ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪, ২৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

বিভিন্ন আয়োজনে পালিত হবে কবি রুদ্রের ৬৫ তম জন্মদিন 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১ ১৬৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আলী আজীম, মোংলা প্রতিনিধিঃ আগামীকাল শনিবার (১৬ অক্টোবর) তারুণ্য,সংগ্রাম ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৬৫ তম জন্মবার্ষীকি। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে রুদ্র স্মৃতি সংসদ মিঠাখালী, রুদ্র সংসদ ঢাকা, সস্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলা, মোংলা সাহিত্য পরিষদ, কলতান শিল্পী গোষ্ঠী, প্রথমআলো বন্ধুসভা মোংলা, গাঙচিল সাহিত্য পরিষদ মোংলা, শুকতারা, সেবা, শুদ্ধপ্রান, অন্তর বাজাও, মিঠাখালী বাজার বণিক সমাতি, আলোর পথে বন্ধু সমাজ মোংলা সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় কবির মাজারে র‍্যালী সহকারে পূস্পমাল্য অর্পণ, কবির বিদেহী আত্মার মাগফেরাতে দোয়া মাহফিল, বিকেলে মিঠাখালী ফুটবল মাঠে এক প্রিতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্টিত হবে।

এ ছাড়া সন্ধ্যায় সস্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে মোংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্মরণসভা
ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৬ জুন ১৯৯১ মাত্র ৩৫ বছরের জীবন তার। তার মধ্যে এক বুক ভরা বিশ্বয়, আকুতি, জীবন ভরা প্রাণ শক্তি শুশেত্রিতে চেয়েছেন পৃথিবীর রূপ, রস গন্ধকে।

ফুলের কাছে নারীর কাছে বুকের গোপন ব্যাথার কাছে, সমস্ত চাওয়া পাওয়া তার কবিতা তার সৃষ্টি যাকিছু নিজেকে ভুলায় তাই নিয়ে গেঁথে ছিলেন জীবন।

ব্যাথিত কিছু চাহনি মাত্র দারিদ্রতা ছিল সারা জীবনের সঙ্গী। সচ্চলতা ও থাকছে তবুও সে সবকিছু ভুলে থাকতে চেয়েছিলো, জীবিত অবস্থায় কয়টি ফুল জুটেছিলো জানা নেই। মৃত্যুর পর অনেক মালা স্তুপ হয়ে এসেছিলো, অনেক স্মৃতি ও প্রশংসা নিয়ে।

অগ্রজ কবির মতো তিনি হয়তো বা বলতে চেয়েছিলেন ফুল জমতে জমতে মালা হয়, মালা জমতে জমতে পাথর। অকালপ্রয়াত এই কবি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে।

সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল তার কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’-এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন- ‘দিন আসবেই- দিন সমতার’।

যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাঁকে দিয়েছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এর খেতাব। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মূলত কবি হলেও কাব্য চর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্পের ক্ষেত্রেও ছিলেন সমান উৎসাহী। রুদ্র চেয়েছিলেন বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক। ফলে ব্যক্তি রুদ্র ও কবি রুদ্রের সমগ্র শিল্প সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মানুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ভালো আছি ভালো থেকো সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। ১৯৮০ সালে তিনি পেয়েছিলেন মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিখ্যাত ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করেন ১৯৮১ সালে।

কিন্তু তাঁদের এই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ১৯৮৬ সালে ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদ এবং কয়েক বছর পর ১৯৯১ সালে মারা যান রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিভিন্ন আয়োজনে পালিত হবে কবি রুদ্রের ৬৫ তম জন্মদিন 

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১

আলী আজীম, মোংলা প্রতিনিধিঃ আগামীকাল শনিবার (১৬ অক্টোবর) তারুণ্য,সংগ্রাম ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ৬৫ তম জন্মবার্ষীকি। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে রুদ্র স্মৃতি সংসদ মিঠাখালী, রুদ্র সংসদ ঢাকা, সস্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলা, মোংলা সাহিত্য পরিষদ, কলতান শিল্পী গোষ্ঠী, প্রথমআলো বন্ধুসভা মোংলা, গাঙচিল সাহিত্য পরিষদ মোংলা, শুকতারা, সেবা, শুদ্ধপ্রান, অন্তর বাজাও, মিঠাখালী বাজার বণিক সমাতি, আলোর পথে বন্ধু সমাজ মোংলা সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় কবির মাজারে র‍্যালী সহকারে পূস্পমাল্য অর্পণ, কবির বিদেহী আত্মার মাগফেরাতে দোয়া মাহফিল, বিকেলে মিঠাখালী ফুটবল মাঠে এক প্রিতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্টিত হবে।

এ ছাড়া সন্ধ্যায় সস্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে মোংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্মরণসভা
ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ১৬ জুন ১৯৯১ মাত্র ৩৫ বছরের জীবন তার। তার মধ্যে এক বুক ভরা বিশ্বয়, আকুতি, জীবন ভরা প্রাণ শক্তি শুশেত্রিতে চেয়েছেন পৃথিবীর রূপ, রস গন্ধকে।

ফুলের কাছে নারীর কাছে বুকের গোপন ব্যাথার কাছে, সমস্ত চাওয়া পাওয়া তার কবিতা তার সৃষ্টি যাকিছু নিজেকে ভুলায় তাই নিয়ে গেঁথে ছিলেন জীবন।

ব্যাথিত কিছু চাহনি মাত্র দারিদ্রতা ছিল সারা জীবনের সঙ্গী। সচ্চলতা ও থাকছে তবুও সে সবকিছু ভুলে থাকতে চেয়েছিলো, জীবিত অবস্থায় কয়টি ফুল জুটেছিলো জানা নেই। মৃত্যুর পর অনেক মালা স্তুপ হয়ে এসেছিলো, অনেক স্মৃতি ও প্রশংসা নিয়ে।

অগ্রজ কবির মতো তিনি হয়তো বা বলতে চেয়েছিলেন ফুল জমতে জমতে মালা হয়, মালা জমতে জমতে পাথর। অকালপ্রয়াত এই কবি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে।

সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উজ্জ্বল তার কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’-এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন- ‘দিন আসবেই- দিন সমতার’।

যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাঁকে দিয়েছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এর খেতাব। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মূলত কবি হলেও কাব্য চর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্পের ক্ষেত্রেও ছিলেন সমান উৎসাহী। রুদ্র চেয়েছিলেন বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক। ফলে ব্যক্তি রুদ্র ও কবি রুদ্রের সমগ্র শিল্প সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মানুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ভালো আছি ভালো থেকো সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। ১৯৮০ সালে তিনি পেয়েছিলেন মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিখ্যাত ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করেন ১৯৮১ সালে।

কিন্তু তাঁদের এই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ১৯৮৬ সালে ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদ এবং কয়েক বছর পর ১৯৯১ সালে মারা যান রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।