ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

লঞ্চে আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি যা বললেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ ২৪৩ বার পড়া হয়েছে

লঞ্চে আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি যা বললেন

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেস্ক রিপোর্টঃ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে’র ঘটনায় বরগুনায় গিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে’র গঠিত গঠিত তদন্ত কমিটির ৭ সদস্য। লঞ্চ পরিদর্শনকালে তারা ইঞ্জিন’রুমে কিছু ত্রুটি দেখতে পেয়েছেন।

তবে এর ওপর ভিত্তি করে অগ্নিকা’ণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে’র যুগ্ম সচিব মো. তোফায়েল ইসলাম।

শনিবার বরগুনা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, লঞ্চে ইঞ্জিন’রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক’ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

যুগ্ম সচিব মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, সাত সদস্যে’র একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সবাই সরে’জমিনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চ ও দুটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমাদের এখানে যে অভিজ্ঞ’তা হলো তা কাজে লাগিয়ে বলতে পারবো কি কারণে এ ঘটনা ঘটলো।

আগুন লাগার পর সর্বপ্রথম যে স্থানে লঞ্চটি থামানো’র জন্য গিয়েছিল সেখান থেকে অন্য স্থানে আসার কারণ কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পুরো বিষয়’গুলো আমরা যাচাই করছি।

প্রথম যে স্থানে লঞ্চটি গিয়েছিল সেখান’কার স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং পাড়ে ধাক্কা লাগার পর যারা উদ্ধার’কাজে এগিয়ে এসেছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তবে কি কথা হয়েছে, তা জানান’নি তিনি।

অগ্নি’কাণ্ড ও হতাহতের ঘটনার পেছনে প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ধারণা তো প্রাথমিক।

যেহেতু আমি তদন্ত কমিটির একজন সদস্য এবং আহ্বায়ক, তাই এ মুহূর্তে ধারণার ওপর অন্য সদস্য’দের সঙ্গে আলোচনা না করে কিছু বলতে পারি না। সবাই এক’সঙ্গে বসে কমপাইল করে সিদ্ধান্তে আসবো।

তিন কার্য’দিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটি গঠনের পর আজ আমরা সবাই ঢাকা থেকে এখানে এসেছি।

আমাদের হাসপাতালে এবং বরগুনা যেতে হবে। এছাড়া আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে যথা’সময়ে প্রতিবেদন দেয়ার চেষ্টা করবো।

লঞ্চে সরকারি হিসাবের বেশি যাত্রী ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঘাটের কাগজ’পত্রে লঞ্চে ৩১০ জনের মতো যাত্রী ছিল। কিন্তু স্থানীয়’দের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে যাত্রী এর থেকে বেশি ছিল।

স্থানীয় মানুষ যারা সহায়তায় এগিয়ে এসে’ছিলেন, তাদের কেউ বলছেন দেড়শ’ যাত্রী এখানেই নেমেছেন, আবার কেউ বলছেন দুইশ’ মানুষের ওপারে নেমেছে। অর্থাৎ একেক জন একে’ক রকম কথা বলছেন। সেক্ষেত্রে আমার ধারণা যাত্রী ৩১০ এর বেশি হতে পারে।

লঞ্চ সংশ্লিষ্ট’দের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, লঞ্চ কর্তৃ’পক্ষের কাউকে পাইনি। মাস্টার ও ড্রাইভারে’র মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বন্ধ রয়েছে। আর মালিকে’র মোবাইল নম্বরও বন্ধ পেয়েছি।

ইঞ্জিন’রুমের ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, লঞ্চের ইঞ্জিন’রুমে কিছু ত্রুটি আমরা পেয়েছি। সেটা কী এবং কেনো হয়েছে তার লিংকআপ করতে হবে।

কারণ প্রাথমিক’ভাবে যা পেয়েছি সেটাকে লিংকআপ না করে মূল সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবো না। অগ্নি’নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কিনা, সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি। কমিটির প্রতিবেদনে সব’কিছু উল্লেখ করা হবে।

এদিকে তদন্ত কমিটি লঞ্চটি পরিদর্শন’কালে এর ইঞ্জিনরুমে অনেকক্ষণ সময় পার করেন। তারা সেখানে অন্য লঞ্চের ড্রাইভার’দের সহায়তাও নেন। সেখানে থাকা একজন ড্রাইভার জানান, ইঞ্জিনের স্যালেন্ডারে’র হেডের ফায়ারিং কডে একটু ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে।

অপর এক ড্রাইভার জানিয়ে’ছেন, স্যালেন্ডারের হেডে প্রচুর হিট হয়। আর ওভার হিটের সময় সেখান থেকে কোনো’ভাবে আগুনের ফুলকি বের হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে এসব সমস্যা দেখার জন্য ড্রাইভার-গ্রিজার’দের সেখানে থাকার কথা। এগুলো মিটারের পাশা-পাশি শব্দের মাধ্যমেও বোঝা সম্ভব।

অভিজ্ঞ ড্রাইভার’দের মতে, এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের মতো একটি নৌ-যান চালনার জন্য একজন করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ড্রাইভার, চার’জন গ্রিজার এমনকি একজন ইলেকট্রিশিয়ানও থাকা দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লঞ্চে আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি যা বললেন

