ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন বিমান’বন্দরের কর্মী, সৌদিতে জেলে প্রবাসী

জাকির আহমদ চৌধুরী, ঢাকা।
  • আপডেট সময় : ১২:০০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে

ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন বিমান'বন্দরের কর্মী, সৌদিতে জেলে প্রবাসী

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের মো.আবুল বাশার একজন প্রবাসী। এ বছর ১২ মার্চ ঢাকা থেকে সৌদি আরব যান তিনি। ঢাকায় বিমান’বন্দরের নিরাপত্তা তল্লা’শিতে ধরা না পড়লেও সৌদি বিমান’বন্দরে তার ব্যাগে ইয়াবা পাওয়া যাওয়ায় তাকে জেলে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ইয়াবা চালানের নেপথ্যে বিমান’বন্দরের এক কর্মী।

ওই কর্মী ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে আচার বলে যাত্রীর ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন। ভিডিও ফুটেজে যার প্রমাণও মিলেছে। বাংলাদেশ দূতা’বাসের আইন সহায়তা না পেলে ইয়াবা চোরা’চালানের দায়ে সৌদি আরবে কঠোর শাস্তি ভোগ করত হবে ভুক্তভোগী আবুল বাশারকে।

জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে ছুটিতে গত বছর ১২ ডিসেম্বর দেশে আসেন আবুল বাশার। ছুটি শেষে কাজে ফিরতে এ বছর মার্চের ১২ তারিখ আবুল বাশার সৌদি এয়ার’লাইন্সের ফ্লাইটে সৌদি যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে আসেন। রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ৪ নম্বর গেট দিয়ে বিমান’বন্দরে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।

বোর্ডিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়ালে তাকে এক ব্যক্তি একটি প্যাকেট নেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে অপ’রিচিত ব্যক্তির প্যাকেট নিতে অস্বী’কৃতি জানান বাশার। ওই ব্যক্তি বারবার অনু’রোধ করলেও প্যাকে’টটি নিতে রাজি হননি তিনি। একপর্যায়ে সেই ব্যক্তি নিজেকে বিমানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আবুল বাশারকে ভয়’ভীতি দেখানো শুরু করেন।

এই প্যাকেট না নিলে তাকে ফ্লাইটে উঠতে দেবেন না বলে ভয় দেখানো হয়। তাতেও প্যাকেটটি নিতে রাজি ছিলেন না আবুল বাশার। এক’পর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেই জোর করে বাশারের ব্যাগে প্যাকেট’টি ঢুকিয়ে দেয়। প্যাকেটে কিছু আচার ও খাবার আছে, যা সৌদিতে অবস্থান’রত তার ভাই মো. সাইদ গ্রহণ করবে বলে তাকে জানানো হয়।

সময় হওয়ায় কারও কাছে কোনও অভিযোগ না দিয়ে আবুল বাশার ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তার ব্যাগের সেই প্যাকেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তারপর আবুল বাশার’কে জেলে পাঠানো হয়।

জেলে যাওয়ার প্রায় ২০ দিন পর সেখান থেকে ফোন করে স্ত্রী রাবেয়া’কে ঘটনা জানায় আবুল বাশার। গত ১৩ এপ্রিল রাবেয়া বিমানবন্দরে আর্মড পুলিশের অফিসে গিয়ে অভিযোগ দেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। সেদিনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা পায় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ।

সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়, যিনি বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান একে ট্রেডার্সের এসআর সুপার’ভাইজার নুর মোহাম্মদ। ১৪ এপ্রিল দুপুরে নুর মোহাম্মদ’কে আটক করে জিজ্ঞাসা’বাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসা’বাদে নুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

এ ঘটনায় বিমান’বন্দর আর্মড পুলিশ একটি মামলা করে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে। রাবেয়া বলেন, আমার স্বামী সৌদি যাওয়ার পর ১২ মার্চ দুপুরে একটি নাম্বার থেকে ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয় সৌদিতে তার স্বামী ব্যাগটি পৌঁছে দিয়েছে কিনা।

কিন্তু আমার স্বামীর সঙ্গে কোনও যোগা’যোগ ছিল না। তিনি সৌদিতে গিয়েও যোগা’যোগ না করায় আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। তখন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে জানি’য়েছিলাম তার বিষয়ে খোঁজ নিতে। এরপরই আমার স্বামী ফোন করে জানায় সে জেলে।

এ বিষয়ে বিমান’বন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটা’লিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এক ব্যক্তিকে আটক করি, যিনি আবুল বাশারকে ইয়াবা বহনে বাধ্য করেছিলেন। মামলা করে আসামি নুর মোহাম্মদকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জিয়াউ’ল হক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির মাধ্যমে সৌদি কর্তৃ’পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রয়ো’জনীয় তথ্যাদি পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের জেলে বিচারের অপেক্ষায় আবুল বাশার। যেকোনও সময় সৌদি আরবের বিচারে শাস্তি হতে পারে তার।

আবুল বাশারের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, আমার স্বামী অপরাধ না করেই জেল খাটছে। এখন সরকার যদি সাহায্য না করে তাহলে কীভাবে ছাড়িয়ে আনবো। আমরা খারাপ সময় পার করছি। স্বামী জেলে, এদিকে এক মেয়েকে নিয়ে আমি হিমশিম খাচ্ছি। সংসার চালাতে একটা চাকরি খুঁজছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন বিমান’বন্দরের কর্মী, সৌদিতে জেলে প্রবাসী

