ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

ঝুঁকি জেনেও অর্থের লোভে ইয়াবা বহন : হোতারা অধরা, ধরা পড়ে বাহক

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১ ১৯২ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজারঃ কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না ইয়াবা পাচার। ২২-২৩ ধরনের কৌশলে ইয়াবা পাচারের খোঁজ মিলেছে।

এমনকি চকলেট আকৃতির পলিথিনের পোঁটলা করে তা গিলে ফেলে পাকস্থলীতে করেও পাচার করা হচ্ছে ভয়াবহ এই মাদক। চিকিৎসকরা বলছেন, কোনো কারণে ইয়াবার পোঁটলা ছিদ্র হয়ে গেলেই বহনকারীর মৃত্যু অনিবার্য। তারপরও অর্থের লোভে চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইয়াবা বহন করছে নারী, পুরুষ, এমনকি শিশুও।

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম কম্বনিয়া পাড়া। এই এক গ্রামেই ইয়াবার চালান বাহক হিসেবে এখনো তিন শতাধিক নারী-পুরুষ সক্রিয় রয়েছে। তাদের কাজ ইয়াবার বাহক।

ইতোমধ্যে এই গ্রামেরই ইয়াবার চালান বাহক শতাধিক নারী-পুরুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক হয়ে কারাগারে আছেন। তবে বরাবরই হোতারা অধরা থেকে যাচ্ছে। প্রকৃত মাদক কারবারীরা সহজে আইনের আওতায় না আসায় মাদক কারবার থামছে না। এতে জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অর্থের লোভে ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কৌশল বেছে নেয় মাদক বহনকারী নারী, পুরুষ ও শিশু। ইয়াবা বহনকারী অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লাখ লাখ পি ইয়াবা।

সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর হোয়াইক্যং কম্বনিয়া পাড়ার সংঘবদ্ধ মাদক কারবারী চক্রের মাদকের চালান বহন করতে গিয়েই ফাতেমা নামের এক মাদক বাহককে আটক করা হয়েছে।

সুত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর চৌকষ একটি আভিয়ানিক দল মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের সংবাদ পেয়ে খারাংখালী-কম্বনিয়া পাড়া সড়কে অভিযানে যান। এসময় হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগসহ একজন নারীকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পান। পরে ওই নারীর হাতে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশী করে ৪ হাজার ৩’শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক নারী ফাতেমা (৪০) হোয়াইক্যং কম্বনিয়া পাড়ার আবুল কাশিমের স্ত্রী।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া এন্ড অপারেশন্স) সিনিয়র এএসপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের পর জব্দকৃত ইয়াবাসহ ধৃত মাদক বহনকারীকে টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কম্বনিয়া পাড়ার বাসিন্দারা জানান, গত ৮-১০ বছর ধরে টাকার লোভে পড়ে এলাকার মাদক কারবারীদের চালান বহন করতে গিয়েই আটক হওয়ার পর ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন কারাগারে দূগ্ধজাত শিশুসহ শতাধিক নারী-পুরুষ কারাগারে রয়েছে।

 

কিন্তু মাদক চালানের বড় বড় গডফাদাররা বরাবরই অধরা রয়েছে।
বাহক হিসেবে আটক হওয়াদের ইয়াবার প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে জানান কম্বনিয়ার সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঝুঁকি জেনেও অর্থের লোভে ইয়াবা বহন : হোতারা অধরা, ধরা পড়ে বাহক

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজারঃ কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না ইয়াবা পাচার। ২২-২৩ ধরনের কৌশলে ইয়াবা পাচারের খোঁজ মিলেছে।

এমনকি চকলেট আকৃতির পলিথিনের পোঁটলা করে তা গিলে ফেলে পাকস্থলীতে করেও পাচার করা হচ্ছে ভয়াবহ এই মাদক। চিকিৎসকরা বলছেন, কোনো কারণে ইয়াবার পোঁটলা ছিদ্র হয়ে গেলেই বহনকারীর মৃত্যু অনিবার্য। তারপরও অর্থের লোভে চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইয়াবা বহন করছে নারী, পুরুষ, এমনকি শিশুও।

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম কম্বনিয়া পাড়া। এই এক গ্রামেই ইয়াবার চালান বাহক হিসেবে এখনো তিন শতাধিক নারী-পুরুষ সক্রিয় রয়েছে। তাদের কাজ ইয়াবার বাহক।

ইতোমধ্যে এই গ্রামেরই ইয়াবার চালান বাহক শতাধিক নারী-পুরুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক হয়ে কারাগারে আছেন। তবে বরাবরই হোতারা অধরা থেকে যাচ্ছে। প্রকৃত মাদক কারবারীরা সহজে আইনের আওতায় না আসায় মাদক কারবার থামছে না। এতে জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৃত্যুঝুঁকি জেনেও অর্থের লোভে ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কৌশল বেছে নেয় মাদক বহনকারী নারী, পুরুষ ও শিশু। ইয়াবা বহনকারী অর্ধশতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে লাখ লাখ পি ইয়াবা।

সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর হোয়াইক্যং কম্বনিয়া পাড়ার সংঘবদ্ধ মাদক কারবারী চক্রের মাদকের চালান বহন করতে গিয়েই ফাতেমা নামের এক মাদক বাহককে আটক করা হয়েছে।

সুত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর চৌকষ একটি আভিয়ানিক দল মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের সংবাদ পেয়ে খারাংখালী-কম্বনিয়া পাড়া সড়কে অভিযানে যান। এসময় হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগসহ একজন নারীকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পান। পরে ওই নারীর হাতে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশী করে ৪ হাজার ৩’শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক নারী ফাতেমা (৪০) হোয়াইক্যং কম্বনিয়া পাড়ার আবুল কাশিমের স্ত্রী।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া এন্ড অপারেশন্স) সিনিয়র এএসপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের পর জব্দকৃত ইয়াবাসহ ধৃত মাদক বহনকারীকে টেকনাফ মডেল থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কম্বনিয়া পাড়ার বাসিন্দারা জানান, গত ৮-১০ বছর ধরে টাকার লোভে পড়ে এলাকার মাদক কারবারীদের চালান বহন করতে গিয়েই আটক হওয়ার পর ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন কারাগারে দূগ্ধজাত শিশুসহ শতাধিক নারী-পুরুষ কারাগারে রয়েছে।

 

কিন্তু মাদক চালানের বড় বড় গডফাদাররা বরাবরই অধরা রয়েছে।
বাহক হিসেবে আটক হওয়াদের ইয়াবার প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে জানান কম্বনিয়ার সচেতন মহল।