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১

ডেস্ক রিপোর্টঃ ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে’র ঘটনায় বরগুনায় গিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে’র গঠিত গঠিত তদন্ত কমিটির ৭ সদস্য। লঞ্চ পরিদর্শনকালে তারা ইঞ্জিন’রুমে কিছু ত্রুটি দেখতে পেয়েছেন।

তবে এর ওপর ভিত্তি করে অগ্নিকা’ণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে’র যুগ্ম সচিব মো. তোফায়েল ইসলাম।

শনিবার বরগুনা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, লঞ্চে ইঞ্জিন’রুম থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক’ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

যুগ্ম সচিব মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, সাত সদস্যে’র একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সবাই সরে’জমিনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চ ও দুটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমাদের এখানে যে অভিজ্ঞ’তা হলো তা কাজে লাগিয়ে বলতে পারবো কি কারণে এ ঘটনা ঘটলো।

আগুন লাগার পর সর্বপ্রথম যে স্থানে লঞ্চটি থামানো’র জন্য গিয়েছিল সেখান থেকে অন্য স্থানে আসার কারণ কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পুরো বিষয়’গুলো আমরা যাচাই করছি।

প্রথম যে স্থানে লঞ্চটি গিয়েছিল সেখান’কার স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং পাড়ে ধাক্কা লাগার পর যারা উদ্ধার’কাজে এগিয়ে এসেছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তবে কি কথা হয়েছে, তা জানান’নি তিনি।

অগ্নি’কাণ্ড ও হতাহতের ঘটনার পেছনে প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ধারণা তো প্রাথমিক।

যেহেতু আমি তদন্ত কমিটির একজন সদস্য এবং আহ্বায়ক, তাই এ মুহূর্তে ধারণার ওপর অন্য সদস্য’দের সঙ্গে আলোচনা না করে কিছু বলতে পারি না। সবাই এক’সঙ্গে বসে কমপাইল করে সিদ্ধান্তে আসবো।

তিন কার্য’দিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কমিটি গঠনের পর আজ আমরা সবাই ঢাকা থেকে এখানে এসেছি।

আমাদের হাসপাতালে এবং বরগুনা যেতে হবে। এছাড়া আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে যথা’সময়ে প্রতিবেদন দেয়ার চেষ্টা করবো।

লঞ্চে সরকারি হিসাবের বেশি যাত্রী ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঘাটের কাগজ’পত্রে লঞ্চে ৩১০ জনের মতো যাত্রী ছিল। কিন্তু স্থানীয়’দের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে যাত্রী এর থেকে বেশি ছিল।

স্থানীয় মানুষ যারা সহায়তায় এগিয়ে এসে’ছিলেন, তাদের কেউ বলছেন দেড়শ’ যাত্রী এখানেই নেমেছেন, আবার কেউ বলছেন দুইশ’ মানুষের ওপারে নেমেছে। অর্থাৎ একেক জন একে’ক রকম কথা বলছেন। সেক্ষেত্রে আমার ধারণা যাত্রী ৩১০ এর বেশি হতে পারে।

লঞ্চ সংশ্লিষ্ট’দের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, লঞ্চ কর্তৃ’পক্ষের কাউকে পাইনি। মাস্টার ও ড্রাইভারে’র মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বন্ধ রয়েছে। আর মালিকে’র মোবাইল নম্বরও বন্ধ পেয়েছি।

ইঞ্জিন’রুমের ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, লঞ্চের ইঞ্জিন’রুমে কিছু ত্রুটি আমরা পেয়েছি। সেটা কী এবং কেনো হয়েছে তার লিংকআপ করতে হবে।

কারণ প্রাথমিক’ভাবে যা পেয়েছি সেটাকে লিংকআপ না করে মূল সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবো না। অগ্নি’নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কিনা, সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি। কমিটির প্রতিবেদনে সব’কিছু উল্লেখ করা হবে।

এদিকে তদন্ত কমিটি লঞ্চটি পরিদর্শন’কালে এর ইঞ্জিনরুমে অনেকক্ষণ সময় পার করেন। তারা সেখানে অন্য লঞ্চের ড্রাইভার’দের সহায়তাও নেন। সেখানে থাকা একজন ড্রাইভার জানান, ইঞ্জিনের স্যালেন্ডারে’র হেডের ফায়ারিং কডে একটু ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে।

অপর এক ড্রাইভার জানিয়ে’ছেন, স্যালেন্ডারের হেডে প্রচুর হিট হয়। আর ওভার হিটের সময় সেখান থেকে কোনো’ভাবে আগুনের ফুলকি বের হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে এসব সমস্যা দেখার জন্য ড্রাইভার-গ্রিজার’দের সেখানে থাকার কথা। এগুলো মিটারের পাশা-পাশি শব্দের মাধ্যমেও বোঝা সম্ভব।

অভিজ্ঞ ড্রাইভার’দের মতে, এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের মতো একটি নৌ-যান চালনার জন্য একজন করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ড্রাইভার, চার’জন গ্রিজার এমনকি একজন ইলেকট্রিশিয়ানও থাকা দরকার।