আপডেট সময় : ১২:০০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

বরিশালের মো.আবুল বাশার একজন প্রবাসী। এ বছর ১২ মার্চ ঢাকা থেকে সৌদি আরব যান তিনি। ঢাকায় বিমান’বন্দরের নিরাপত্তা তল্লা’শিতে ধরা না পড়লেও সৌদি বিমান’বন্দরে তার ব্যাগে ইয়াবা পাওয়া যাওয়ায় তাকে জেলে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ইয়াবা চালানের নেপথ্যে বিমান’বন্দরের এক কর্মী।

ওই কর্মী ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে আচার বলে যাত্রীর ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দেন। ভিডিও ফুটেজে যার প্রমাণও মিলেছে। বাংলাদেশ দূতা’বাসের আইন সহায়তা না পেলে ইয়াবা চোরা’চালানের দায়ে সৌদি আরবে কঠোর শাস্তি ভোগ করত হবে ভুক্তভোগী আবুল বাশারকে।

জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে ছুটিতে গত বছর ১২ ডিসেম্বর দেশে আসেন আবুল বাশার। ছুটি শেষে কাজে ফিরতে এ বছর মার্চের ১২ তারিখ আবুল বাশার সৌদি এয়ার’লাইন্সের ফ্লাইটে সৌদি যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে আসেন। রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ৪ নম্বর গেট দিয়ে বিমান’বন্দরে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।

বোর্ডিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়ালে তাকে এক ব্যক্তি একটি প্যাকেট নেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে অপ’রিচিত ব্যক্তির প্যাকেট নিতে অস্বী’কৃতি জানান বাশার। ওই ব্যক্তি বারবার অনু’রোধ করলেও প্যাকে’টটি নিতে রাজি হননি তিনি। একপর্যায়ে সেই ব্যক্তি নিজেকে বিমানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আবুল বাশারকে ভয়’ভীতি দেখানো শুরু করেন।

এই প্যাকেট না নিলে তাকে ফ্লাইটে উঠতে দেবেন না বলে ভয় দেখানো হয়। তাতেও প্যাকেটটি নিতে রাজি ছিলেন না আবুল বাশার। এক’পর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেই জোর করে বাশারের ব্যাগে প্যাকেট’টি ঢুকিয়ে দেয়। প্যাকেটে কিছু আচার ও খাবার আছে, যা সৌদিতে অবস্থান’রত তার ভাই মো. সাইদ গ্রহণ করবে বলে তাকে জানানো হয়।

সময় হওয়ায় কারও কাছে কোনও অভিযোগ না দিয়ে আবুল বাশার ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তার ব্যাগের সেই প্যাকেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তারপর আবুল বাশার’কে জেলে পাঠানো হয়।

জেলে যাওয়ার প্রায় ২০ দিন পর সেখান থেকে ফোন করে স্ত্রী রাবেয়া’কে ঘটনা জানায় আবুল বাশার। গত ১৩ এপ্রিল রাবেয়া বিমানবন্দরে আর্মড পুলিশের অফিসে গিয়ে অভিযোগ দেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। সেদিনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা পায় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ।

সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়, যিনি বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান একে ট্রেডার্সের এসআর সুপার’ভাইজার নুর মোহাম্মদ। ১৪ এপ্রিল দুপুরে নুর মোহাম্মদ’কে আটক করে জিজ্ঞাসা’বাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসা’বাদে নুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

এ ঘটনায় বিমান’বন্দর আর্মড পুলিশ একটি মামলা করে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে। রাবেয়া বলেন, আমার স্বামী সৌদি যাওয়ার পর ১২ মার্চ দুপুরে একটি নাম্বার থেকে ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয় সৌদিতে তার স্বামী ব্যাগটি পৌঁছে দিয়েছে কিনা।

কিন্তু আমার স্বামীর সঙ্গে কোনও যোগা’যোগ ছিল না। তিনি সৌদিতে গিয়েও যোগা’যোগ না করায় আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। তখন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে জানি’য়েছিলাম তার বিষয়ে খোঁজ নিতে। এরপরই আমার স্বামী ফোন করে জানায় সে জেলে।

এ বিষয়ে বিমান’বন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটা’লিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউল হক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এক ব্যক্তিকে আটক করি, যিনি আবুল বাশারকে ইয়াবা বহনে বাধ্য করেছিলেন। মামলা করে আসামি নুর মোহাম্মদকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জিয়াউ’ল হক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির মাধ্যমে সৌদি কর্তৃ’পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রয়ো’জনীয় তথ্যাদি পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের জেলে বিচারের অপেক্ষায় আবুল বাশার। যেকোনও সময় সৌদি আরবের বিচারে শাস্তি হতে পারে তার।

আবুল বাশারের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, আমার স্বামী অপরাধ না করেই জেল খাটছে। এখন সরকার যদি সাহায্য না করে তাহলে কীভাবে ছাড়িয়ে আনবো। আমরা খারাপ সময় পার করছি। স্বামী জেলে, এদিকে এক মেয়েকে নিয়ে আমি হিমশিম খাচ্ছি। সংসার চালাতে একটা চাকরি খুঁজছি।