম (৬০)।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলে-মেয়ে ও নাতির সাথে প্রায় ৬০ বছর বয়সে জিপিএ ২.১৪ পেয়ে কৃতি’ত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। শুধু তিনি একাই নন, উনার পরিবারে এবার সাফ’ল্যের ঝুড়ি। ছেলে-মেয়ে ও নাতি কৃতিত্বের সাথেই উত্তীর্ণ হয়েছে।

মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৯৮৭ সালে তাইন্দং দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করি। এরপর পারি’বারিক কারণে আর পড়াশোনা করতে পারিনি। সর্বশেষ আমি ২০২০ সালে খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা’য় আলিমে (প্রাইভেট) ভর্তি হই। আজ আমার আনন্দের দিন।

এই শেষ বয়সে হলেও আমি আলিম পাশ করতে পেরেছি। খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়’র আলিম মাদ্রাসা থেকে ২.১৪ পেয়ে আলিম (প্রাইভেট) পরীক্ষায় পাশ করেছি।

শুধু আমি একাই নই, আমার বড় মেয়ের ঘরের বড় নাতি মো. নাজমুল হাসান এইচএসসিতে ৪.৬৭, ছোট মেয়ে মাহমুদা সিরাজ খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে ৪.১৭, ছেলে হাফেজ নেছারুদ্দীন আহমদ চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কামিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৪.০০ পেয়ে আলিম পাশ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ।’

খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাও. মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মো. সিরাজুল ইসলাম আমাদের মাদ্রাসার (প্রাইভেট) ছাত্র ছিলেন। আমরা অনেকেই একটু বয়স বেড়ে গেলে পড়াশোনা করতে চাই না। আর সিরাজুল ইসলাম উনার শেষ বয়সেও হাল ছাড়েননি।

এই বয়সেও উনার অধ্যবসায় এবং কৃতিত্বের সাথে আলিম পাশ করা অকৃতকার্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।’ ৬ মেয়ে ও এক ছেলের জনক সিরাজুল ইসলাম মাটিরাঙ্গার সীমান্তবর্তী তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইউপি সদস্য ছিলেন। এরপর ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

একসঙ্গে এইচএসসি পাশ করলেন ছেলে-মেয়ে ও নানা-নাতি

আপডেট সময় : ১০:০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: অধ্যবসায় যে সফল’তার চাবিকাঠি তা আরেকবার প্রমাণ করে দেখালেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মো. সিরাজুল ইসলাম (৬০)।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলে-মেয়ে ও নাতির সাথে প্রায় ৬০ বছর বয়সে জিপিএ ২.১৪ পেয়ে কৃতি’ত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। শুধু তিনি একাই নন, উনার পরিবারে এবার সাফ’ল্যের ঝুড়ি। ছেলে-মেয়ে ও নাতি কৃতিত্বের সাথেই উত্তীর্ণ হয়েছে।

মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৯৮৭ সালে তাইন্দং দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করি। এরপর পারি’বারিক কারণে আর পড়াশোনা করতে পারিনি। সর্বশেষ আমি ২০২০ সালে খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা’য় আলিমে (প্রাইভেট) ভর্তি হই। আজ আমার আনন্দের দিন।

এই শেষ বয়সে হলেও আমি আলিম পাশ করতে পেরেছি। খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়’র আলিম মাদ্রাসা থেকে ২.১৪ পেয়ে আলিম (প্রাইভেট) পরীক্ষায় পাশ করেছি।

শুধু আমি একাই নই, আমার বড় মেয়ের ঘরের বড় নাতি মো. নাজমুল হাসান এইচএসসিতে ৪.৬৭, ছোট মেয়ে মাহমুদা সিরাজ খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে ৪.১৭, ছেলে হাফেজ নেছারুদ্দীন আহমদ চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কামিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৪.০০ পেয়ে আলিম পাশ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ।’

খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাও. মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘মো. সিরাজুল ইসলাম আমাদের মাদ্রাসার (প্রাইভেট) ছাত্র ছিলেন। আমরা অনেকেই একটু বয়স বেড়ে গেলে পড়াশোনা করতে চাই না। আর সিরাজুল ইসলাম উনার শেষ বয়সেও হাল ছাড়েননি।

এই বয়সেও উনার অধ্যবসায় এবং কৃতিত্বের সাথে আলিম পাশ করা অকৃতকার্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে।’ ৬ মেয়ে ও এক ছেলের জনক সিরাজুল ইসলাম মাটিরাঙ্গার সীমান্তবর্তী তাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইউপি সদস্য ছিলেন। এরপর ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।