ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

শাল্লা আওয়ামীলীগের নীতিহীন কার্যক্রম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২১ ২১৮ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টারঃ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ৫ ম ধাপে ৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও রাজাকারের ছেলের নাম দিয়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সে আটগাঁও ইউনিয়নের শশারকান্দ গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক।

শুধু তাই নয় দলের সহ সম্পাদক ( ২) হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ২০১৬ সনের ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রতিদন্ধীকারী সুবল চন্দ্র দাসের ছেলে তপন কুমার দাসের নাম সুপারিশ করেছে কমিটি। অথচ বর্তমান আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল এর গুণগত মান শীর্ষে থাকার পর ও তাঁর নাম পাঠানো হয়নি। অন্য দিকে এলাকায় পরিচিত নতুন মুখ রঞ্জিত কুমার দাস কোন দলের সদস্য নন বলে তার নামও বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সুবল দাসের ছেলে তপন দাস জীবনে ও আওয়ামী লীগ বা অঙ্গ সংগঠনের কোন প্রকার সমস্যই হয়নি তার পর ও তপন দাসের নাম সুপারিশ করা হয়েছে।

এসব বিষয় এলাকায় ছড়িয়ে গেলে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থকরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানাছেন। দলের কর্মীরা বলছেন টাকার বিনিময়ে নৌকা প্রতীক দিলে দলের ভরাডুবির আশংকা রয়েছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্দ। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে উপজেলা কমিটির কার্যক্রম নিয়ে ও। দলের কর্মীরা বলছে সঠিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দিলে নৌকার ভরাডুবি নিশ্চিত।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা যায়, গত ১ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দীক আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে যান। সেই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অলিউল হক ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ওই বিএনপি নেতা ও রাজাকারের ছেলের নাম আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দিরাই শাল্লার সাংসদ ড. জয়াসেনকে সুপারিশ করেন। সেই সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থেকেও কোনো বিরোধীতা করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক আটগাঁও ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একজন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত আবু বক্কর সিদ্দীকের নাম এক নম্বরে রেখে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এজন্য তাকে মনোনয়ন না দিতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ জানিয়েছে এই আবু বক্কর বিএনপির না। আটগাও ইউনিয়নে দুই তিনজন আবু বক্কর সিদ্দীক রয়েছে।

আর তালিকায় যার নাম দেয়া হয়েছে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগ জানায়। তাই এই নামটি নিয়ে এখন নানা অভিযোগ উঠছে। তাই আমরা যাচাই বাছাই করছি। তিনি আরো বলেন, বিএনপি ও রাজাকারের ছেলেদের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক হতে পারে না। যারা এই কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, এখনো তালিকা জমা দেয়া হয়নি। আমরা যাচাই বাছাই করে কেন্দ্রে তালিকা জমা দেব।এদিকে তপন কুমার দাস নামের এক ব্যাক্তিকে জালিয়াতি করে ২নং হবিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বানিয়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের তালিকায় তপন কুমার দাসের নাম এক নাম্বারে।

জানা যায় ২নং হবিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুধীর চন্দ্র দাস, কিন্তু গোপন একটি সূত্র জানায় ভূয়া একটি রেজুলেশনে সভাপতি দেখানো হয়েছে জনবিচ্ছিন্ন বিদ্রোহী সুবল দাসের ছেলে তপন কুমার দাসকে।

উল্লেখ্য যে গত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সুবল চন্দ্র দাসের ছেলে তপন কুমার দাস। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান ২নং হবিবপুর ইউনিয়নে গত নির্বাচনে সুবল চন্দ্র দাস নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধীতা করেছেন এবছর তিনি বিদ্রোহী হওয়াতে নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের জন্য তার ছেলে তপন কুমার দাসকে নিয়ে ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে এনিয়ে এলাকাতে অনেক তোলপড় সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শাল্লা আওয়ামীলীগের নীতিহীন কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৯:৩০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২১

স্টাফ রিপোর্টারঃ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ৫ ম ধাপে ৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী নির্ধারণে উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও রাজাকারের ছেলের নাম দিয়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সে আটগাঁও ইউনিয়নের শশারকান্দ গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক।

শুধু তাই নয় দলের সহ সম্পাদক ( ২) হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ২০১৬ সনের ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রতিদন্ধীকারী সুবল চন্দ্র দাসের ছেলে তপন কুমার দাসের নাম সুপারিশ করেছে কমিটি। অথচ বর্তমান আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল এর গুণগত মান শীর্ষে থাকার পর ও তাঁর নাম পাঠানো হয়নি। অন্য দিকে এলাকায় পরিচিত নতুন মুখ রঞ্জিত কুমার দাস কোন দলের সদস্য নন বলে তার নামও বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সুবল দাসের ছেলে তপন দাস জীবনে ও আওয়ামী লীগ বা অঙ্গ সংগঠনের কোন প্রকার সমস্যই হয়নি তার পর ও তপন দাসের নাম সুপারিশ করা হয়েছে।

এসব বিষয় এলাকায় ছড়িয়ে গেলে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থকরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানাছেন। দলের কর্মীরা বলছেন টাকার বিনিময়ে নৌকা প্রতীক দিলে দলের ভরাডুবির আশংকা রয়েছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্দ। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে উপজেলা কমিটির কার্যক্রম নিয়ে ও। দলের কর্মীরা বলছে সঠিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দিলে নৌকার ভরাডুবি নিশ্চিত।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা যায়, গত ১ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দীক আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে যান। সেই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অলিউল হক ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ওই বিএনপি নেতা ও রাজাকারের ছেলের নাম আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দিরাই শাল্লার সাংসদ ড. জয়াসেনকে সুপারিশ করেন। সেই সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থেকেও কোনো বিরোধীতা করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক আটগাঁও ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একজন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত আবু বক্কর সিদ্দীকের নাম এক নম্বরে রেখে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এজন্য তাকে মনোনয়ন না দিতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ জানিয়েছে এই আবু বক্কর বিএনপির না। আটগাও ইউনিয়নে দুই তিনজন আবু বক্কর সিদ্দীক রয়েছে।

আর তালিকায় যার নাম দেয়া হয়েছে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগ জানায়। তাই এই নামটি নিয়ে এখন নানা অভিযোগ উঠছে। তাই আমরা যাচাই বাছাই করছি। তিনি আরো বলেন, বিএনপি ও রাজাকারের ছেলেদের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক হতে পারে না। যারা এই কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, এখনো তালিকা জমা দেয়া হয়নি। আমরা যাচাই বাছাই করে কেন্দ্রে তালিকা জমা দেব।এদিকে তপন কুমার দাস নামের এক ব্যাক্তিকে জালিয়াতি করে ২নং হবিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বানিয়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের তালিকায় তপন কুমার দাসের নাম এক নাম্বারে।

জানা যায় ২নং হবিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুধীর চন্দ্র দাস, কিন্তু গোপন একটি সূত্র জানায় ভূয়া একটি রেজুলেশনে সভাপতি দেখানো হয়েছে জনবিচ্ছিন্ন বিদ্রোহী সুবল দাসের ছেলে তপন কুমার দাসকে।

উল্লেখ্য যে গত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সুবল চন্দ্র দাসের ছেলে তপন কুমার দাস। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান ২নং হবিবপুর ইউনিয়নে গত নির্বাচনে সুবল চন্দ্র দাস নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধীতা করেছেন এবছর তিনি বিদ্রোহী হওয়াতে নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের জন্য তার ছেলে তপন কুমার দাসকে নিয়ে ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে এনিয়ে এলাকাতে অনেক তোলপড় সৃষ্টি হয়েছে।