ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ ::
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আইএমও এর প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র আদর্শ বাস্তবায়ন তরুনদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে নড়াইল-১আসনে আবারো আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন বিএম কবিরুল হক মুক্তি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ছিলেন বহুমাত্রিকগুনের অধিকারী : অধ্যাপক ড. এম শমসের আলী ফের নৌকার টিকিট পেলেন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পি‌রোজপু‌রে ফেজবু‌কে স্টাটার্স দি‌য়ে অনার্স পড়ুয়া ছা‌ত্রের আত্মহত্যা যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল > How to know HSC result নেত্রকোণা -২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ওমর ফারুক জনপ্রিয়তার শীর্ষে চাটখিলে যুবলীগের ৫১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত দিনব্যাপী গণসংযোগ করলেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ্ কুতুবউদ্দিন তালুকদার রুয়েল

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ভাঙন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ভাঙন

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোহাগ হাসান ,সিরাজগঞ্জঃ যমুনা নদীতে তীব্র স্রোতের কারনে ঘূর্ণ্যবেতরের সৃষ্টি হয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুরের দক্ষিণে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের ফলে আবাসিক প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ায় আবারও ভূমিহীন হয়ে পড়ছে তারা।

শনিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাসে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা ও জালালপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকার অন্তত ৩৪টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে ৫/৬টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা।

ভাঙনকবলিত ভুক্তভোগী আসলাম উদ্দিন, জবেদা বেওয়াসহ অনেকে জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়া ও কমার সঙ্গে সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনে সরকারি আবাসন প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের ২৩৮টি ঘরের মধ্যে ৯০টি ঘর নদী গর্ভে চলে যায়। এতে আবাসনের সুবিধাভোগীরা তাদের ঘরের টিন ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে অন্যত্র গেছে।

আবার কেউ কেউ ঘর হেলনা দিয়ে আছে। এক সময়ের ভূমিহীন মানুষগুলো সরকারি আশ্রয় পেলেও বর্তমানে যমুনার ভাঙনে আবারও ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও পাউবো কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ভাঙন রুদ্ধমুর্তি ধারন করছে এলাকাবাসির অভিযোগ।

এ অঞ্চলে সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনরোধে সাড়ে ৬শ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের দাবি জানান এলাকাবাসী।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ জানান, ভাঙন এলাকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধের কাজ দ্রুত করা হোক। আর সরকারি আবাসনের রডসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী সুবিধাভোগীরাই নিয়ে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন জানান, গত ৪/৫ দিন ওই অঞ্চলে ভাঙন ছিল। গত দুদিনে ভাঙনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। যমুনায় পানি বাড়ার কারণে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করা যাচ্ছে না। পানি কমলেই কাজ শুরু হবে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, জালালপুর এলাকায় নদী ভাঙনে গুচ্ছ গ্রাম ও আবাসন প্রকল্পের বাড়িঘর বিলীন হওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম।

প্রসঙ্গত, ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে আবাসন প্রকল্প ও গুচ্ছ গ্রামের ২৩৮টি ঘর নির্মাণ হয়। দীর্ঘদিন ধরে যমুনার ভাঙনে ২৩৮টি ঘরের মধ্যে ১৪৮টি রয়েছে। বাকি ৯০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলোর মধ্যে কেউ কেউ জায়গা-জমি কিনতে পারলেও অনেকেই অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ভাঙন

আপডেট সময় : ০৪:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

সোহাগ হাসান ,সিরাজগঞ্জঃ যমুনা নদীতে তীব্র স্রোতের কারনে ঘূর্ণ্যবেতরের সৃষ্টি হয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুরের দক্ষিণে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের ফলে আবাসিক প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ায় আবারও ভূমিহীন হয়ে পড়ছে তারা।

শনিবার সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাসে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা ও জালালপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকার অন্তত ৩৪টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে ৫/৬টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা।

ভাঙনকবলিত ভুক্তভোগী আসলাম উদ্দিন, জবেদা বেওয়াসহ অনেকে জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়া ও কমার সঙ্গে সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনে সরকারি আবাসন প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের ২৩৮টি ঘরের মধ্যে ৯০টি ঘর নদী গর্ভে চলে যায়। এতে আবাসনের সুবিধাভোগীরা তাদের ঘরের টিন ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে অন্যত্র গেছে।

আবার কেউ কেউ ঘর হেলনা দিয়ে আছে। এক সময়ের ভূমিহীন মানুষগুলো সরকারি আশ্রয় পেলেও বর্তমানে যমুনার ভাঙনে আবারও ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও পাউবো কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ভাঙন রুদ্ধমুর্তি ধারন করছে এলাকাবাসির অভিযোগ।

এ অঞ্চলে সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনরোধে সাড়ে ৬শ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের দাবি জানান এলাকাবাসী।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ জানান, ভাঙন এলাকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধের কাজ দ্রুত করা হোক। আর সরকারি আবাসনের রডসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী সুবিধাভোগীরাই নিয়ে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন জানান, গত ৪/৫ দিন ওই অঞ্চলে ভাঙন ছিল। গত দুদিনে ভাঙনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। যমুনায় পানি বাড়ার কারণে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করা যাচ্ছে না। পানি কমলেই কাজ শুরু হবে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, জালালপুর এলাকায় নদী ভাঙনে গুচ্ছ গ্রাম ও আবাসন প্রকল্পের বাড়িঘর বিলীন হওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম।

প্রসঙ্গত, ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে আবাসন প্রকল্প ও গুচ্ছ গ্রামের ২৩৮টি ঘর নির্মাণ হয়। দীর্ঘদিন ধরে যমুনার ভাঙনে ২৩৮টি ঘরের মধ্যে ১৪৮টি রয়েছে। বাকি ৯০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলোর মধ্যে কেউ কেউ জায়গা-জমি কিনতে পারলেও অনেকেই অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।